তালাকের ওয়াসওয়াসা, ছেড়ে দিলাম বলা, কিনায়ী শব্দ ও তালাকের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাই?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2674
Questioner: Sunflower
Question Asked: 13 Jul 2026, 11:58 PM
Reviewed & Published: 14 Jul 2026, 12:05 AM
Views: 46
Tokens: 6,241
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম হুজুর।
আপনার কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।
১. আমি কিছুদিন আগে এখানে প্রশ্ন করেছিলাম যে, স্বামী স্ত্রী এর সুন্দর মহূর্তে, আমার স্বামীকে বললাম, আমার হাত ছেড়ে দিতে। তখন আমার স্বামী আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বললেন, যাও ছেড়ে দিলাম।এটা আমার হাত ছাড়ার উদ্দেশ্য বলেছেন। একটু পরেই আবার বললেন, তোমাকে ছেড়ে দিলাম। আমি সাথে সাথেই জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কেন বলেছেন? উনি উত্তর দিলেন,, আরে তুমি খালি টেনশন করো এসব নিয়ে তাই তোমার সাথে একটু মজা করলাম। এতে তালাক হবে কি না!
হুজুর, আমাকে এখানে উত্তর দিয়েছিলেন, তালাক হবে না। কিন্তু আমি আরও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরে দেখলাম। তালাকের ক্ষেত্রে ছেড়ে দিলাম বলা সরীহ শব্দ।
হুজুর, আমি বহুদিন ধরে তালাকের ওয়াসওয়াসায় ভুগছি। আমার এখন কি করা উচিত? আপনারা আমাকে যে ফাতওয়া দিয়েছিলেন সেটার উপর আমল করব? আমার নতুন করে টেনশন হচ্ছে যে, তালাক হয়ে গেল কি না।
হুজুর, বার বার একই প্রশ্ন করার জন্য আমি দুঃখিত।
২. আগে আমি আর আমার স্বামী কেনায়ী তালাকের ব্যাপারে জানতাম না। শুধু জানতাম, তালাক বললে তালাক পতিত হয়। তাই ঝগড়া রাগের সময় অনেক কেনায়ী শব্দ বলে ফেলেছি আমরা। যেগুলো আমাদের উভয়ের মনে নেই। এইগুলোর জন্য কি তালাক হবে? কিন্তু আমি আমার স্বামী কে আল্লাহর নামে শপথ করিয়েছি যে, উনি তালাকের নিয়তে এসব বলেছেন কি না।।উনি বলেছেন, রাগে বা হতাশায় বলেছেন তালাকের নিয়তে না।

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথম প্রশ্ন:
আপনি পূর্বে যে ঘটনা উল্লেখ করেছিলেন (স্বামী বলেছেন: “যাও, ছেড়ে দিলাম” এবং “তোমাকে ছেড়ে দিলাম”), সে ব্যাপারে পূর্ববর্তী ফাতওয়া অনুযায়ী তালাক হয়নি। এটি সঠিক ফাতওয়া। কারণ:

১. স্বামী এ কথাগুলো বলেছিলেন আপনার হাত ছেড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে, তালাকের নিয়তে নয়।
২. তিনি সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, তিনি মজা করেছিলেন।
৩. সরীহ শব্দ হলেও যদি প্রসঙ্গ ও অবস্থা স্পষ্ট করে দেয় যে, তালাক উদ্দেশ্য নয়, তাহলে তালাক পতিত হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৩০; ফাতওয়া উসমানী, ২/৪০৭)

আপনি ওয়াসওয়াসায় (সন্দেহ-বিভ্রান্তিতে) ভুগছেন। এ জন্য করণীয়:

  • পূর্ববর্তী ফাতওয়ার উপর আমল করুন এবং এ বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ওয়াসওয়াসা দূর করার জন্য শয়তানের কুমন্ত্রণাকে উপেক্ষা করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তালাকের ব্যাপারে ওয়াসওয়াসা আসলে তা তালাক গণ্য হবে না, যতক্ষণ না সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় বা কণ্ঠস্বর শোনা যায়।” (ইবনে মাজা, হাদীস: ২০৪৫)
  • আপনি যদি নিজেও নিশ্চিত না হন যে তালাক হয়েছে কিনা, তবে মূলনীতি হলো: ইয়াকীন (নিশ্চিত অবস্থা) সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না। যেহেতু তালাকের ব্যাপারে আপনার নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তাই তালাক পতিত হওয়ার সন্দেহ উপেক্ষা করতে হবে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন:
যে কিনায়ী (অস্পষ্ট) শব্দগুলো আপনি এবং আপনার স্বামী ঝগড়ার সময় ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর জন্য তালাক হবে না, যতক্ষণ না তালাকের নিয়ত থাকে। যেহেতু আপনার স্বামী আল্লাহর নামে শপথ করে বলেছেন যে, তিনি তালাকের নিয়তে এসব বলেননি, বরং রাগ বা হতাশায় বলেছেন, তাই কোনো তালাক পতিত হয়নি

হানাফী ফিকহে কিনায়ী শব্দ দ্বারা তালাক দিতে হলে স্পষ্ট তালাকের নিয়ত আবশ্যক। নিয়ত না থাকলে তালাক হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৬৭; ফাতওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭৫)

উপসংহার:

  • আপনার প্রথম ঘটনায় তালাক হয়নি। পূর্বের ফাতওয়া সঠিক।
  • দ্বিতীয় ঘটনার কথাগুলোও তালাকের আওতায় আসে না।
  • ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে দৃঢ়চিত্ত হোন এবং পুনরায় প্রশ্ন না করে সালাত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল থাকুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার মনোস্থিরি দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.