বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা কি হারাম

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 2600
Questioner: ABdul Kadar RaFi
Question Asked: 12 Jul 2026, 05:28 PM
Reviewed & Published: 12 Jul 2026, 05:36 PM
Views: 58
Tokens: 4,253
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা ও সাপোর্ট করা কি হারাম?

Answer

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা ও সাপোর্ট করা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা ও সাপোর্ট করা কি হারাম?
(হানাফী মাযহাব অনুযায়ী)

উত্তর

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা এতে যেহেতু সতর দেখার শামিল,বিধায় তাহা দেখা **জায়েজ নয়। হারাম কাজে সাপোর্ট করাও যেহেতু নাজায়েজ,তাহ এক্ষেত্রে কোনো দলকে সাপোর্ট করাও নাজায়েজ।

. ফুটবল দেখা: সাধারণ বিধান

হানাফী ফিকহে খেলা-ধুলা দেখা বৈধ, যদি তা সীমার মধ্যে থাকে,সতর ঢাকা থাকে,শরীয়াহ বিরোধী কিছু না থাকে এবং ফরয কাজে বিঘ্ন না ঘটায়। যেমন বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী) তে বলা হয়েছে:

"খেলাধুলা দেখা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা জায়েয, তবে যদি তা ওয়াজিব বা সুন্নাত কাজে বাধা সৃষ্টি করে বা গুনাহের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে নাজায়েয হয়ে যায়।"
(বেহেশতী জেওর, অধ্যায়: আখলাক ও মোআমেলাত)

তবে বিশ্বকাপ ফুটবলে সাধারণত নিম্নোক্ত হারাম বিষয়গুলো বিদ্যমান:

  • গান-বাজনা: ম্যাচ শুরুর আগে ও পরে, গোলের সময় এবং বিরতিতে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বাজানো হয়।
    (গান-বাজনা হারাম - সূরা লুকমান ৩১:৬ হাদীস বুখারী)
  • পর্দা লঙ্ঘন: ফুটবলার ও দর্শকদের মধ্যে নি¤œ পোশাক, মেয়েদের দৃষ্টি কাড়া এবং প্রায়শই মেয়ে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও অশালীন আচরণ দেখা যায়।
  • সময় ও সম্পদের অপচয়: অনেকে নামায ছেড়ে, কাজ ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ম্যাচ দেখে, যা ফরয-ওয়াজিব ও পার্থিব দায়িত্বে অবহেলা সৃষ্টি করে।
  • জুয়া ও বাজি: বিশ্বকাপের সময় লাখো মানুষ তাড়না (পণ রাখা) বা জুয়ায় লিপ্ত হয়।
    (জুয়া হারাম - সূরা মায়িদা ৫:৯০)
  • গীবত ও অশ্লীল ভাষা: ম্যাচের উত্তেজনায় অনেকেই অন্য খেলোয়াড় বা দলের বিরুদ্ধে গালি-গালাজ, গীবত ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে।
  • ফিতনা ও ফাসাদ: কিছু দর্শক জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে ঝগড়া-ঝাটি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞ হানাফী আলেমদের অভিমত

  • মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলেন: "ফুটবল খেলা দেখা বৈধ, কিন্তু বর্তমান যুগে এর সাথে এত বেশি হারাম ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় জড়িয়ে গেছে যে তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।" (মারেফুল কুরআন, তাফসীর সূরা মায়িদা)

  • মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: "বিশ্বকাপ ফুটবলের বেশিরভাগ ম্যাচে গান-বাজনা, নামাযের সময়কাল ও পর্দাহীনতা বিদ্যমান, তাই মুসলিমদের জন্য তা দেখা ঠিক নয়। তবে কেউ যদি সম্পূর্ণরূপে এসব থেকে বেঁচে থেকে শুধু খেলা দেখে (যা প্রায় অসম্ভব) তবে তাহা জায়েয হতে পারে।" (ফাতাওয়া উসমানী, খ- ২, ফুটবল সংক্রান্ত ফাতাওয়া)

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (খ- ৪) তে এসেছে: "খেলাধুলায় সময় অপচয় করা এবং ফরয ত্যাগ করা নিষিদ্ধ। তাই বিশ্বকাপ ফুটবল যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে চলে এবং নামাযের সময়কে উপেক্ষা করা হয়, সেহেতু উহা দেখা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.