হুরমতে মুসাহারাত কাকে বলে? হুরমতে মুসাহারাতের আওতায় কারা পড়ে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2553
Questioner: Syed Ali
Question Asked: 11 Jul 2026, 05:47 PM
Reviewed & Published: 11 Jul 2026, 05:54 PM
Views: 70
Tokens: 4,420
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ।
হুরমতে মুসাহারাত কি? এই সম্পর্কে আওতায় কারা কারা পড়েন এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।
জাযাকাল্লাহ

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

হুরমতে মুসাহারাত (حرمة المصاهرة) অর্থ বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম হওয়া। ইসলামী ফিকহের পরিভাষায়, বিবাহের মাধ্যমে যে সকল নারী-পুরুষ পরস্পরের জন্য চিরকালের জন্য বিবাহযোগ্য নয় (মাহরাম) হয়ে যান, তাদের মধ্যে যে হারামিয়াত (অনুমতি না থাকা) সৃষ্টি হয়, তাকে হুরমতে মুসাহারাত বলে। এটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

হুরমতে মুসাহারাতের আওতায় যারা পড়েন (পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে):

১. স্ত্রীর মা (শাশুড়ি) ও তার উর্ধ্বতন নারী (নানী, প্রনানী ইত্যাদি)

  • স্ত্রীর মা (শাশুড়ি) বিবাহের পরই স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যান। এ জন্য স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের শর্ত নেই।
  • কুরআন: وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ (সূরা নিসা ৪:২৩) – “আর তোমাদের স্ত্রীদের মাতৃগণ…”

২. স্ত্রীর কন্যা (সতিন কন্যা) ও তার অধস্তন নারী (নাতনী, প্রনাতনী ইত্যাদি)

  • স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর গর্ভজাত কন্যা (সৎমেয়ে) ও তার নাতনীরা স্থায়ীভাবে হারাম হন যদি স্ত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়
  • যদি বিবাহের পর দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের আগেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হয় বা স্ত্রী মারা যায়, তাহলে তার মেয়েকে বিবাহ করা জায়েজ আছে।
  • কুরআন: وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا دَخَلْتُمْ بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ (সূরা নিসা ৪:২৩) – “আর তোমাদের স্ত্রীদের কন্যা, যারা তোমাদের লালন-পালনে থাকে – যদি তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সঙ্গম করেছ। কিন্তু যদি সঙ্গম না করেছ, তবে তোমাদের উপর কোন দোষ নেই (তাদের কন্যাকে বিবাহ করলে)।”

৩. পিতার স্ত্রী (সৎ মা)

  • পিতার বিবাহিত স্ত্রী (সৎ মা) পিতার সাথে বিবাহের পরই স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যান। পিতার মৃত্যু বা তালাকের পরেও তাকে বিবাহ করা জায়েজ নয়।
  • কুরআন: وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ (সূরা নিসা ৪:২২) – “তোমরা সেই সব নারীকে বিবাহ করো না, যাদেরকে তোমাদের পিতৃগণ বিবাহ করেছেন।”

৪. পুত্রের স্ত্রী (বধূ)

  • নিজ পুত্রের বিবাহিত স্ত্রী (পুত্রবধূ) পুত্রের বিবাহের পরই স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে যান। পুত্রের মৃত্যু বা তালাকের পরেও তাকে বিবাহ করা জায়েজ নয়।
  • কুরআন: وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ (সূরা নিসা ৪:২৩) – “আর তোমাদের নিজ পুত্রদের স্ত্রীগণ।”

৫. স্ত্রীর বোন (শালী) – এটি হুরমতে মুসাহারাত নয় বরং হুরমতে জাম‘ (একত্রে বিবাহের নিষেধ)

  • স্ত্রীর বোনকে স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ করা হারাম; তবে স্ত্রীর মৃত্যু বা তালাকের পর জায়েজ। সুতরাং এটি স্থায়ী নয়, তাই মুসাহারাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

