ভার্সিটি ফেয়ারওয়েল প্রোগ্রামে মিউজিক না থাকলেও ছেলে-মেয়ে মেলামেশা, ছবি তোলা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড থাকলে তাতে শুধু টাকা দিলেও কি গুনাহ হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2662
Questioner: Binte Masud
Question Asked: 13 Jul 2026, 08:06 PM
Reviewed & Published: 13 Jul 2026, 08:21 PM
Views: 73
Tokens: 4,136
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। ভার্সিটিতে সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর দেখা যায় ব্যাচের ছেলে মেয়ে সকলে মিলে প্রোগ্রাম করে। স্যার ম্যামদোরকে গিফট দেয়, ক্লাসরুম সাজায়, কেক কাটে। কিন্তু মিউজিকের কোনো ব্যবস্থা থাকে না। অনেকে ছবিও তোলে, আবার সোশাল মিডিয়ায় আপলোডও দেয়। এতে সকলের থেকে একটা ফিক্সড এমাউন্টের টাকা ডিমান্ড করা হয়। কেউ যদি ছবি তোলাতে না থেকে শুধু টাকা দেয় প্রোগ্রামে এটা কি জায়েজ হবে? বা কেন এটা জায়েজ হবে না?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে বর্ণিত অনুষ্ঠানটিতে বেশ কিছু শর‘ঈ নিষিদ্ধ বিষয় জড়িত রয়েছে, যেমন:

  1. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা (ইখতিলাত) – ছেলে-মেয়ে সকলে মিলে একসঙ্গে প্রোগ্রাম করা, যা ফিতনার কারণ এবং ইসলামে নিষিদ্ধ।
    (সূরা নূরঃ ৩১, সূরা আহযাবঃ ৫৩, সহীহ বুখারী, হাদীসঃ ৫২৩৪)

  2. ছবি তোলা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড দেওয়া – অপ্রয়োজনে ছবি তোলা (বিশেষ করে নারীদের ছবি) এবং তা প্রকাশ করা হারাম।
    (সহীহ মুসলিম, হাদীসঃ ২১১০; বিনিয়ে হিসেবে ফটোগ্রাফিও অধিকাংশ হানাফী আলেমের মতে নাজায়েয)

  3. অবৈধ ব্যয় ও জোরপূর্বক চাঁদা – ফিক্সড এমাউন্টের টাকা ডিমান্ড করা জুলুমের শামিল, তবে তা পৃথকভাবে নাজায়েয নয় যদি সকলেই স্বেচ্ছায় দেয়। কিন্তু যখন সেই টাকা হারাম কাজে ব্যয় হয়, তখন দেওয়াও হারাম হবে।

এখন আপনার মূল প্রশ্ন:

"কেউ যদি ছবি তোলাতে না থেকে শুধু টাকা দেয় প্রোগ্রামে, এটা কি জায়েজ হবে?"

উত্তর: এটি জায়েজ হবে না। কারণ,

  • আপনি যে টাকা দিচ্ছেন, তা দিয়ে হারাম কাজে সহায়তা করা হচ্ছে। উপরে বর্ণিত মেলামেশা ও ছবি তোলার মতো গুনাহের কাজে আপনার টাকা ব্যবহার হবে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

    وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
    "সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।"
    (সূরা আল-মায়েদাঃ ২)

  • আপনি নিজে ফটোগ্রাফি না করলেও, আপনার অর্থ দিয়ে যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তার মাধ্যমে অন্যরা ফটোগ্রাফি ও মেলামেশার গুনাহ করছে। এতে আপনিও গুনাহের অংশীদার হবেন।
    (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/২৯৪)

  • এমনকি যদি আপনি শুধু ভালো নিয়তে টাকা দেন (যেমন শিক্ষককে সম্মান জানানো), তবুও হারাম উপায়ে ভালো কাজ করা জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

    مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ
    "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"
    (সহীহ বুখারী, হাদীসঃ ২৬৯৭)

উপসংহার:
প্রশ্নে বর্ণিত অনুষ্ঠানটি যেহেতু একাধিক হারাম কাজের সংমিশ্রণ, তাই এর জন্য অর্থ সংগ্রহ করা বা তাতে অংশ নেওয়া জায়েয নয়। আপনার করণীয় হলো:

  • নিজে এতে কোনো অর্থ না দেওয়া এবং অংশ না নেওয়া।
  • সম্ভব হলে বন্ধু-বান্ধবদের বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করা যেন তারা এমন অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকে।
  • যদি কেউ আপনাকে জোর করে টাকা দেয়ার জন্য চাপ দেয়, তবে আপনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিন যে এটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়, আপনি তাতে অংশ নিতে পারেন না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পাপমুক্ত সৎপথে চলার তাওফীক দান করুন।


রেফারেন্স সমূহ:

  • আল-কুরআন (সূরা মায়েদাঃ ২)
  • সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৭, ৫২৩৪
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন), ৬/৩৮৪ (باب الحظر والإباحة)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতী আশরাফ আলী থানভী), ৫/২৯৪
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ৫/৩৫৪-৩৫৫
  • বাহিশতী জেওর (মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ.), অংশ ৬, অধ্যায় "ছবি ও মূর্তি"

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.