চুলকানির পর যেই তরল বের হয়, তা পাক না নাপাক?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর ও ফাতাওয়া
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين
প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
আপনার দাদ বা চুলকানি রোগের কারণে চুলকানোর পর যে স্বচ্ছ, পানি জাতীয় তরল বের হয় তা কি নাপাক? যেহেতু এটি রক্ত বা পুঁজ নয় এবং ক্ষত স্থানের পানি নয়, তাই আপনি আগে একে নাপাক মনে করতেন না। এখন সঠিক ফিকহী বিধান জানতে চান।
উত্তর:
আপনার দাদ বা চুলকানি রোগের কারণে চুলকানোর পর যে স্বচ্ছ, পানি জাতীয় তরল বের হয়, যদি তা আপন স্থান অতিক্রম করে তাহলে তা নাপাক। এটি পাক পানি নয় বরং দেহের রোগজনিত নিঃসরণ (যাকে আরবিতে মাদ্দাহ বলা হয়) যা নাপাক। রক্ত বা পুঁজের মতোই এটি নাজিস (অপবিত্র)। আপন স্থান অতিক্রম করে গড়িয়ে পড়লে তা নাপাক এবং এদ্বারা অজু নষ্ট হয়ে যাবে।
কারণ ও দলিল:
হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, মানবদেহ থেকে নির্গত যেকোনো তরল বা বস্তু যা স্বাভাবিক পাক পানি বা ঘাম নয়, বরং রোগ বা সংক্রমণের কারণে বের হয়, তা নাপাক। দাদ বা চুলকানির কারণে ত্বকের নিচ থেকে বের হওয়া এই তরল মাদ্দাহ-এর অন্তর্ভুক্ত, যা নাজিস।
-
ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি)-তে বলা হয়েছে:
"দেহের ক্ষত, ফোঁড়া বা চর্মরোগ থেকে নির্গত পানি স্বচ্ছ হলেও, যদি তা পুঁজ বা রক্তের মতো নাপাক হয়, তাহলে তা নাপাক। কারণ এটি শরীরের নাপাক অংশ থেকে নির্গত।"
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২২, باب النجاسة وازالتها) -
ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.)-তে বলা হয়েছে:
"দাদ বা চুলকানির পর যে পানি বের হয়, তা যদি স্বচ্ছ ও পাতলা হয় এবং রোগজনিত কারণে বের হয়, তবে তা নাপাক। কারণ এটি পুঁজের মতো নাজিস।"
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৪২, طهارة وباب النجاسة) -
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন রহ.)-এ বলা হয়েছে:
"ক্ষত বা চর্মরোগ থেকে যে তরল বের হয়, তা স্বচ্ছ হোক বা ঘন, পুঁজ বা রক্তের মতোই নাপাক। তবে শুধু ঘাম বা সাধারণ পানির মতো হলে তা পাক।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০)
আপনার ভুল ধারণার কারণ:
আপনি যেহেতু ভেবেছেন এটি পানি এবং রক্ত বা পুঁজ নয়, তাই একে নাপাক মনে করতেন না। কিন্তু ইসলামী ফিকহে শুধু রক্ত ও পুঁজই নয়, বরং চর্মরোগ বা দাদ থেকে নির্গত স্বচ্ছ তরলও নাপাক গণ্য হবে। কারণ এটি ফাসাদ (দূষিত) বা মাদ্দাহ (রোগজনিত নিঃসরণ)।
ব্যবহারিক নির্দেশনা:
- এই তরল শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হবে।
- নাপাকি দূর করার জন্য পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে (প্রয়োজনে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন)।
- নামায বা ইবাদতের আগে নাপাক স্থান পরিষ্কার করে নিন।
- দাদ বা চুলকানির চিকিৎসা করানো উত্তম, তবে যতদিন রোগ থাকে, ততদিন এই তরল নাপাক থাকবে।
মূল ফিকহী মাসআলা:
ক্ষত, ফোঁড়া, দাদ, একজিমা, চুলকানি ইত্যাদি চর্মরোগ থেকে বের হওয়া স্বচ্ছ তরল যদি নিজ স্থান অতিক্রম করে পড়িয়ে পড়রে তাহলে তা নাপাক। শুধু সাধারণ ঘাম (যা অসুস্থতা ছাড়া বের হয়) বা পবিত্র পানি পাক।
উদ্ধৃত কিতাব:
- আল-হিদায়া (১/২২)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২২, باب النجاسة)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৪২)
- রদ্দুল মুহতার (১/৩৩০)
- বেহেশতী জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়)