৬. ফুফু, খালা ইত্যাদি – এরা মুসাহারাতের আওতায় আসে না, বরং রক্ত সম্পর্কের (নাসাব) কারণে মাহরাম।

৭. দুধ সম্পর্ক (রিযা‘আত) – এটি হুরমতে রিযা‘আত নামে ভিন্ন শাখা। তবে দুধ সম্পর্কে মুসাহারাতের ন্যায় একই বিধান প্রযোজ্য:

  • দুধ মা, দুধ বোন, দুধ কন্যা ইত্যাদি স্থায়ীভাবে হারাম।

মহিলাদের দৃষ্টিকোণ থেকে (পুরুষ মাহরাম):

  • স্বামীর পিতা (শ্বশুর), স্বামীর পিতামহ (দাদা-নানা) – বিবাহের পরই মাহরাম।
  • স্বামীর পুত্র (সৎপুত্র) – স্বামীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হলে মাহরাম; অন্যথায় নয়।
  • স্বামীর দাদা, নানা, নাতি ইত্যাদি – একই নিয়ম।

হানাফি ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের উল্লেখ:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ৩/২৫-২৭
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরী): ১/২৭২-২৭৫
  • হিদায়া: ২/২৮০-২৮২
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): ২/৩০০-৩০৫
  • মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফী): সূরা নিসার ২২-২৩ নং আয়াতের তাফসীর
  • কিতাবুল আসল (ইমাম মুহাম্মাদ): নিকাহ অধ্যায়

مبحث فيما تثبت به حرمة المصاهرة -المصاهرة: وصف شبيه بالقرابة، ويتحقق في أربع: إحداها زوجة الابن، وهي تشبه البنت. ثانيهما: بنت الزوجة، وهي تشبه البنت أيضا، ثالثها: زوجة الأب، وهي تشبه الأم، رابعها: أم الزوجة، وهي تشبه الأم أيضا. হুরমতে মুসাহারাহ চারজন ব্যক্তির ব্যাপারে সাব্যস্ত হবে। (১) পুত্রবধু- যা মেয়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে নেয় (২) স্ত্রীর মেয়ে- ইহাও মেয়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে নেয় (৩) পিতার স্ত্রী যা মায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে নেয় (৪) স্ত্রীর মা- যা মায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে নেয়। (আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা'আহ-৪/৬১)

দুই জন মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক পাওয়া যায় বা সমাজে চলমান রয়েছে,সেটা সাধারণত নসব তথা বংশগত কারণে হয়ে থাকে বা রেযা'আত তথা দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিষ্টিত হয়ে থাকে কিংবা মুসাহারাহ তথা বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রতিষ্টিত থাকে।

শরীয়তে মাহরাম নন মাহরাম তথা বিয়ে-শাদীর বৈধ-অবৈধ পার্সন সাধারণত এর ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে।হয়তো নসবের কারণে কাউকে বিয়ে করা হারাম নতুবা বৈবাহিক সম্পর্কের ইস্যুতে হারাম কিংবা দুধ সম্পর্কের কারণে হারাম । কুরআনে কারীমে যে চৌদ্দ জনের নমুনা পেশ করা হয়েছে,এসব মূলত এই তিনটি সম্পর্কের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে।

সারসংক্ষেপ:
হুরমতে মুসাহারাত মূলত চার প্রকার নারীকে স্থায়ীভাবে হারাম করে:
১. স্ত্রীর মা ও উর্ধ্বতন নারী
২. স্ত্রীর কন্যা ও অধস্তন নারী (যৌনসম্পর্কের শর্তে)
৩. পিতার স্ত্রী (সৎ মা)
৪. পুত্রের স্ত্রী (পুত্রবধূ)

এছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে শ্বশুর, সৎপুত্র ইত্যাদি মহিলাদের জন্য মাহরাম হন।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.