মেয়ে শিশুর নাম মেহরিমা ইনায়া বা ইনায়া মেহরিমা রাখা যাবে কি?
Family Life · Hanafi
Question
মুহতারাম মুফতি সাহেব,
মেয়ে শিশুর নাম মেহরিমা ইনায়া অথবা ইনায়া মেহরিমা রাখা যাবে কী?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত দুটি নামের মধ্যে ‘ইনায়া’ (عناية) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘যত্ন’, ‘সুরক্ষা’, ‘কৃপা’ বা ‘মেহেরবানী’। এটি একটি সুন্দর ও অর্থবহ নাম এবং এটি রাখা জায়েয।
অপর নাম ‘মেহরিমা’ (Mehrima) মূলত ফারসি/উর্দু ভাষা থেকে এসেছে। সাধারণত এই নামের অর্থ ‘দয়ালু’, ‘করুণাময়ী’, ‘স্নেহশীলা’ বলে প্রচলিত। তবে আরবি ‘মাহরাম’ (محرم) শব্দের অর্থ ‘হারাম/নিষিদ্ধ’ বা ‘যার সাথে বিয়ে হারাম’—এই অর্থটি ভালো নয়। তাই নামটির প্রকৃত অর্থ ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
ফতোয়া ও নির্দেশনা
১) ইসলামে সন্তানের নাম সুন্দর ও অর্থবহ রাখা সুন্নত এবং উৎসাহিত করা হয়েছে। নামের অর্থ যাতে ভালো ও ইসলামী মূল্যবোধসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২১৩২; বাহিশতি জেওর, নাম রাখার অধ্যায়)
২) হানাফি ফিকহের কিতাবে এসেছে—নাম রাখার সময় অর্থ ও উচ্চারণের প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরি। কোনো নামের অর্থ যদি মন্দ বা শিরকী হয়, তবে তা রাখা নাজায়েয। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৬)
৩) ‘ইনায়া মেহরিমা’ বা ‘মেহরিমা ইনায়া’—এই দুটি নামই রাখা যেতে পারে, যদি ‘মেহরিমা’ শব্দের অর্থ ‘দয়ালু/স্নেহময়ী’ হয় এবং তা কোনো অশোভন অর্থের দিকে না যায়। তবে সতর্কতার জন্য ‘ইনায়া মেহরিমা’ ক্রমটিই উত্তম, কারণ ‘ইনায়া’ নামটি অকাট্যভাবে ভালো অর্থ বহন করে।
৪) আরো নিরাপদ দৃষ্টিভঙ্গি হলো—পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ইসলামী নাম যেমন ‘আয়েশা’, ‘ফাতিমা’, ‘মরিয়ম’, ‘খাদিজা’, ‘জয়নব’ ইত্যাদি রাখা। কারণ এগুলো সাহাবী ও নেককার নারীদের নাম, যা বরকতময়।
উপসংহার
আপনার পছন্দের নাম দুটি অর্থ ভালো হলে রাখা জায়েয।
‘ইনায়া মেহরিমা’ বা ‘মেহরিমা ইনায়া’—এই দুটি নামই রাখা যেতে পারে, যদি ‘মেহরিমা’ শব্দের অর্থ ‘দয়ালু/স্নেহময়ী’ হয় এবং তা কোনো অশোভন অর্থের দিকে না যায়। তবে সতর্কতার জন্য ‘ইনায়া মেহরিমা’ ক্রমটিই উত্তম, কারণ ‘ইনায়া’ নামটি অকাট্যভাবে ভালো অর্থ বহন করে।