message check na korte hoi moto delete dewa jai?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 260
Questioner: Koly Akhi
Question Asked: 17 May 2026, 11:37 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 11:40 PM
Views: 25
Tokens: 2,036
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এই সাইটে বলা হয়েছিল তালাকের ব্যাপারে মনে না থাকলে আগের মেসেজ খুজে খুজে না দেখতে।মানে স্পষ্ট এমন কিছু বলেছে কিনা মনে না থাকলে, আর ধরেন কোন স্বামীর ও এসব মনে না থাকলে আরো জিজ্ঞেস করলে উল্টা পাল্টা কথা বলার ও সম্ভাবনা হলে।তাহলে স্বামীর ফেন থেকেও আগের মেসেজ,ছবি মেসেজের এসব ডিলেট করে দিলে কি কোন সমস্যা হয়?যাতে টেনশন দূর হয়?

Answer

بسم اللہ الرحمن الرحیم

উত্তর:
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। ইসলামী শরিয়তে তালাক একটি গুরুতর বিষয়। যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেয়, তা স্পষ্ট শব্দে বা ইঙ্গিতে হোক, তার সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। তবে যদি স্বামীর স্মরণ না থাকে যে তিনি তালাক দিয়েছেন কি না, এবং আগের মেসেজ বা ছবি খুঁজে দেখার পরও নিশ্চিত হওয়া যায় না, তাহলে মূলনীতি হলো: যা নিশ্চিত নয়, তা ধরে নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, যদি স্পষ্ট কোনো প্রমাণ না থাকে যে তালাক হয়েছে, তাহলে তালাক গণ্য হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩০০)

এখন আপনার প্রশ্ন: স্বামীর ফোন থেকে আগের মেসেজ, তালাক সম্পর্কিত কোনো বার্তা বা ছবি ডিলিট করলে কি সমস্যা হবে?

উত্তর:
শরীয়তের দৃষ্টিতে, কোনো প্রমাণ বা তথ্য ধ্বংস করা সাধারণত জায়েয নয় যদি তা অন্যায়ভাবে করা হয়। তবে এখানে বিষয়টি ভিন্ন।

১. যদি স্বামীর নিজের স্মরণ না থাকে এবং তিনি নিশ্চিত নন যে তালাক দিয়েছেন, তাহলে শরীয়তের বিধান হলো: তালাক হয়নি বলে গণ্য হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২২; আল-হিদায়া, ২/৩৮৫)

২. এই অবস্থায় আগের মেসেজ বা ছবি ডিলিট করলে তালাকের কোনো প্রমাণ নষ্ট হচ্ছে না, কারণ তালাকের অস্তিত্বই নেই। বরং এটি একটি অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ দূর করার উপায় হতে পারে। তবে সতর্কতা হিসেবে বলা যায়: যেহেতু তালাকের ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তাই ডিলিট করাতে কোনো গুনাহ নেই। বরং এতে করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি ও সন্দেহ দূর হবে, যা উত্তম।

৩. কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: যদি স্বামীর মনে কোনো সন্দেহ থাকে যে তিনি আসলে তালাক দিয়ে থাকতে পারেন, তাহলে মেসেজ ডিলিট করাটা উচিত হবে না। বরং তখন উচিত হবে বিষয়টি একজন আলেম বা মুফতির কাছে পরিষ্কার করা, যাতে সঠিক ফয়সালা হয়। অন্যথায়, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ডিলিট করলে পরবর্তীতে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে তালাক হয়েছিল, তাহলে তা বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

উপসংহার:

  • যদি স্বামী সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত যে তিনি তালাক দেননি এবং তার স্মরণও নেই, তাহলে আগের মেসেজ ডিলিট করাতে কোনো শরয়ী বাধা নেই। বরং এটি মানসিক চাপ দূর করতে সহায়ক হবে।
  • যদি কোনো অস্পষ্টতা বা সন্দেহ থাকে, তাহলে ডিলিট না করাই উত্তম। বরং একজন বিশ্বস্ত আলেমের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।

ইসলামী নির্দেশনা:
স্মরণ রাখতে হবে, তালাকের ব্যাপারে অতি সতর্কতা অবলম্বন করা ওয়াজিব। তাই যেখানে নিশ্চিত না, সেখানে তালাক গণ্য না করাই মূলনীতি। আর মেসেজ ডিলিট করার মাধ্যমে সেই নিশ্চয়তাকে আরও মজবুত করা যায়। তবে যদি ডিলিট করার ফলে মনে উদ্বেগ থেকে যায়, তাহলে ডিলিট না করাই ভালো।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২২৯)
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৩০০)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৪২২)
  • আল-হিদায়া (২/৩৮৫)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৫০)
  • বেহেশতি জেওর (১০/২৫)

و الله تعالى أعلم


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.