তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক হবে কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2463
Questioner: koly akhi
Question Asked: 08 Jul 2026, 11:36 PM
Reviewed & Published: 08 Jul 2026, 11:45 PM
Views: 5
Tokens: 4,933
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন স্বামী যদি বলে স্ত্রীকে আমাকে ছাড়া থাকতে পারবা? স্ত্রী যদি বলে পারব।স্বামী যদি ক্স্ট পেয়ে বলে তুই দুইবার আমাকে ছেড়ে চলে যাইতে চাইচস।মানে ক্স্ট পেয়ে বলতেছে ধরেন।এরপর কেনায়া শব্দ বলেছে ধরেন।এরপর আবার ধরেন বলতেছে আমাকে ছেড়ে যাইস না।আর স্ত্রীকে পাওয়ার দিলে তালাকের স্ত্রীর কথার দ্বারা কি কোন সমস্যা হয়?মানে কোন নিয়ত না তালাকের এমনিতে বেচে থাকবে মরে যাবে না এমনটা বুঝালে।যদিও স্বামী কেন জিজ্ঞেস করেছে জানে মানে কোন স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে থাকতে পারবে কিনা।কিন্তু স্ত্রী বুঝিয়েছে সে স্বামীকে ছাড়া মরে যাবে না।এসবের কারণে কি তালাক হয়?

Answer

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় স্বামী স্ত্রীকে বলেন: “আমাকে ছাড়া থাকতে পারবা?” স্ত্রী উত্তর দেয়: “পারব।” স্বামী রাগান্বিত হয়ে বলেন: “তুই দুইবার আমাকে ছেড়ে চলে যাইতে চাইছস” (কেনায়া শব্দ ব্যবহার), এরপর আবার বলেন: “আমাকে ছেড়ে যাইস না।” স্বামী এ কথাগুলো বলার সময় তালাকের কোনো নিয়ত করেননি। স্ত্রীকে ‘পাওয়ার’ দেওয়ার প্রসঙ্গে স্ত্রী বলেন: “সে স্বামীকে ছাড়া মরে যাবে না।” স্বামী শুধু জানতে চেয়েছিল স্ত্রী স্বামী ছাড়া থাকতে পারবে কি না, কিন্তু স্ত্রী বুঝিয়েছে যে সে স্বামী ছাড়া মরবে না। এসব কথার দ্বারা তালাক হয়েছে কিনা?


উত্তর:

প্রশ্নে বর্ণিত শব্দসমূহের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে:

  1. স্বামীর প্রশ্ন: “আমাকে ছাড়া থাকতে পারবা?” স্ত্রী উত্তর দেয় “পারব।”

    • এটি তালাকের স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ নয়। সরীহ তালাকের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ যেমন: “তালাক”, “ছেড়ে দিলাম”, “আজাদ করলাম” ইত্যাদি। এখানে এমন কোনো শব্দ ব্যবহার হয়নি।
  2. স্বামীর বক্তব্য: “তুই দুইবার আমাকে ছেড়ে চলে যাইতে চাইছস” (কেনায়া শব্দ বলে ধরে নেওয়া হলো)।

    • কেনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ত আবশ্যক। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কেনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হয় না যতক্ষণ না স্বামী তালাকের নিয়ত করে অথবা এমন প্রেক্ষাপট থাকে যা স্পষ্টত তালাক নির্দেশ করে। এখানে স্বামীর কোনো তালাকের নিয়ত নেই বরং তিনি কেবল রাগের বশে প্রশ্ন করছেন। তাই কেনায়া শব্দ হয়েও এটি তালাক গণ্য হবে না।
  3. স্বামীর পরবর্তী বক্তব্য: “আমাকে ছেড়ে যাইস না।”

    • এটি তালাকের বিপরীত শব্দ, অর্থাৎ তিনি বিবাহ বজায় রাখতে চান। এটি প্রমাণ করে তিনি তালাক চান না।
  4. স্ত্রীর জবাব: “সে স্বামীকে ছাড়া মরে যাবে না।”

