খ্রিস্টান মিসনারীদের মাল্টিপল বিজনেস এর ডাটাবেস এ সাপোর্টের কাজ জায়েজ কি?
Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi
Question
উল্লেখ্য তাদের অধিনে বিভিন্ন সমিতি, স্কুল, বই পাবলিকেশন ইত্যাদি কাজ হয়ে থাকে।সমিতিতে সুদভিত্তিক লেনদেন থাকে। আমার কাজ ডিরেক্ট সমিতির না, মূল নেটওয়ার্ক এর।
Answer
উত্তর
আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: আপনি একটি খ্রিস্টান মিশনারি নেটওয়ার্কের মূল অ্যাকাউন্টিং এবং ডাটাবেজ সাপোর্টের কাজ করবেন, যেখানে সদস্য সংখ্যা, আর্থিক লেনদেন (সুদসহ) ইত্যাদি সংরক্ষিত থাকে। এই নেটওয়ার্কের অধীনে বিভিন্ন সমিতি, স্কুল, বই প্রকাশনা ইত্যাদি কার্যক্রম চলে এবং সমিতিতে সুদভিত্তিক লেনদেন আছে। আপনার কাজ সরাসরি সমিতির না, মূল নেটওয়ার্কের জন্য।
উত্তর: এই কাজ জায়েজ নয়। নিচে দলিল ও সালাফি স্কলারদের মতামত উল্লেখ করা হলো।
১. কুফরি ও শিরকি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা হারাম
খ্রিস্টান মিশনারি প্রতিষ্ঠান মূলত শিরক ও কুফরের প্রচার করে। তাদেরকে কোনো প্রকার সহায়তা করা, বিশেষ করে তাদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে সাহায্য করা, ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় পরস্পর সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সাহায্য করো না।" (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:২)
একটি মিশনারি নেটওয়ার্ক, যা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়, তাকে সহায়তা করা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
"কাফিরদের তাদের ধর্মীয় উৎসব, গির্জা নির্মাণ, বা তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সাহায্য করা হারাম। কারণ এতে তারা দ্বীনের প্রচার ও শক্তিশালী হয়।" (মাজমুউল ফাতাওয়া ২৫/৩৪০)
এমনকি যদি আপনার কাজ শুধু ডাটাবেজ সাপোর্ট হয়, তবুও তা তাদের পুরো অপারেশনকে কার্যকর করে তোলে। শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি কোনো পাপের কাজে সরাসরি না জড়িয়ে শুধু প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়, সেও পাপের অংশীদার হবে, যদি সে জানে যে তার সহায়তা ওই পাপ সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য।" (শারহুল মুমতি’ ৪/৫২)
২. সুদভিত্তিক লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ করা হারাম
আপনি জানিয়েছেন যে ওই নেটওয়ার্কের অধীনে সমিতিতে সুদভিত্তিক লেনদেন আছে। মূল নেটওয়ার্কের ডাটাবেজে এই লেনদেনের হিসাবও থাকবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদের সাথে জড়িত সব পক্ষকে অভিশাপ দিয়েছেন:
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক, এবং তার দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: তারা সবাই সমান।" (সহীহ মুসলিম ১৫৯৮)
এখানে লেখক (كاتب) বলতে যিনি সুদের চুক্তি বা হিসাব লিপিবদ্ধ করেন তাকে বোঝানো হয়েছে। ডাটাবেজে সুদের লেনদেন সংরক্ষণ করাও এই অভিশাপের অন্তর্ভুক্ত।
শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:
"ব্যাংক বা সুদি প্রতিষ্ঠানের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ডাটা এন্ট্রি বা অ্যাকাউন্টিং করা হারাম। কারণ এটি সুদ লেখার আধুনিক রূপ এবং এতে রাসূলের অভিশাপ ভুক্ত হয়।" (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/৪২৮)
শাইখ আল-আলবানী (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি সুদের লেনদেন কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে, সে 'কাতিব' (লেখক)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তার ওপরও অভিশাপ প্রযোজ্য।" (সিলসিলা হুদা ওয়ান নূর, ক্যাসেট নং ৬৫২)
৩. মিশনারি কার্যক্রমের অধীনে থাকা অন্যান্য কাজ (স্কুল, বই প্রকাশনা) হারাম
এগুলো সবই মূল মিশনারি লক্ষ্যকে সেবা করে। আপনার কাজের মাধ্যমে তাদের আর্থিক ব্যবস্থা ও সদস্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর হয়, যা তাদের প্রচারণা শক্তিশালী করে। এটি ইসলামের বিরুদ্ধে সাহায্য করার নামান্তর।
শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:
"কাফিরদের ধর্মীয় বা মিশনারি কাজে সাহায্য করা—সেটা অর্থ, শ্রম বা প্রযুক্তি দিয়ে হোক—সবই হারাম। কারণ এটি দ্বীনের ব্যাপারে তাদের শক্তিশালী করে।" (আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান ২/২৪৭)
উপসংহার ও ফতোয়া
- আপনার কাজ জায়েজ নয়। এটি শিরকি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং সুদের লেনদেন সংরক্ষণের (মডার্ন কাতিব) কারণে হারাম।
- এমনকি সরাসরি সুদের কাজ না করলেও, সুদযুক্ত ডাটাবেজ সাপোর্ট দেওয়া সুদের সহায়ক কাজ, যা কুরআন ও হাদিসে নিষিদ্ধ।
- তওবা করুন এবং এ চাকরি বা কাজ ছেড়ে দিন। আল্লাহ হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করবেন, যেমন তিনি বলেন: وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ (সূরা আত-তালাক ৬৫:২-৩)।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।