নামাযের পর কাপড়ে মাদী পাওয়া গেলে করণীয় কি?
Taharah Purity · Ahle Hadith / Salafi
Question
এখন কি আমি নামাজ আবার আদায় করবো?
Answer
উত্তর:
আপনার নামায পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। কেননা আপনি নিশ্চিত নন যে মাদী (مذي) কখন বের হয়েছে—নামাযের আগে নাকি পরে। মূলনীতি হলো: নিশ্চিত পবিত্রতা সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না। যেহেতু আপনি নামায আদায়ের সময় পবিত্র ছিলেন বলে নিশ্চিত ছিলেন (ওযু ছিল, কাপড় পরিষ্কার ছিল), আর পরে কাপড়ে মাদী পাওয়া গেলেও তা কখন হয়েছে তা জানা নেই, তাই সেই নামাযগুলো শুদ্ধ গণ্য হবে।
🔍 প্রমাণ ও উলামায়ে কিরামের বক্তব্য:
-
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
“যদি কোনো ব্যক্তি নামাযের পর তার কাপড়ে কিছু নাপাকি দেখে, কিন্তু জানেই না তা কখন লেগেছে, তাহলে তার আগের নামাযগুলো পুনরায় পড়তে হবে না। কারণ মূলনীতি হলো পবিত্রতা, আর সন্দেহের কারণে সে নিশ্চিততা ছাড়তে পারে না।”
(মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ২১/২৩১) -
শায়খ ইবনু বায (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “কেউ নামায পড়ার পর কাপড়ে মাদী দেখল, কিন্তু জানেই না কখন হয়েছে—তার কী করণীয়?” উত্তরে তিনি বলেন:
“সে নামায পুনরায় পড়বে না। কারণ মূলনীতি হলো তার পবিত্রতা। তবে পরবর্তী নামাযের জন্য সে উক্ত স্থান ধুয়ে ফেলবে এবং নতুন করে ওযু করবে (মাদী ওযু নষ্ট করে)।”
(ফাতাওয়া ইবনু বায, ১০/১৬৯) -
শায়খ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি নামাযের পর কাপড়ে কিছু নাপাকি দেখে, কিন্তু জানে না কখন হয়েছে, তাহলে তার নামায পুনরায় পড়া জরুরি নয়। কারণ মূলনীতি হলো নামাযের সময় পবিত্রতা বিদ্যমান ছিল। তবে সে ধৌত করে নেবে এবং পরবর্তী নামাযের জন্য ওযু করবে।”
(আশ-শারহুল মুমতি‘, ১/৪১৯)
🔹 আপনার করণীয়:
- মাদী লাগা স্থান কাপড় থেকে ধুয়ে ফেলুন (অথবা নাপাক অংশ কেটে ফেলুন, তবে পুরো কাপড় ধুয়ে নেওয়াই উত্তম)।
- ওযু করুন (মাদী বের হলে ওযু ভেঙে যায়)।
- এশার ফরয ও সুন্নাত পুনরায় পড়বেন না; সেগুলো সহিহ হয়েছে বলে ধরে নিন।
🔹 সতর্কতা:
যদি মাদী বের হওয়া আপনার নিত্য সমস্যা হয় (যেমন: কিছু রোগ বা দুর্বলতার কারণে), তাহলে আপনি মা‘যূর (অজুহাতগ্রস্ত) গণ্য হবেন। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়াক্তের জন্য একবার ওযু করলেই চলবে, এবং ভেতরে মাদী বের হলেও পুনরায় ওযু করতে হবে না (যতক্ষণ না ওই ওয়াক্তের নামায শেষ করেন)। তবে এখানে তা প্রযোজ্য নয়, কারণ এটি একবার ঘটেছে মাত্র।
সংক্ষেপে:
আপনার নামায পুনরায় পড়বেন না। শুধু কাপড় ধুয়ে ফেলুন এবং পরবর্তী নামাযের জন্য ওযু করুন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।