    • স্ত্রীর কথায় তালাক পতিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তালাক শুধু স্বামীর ইচ্ছা ও উচ্চারণের মাধ্যমে পতিত হয়, স্ত্রীর কথার দ্বারা নয়।

হানাফি ফিকাহ-এর নীতিমালা:

📕 সরীহ তালাক:
সরীহ তালাকের শব্দ যেমন “তালাক”, “ছেড়ে দিলাম”, “আজাদ করলাম” এগুলো উচ্চারণ করলে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়। কিন্তু উপরে বর্ণিত শব্দগুলো সরীহ নয়।

📕 কেনায়া তালাক:
কেনায়া শব্দ যেমন “যাও”, “চলে যাও”, “আমার থেকে মুক্ত হও” ইত্যাদি। এগুলোর জন্য তালাকের স্পষ্ট নিয়ত অথবা এমন প্রেক্ষাপট প্রয়োজন যা তালাকের উদ্দেশ্য বুঝায়। এখানে স্বামীর কোনো নিয়ত নেই, বরং তিনি কেবল জানতে চেয়েছেন বা রাগের বশে বলেছেন। তাই তালাক পতিত হয়নি।

📕 ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত:
“কেনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হয় না যদি না স্বামী তালাকের নিয়ত করে বা এমন অবস্থা থাকে যা তালাকের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।” (আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৫০)

📕 ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত:
তারা কেনায়া শব্দের প্রেক্ষাপট ও সাধারণ ব্যবহার দেখে তালাকের বিধান দিয়েছেন। কিন্তু উভয়ের ক্ষেত্রেই নিয়তের গুরুত্ব রয়েছে। এখানে স্বামীর কথাগুলো এমন ভাষায় বলা যা তালাকের উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রশ্নবাচক ও নিষেধমূলক। তাই কোনো মতেই তালাক পতিত হওয়ার অবকাশ নেই।

📕 ফাতাওয়া উসমানী:
“স্বামী যদি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে ‘তুমি কি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে?’ এবং স্ত্রী উত্তর দেয় ‘হ্যাঁ’। স্বামী যদি তালাকের নিয়ত না করে, তবে তালাক পতিত হবে না।” (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৮০)

📕 ইমদাদুল ফাতাওয়া:
“যে সব কথায় তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘আমাকে ছেড়ে যাও’, ‘তুমি আমার থেকে মুক্ত’, ‘আমি তোমার জন্য নই’ ইত্যাদি। এগুলোর জন্য নিয়ত জরুরি।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৫৫)

📕 রদ্দুল মুহতার (শামী):
“তালাকের কেনায়া শব্দগুলোর মধ্যে নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না। যেমন ‘যাও’ বলা, ‘চলে যাও’ বলা ইত্যাদি।” (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৯)

📕 বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী):
“যে সব শব্দ তালাকের জন্য এতটা স্পষ্ট নয়, সেগুলোকে কেনায়া বলা হয়। কেনায়া তালাকের জন্য নিয়ত বা প্রেক্ষাপটের দরকার আছে।” (বাহিশতী জেওর, বিবাহ ও তালাক অধ্যায়)


সারসংক্ষেপ:

উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে:

  • স্বামী তালাকের কোনো নিয়ত করেননি।
  • স্বামীর কথাগুলো তালাকের সরীহ শব্দ নয়, বরং কেনায়া শব্দ, যা নিয়ত ছাড়া তালাক সাব্যস্ত করে না।
  • স্ত্রীর কথার দ্বারা তালাক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
  • স্বামী “আমাকে ছেড়ে যাইস না” বলে বিবাহ টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন, যা তার অ-তালাক ইচ্ছার প্রমাণ।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ঘটনায় কোনো তালাক পতিত হয়নি। তাদের বিবাহ অটুট রয়েছে।

উত্তরটি হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মতানুসারে প্রদত্ত হয়েছে।

আল্লাহু আলাম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.