মানসিক চিকিৎসায় ডাক্তারকে জুলুমের কথা বলা কি গুনাহ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2399
Questioner: Amatullah Noor
Question Asked: 07 Jul 2026, 09:09 AM
Reviewed & Published: 07 Jul 2026, 09:25 AM
Views: 46
Tokens: 3,178
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মানসিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে মানুষের জুলুম ও আঘাতের কথা খুলে বললে কি গীবত বা গুনাহ হবে?

Answer

উত্তর: মানসিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে কারও জুলুম-নিপীড়নের কথা খুলে বলা জায়েজ, গীবত বা গুনাহ হবে না। তবে শর্ত হলো, শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যই বলতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিবরণ বা অতিকথন করা যাবে না।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

গীবতের সংজ্ঞা ও তার ব্যতিক্রম: গীবত হলো এমন কিছু বলা যা একজন মুসলিম ভাই শুনলে অসন্তুষ্ট হন, যদিও তা সত্য হয়। তবে শরিয়তে কিছু বৈধ উদ্দেশ্যে গীবত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইমাম নববী (রহ.) এবং ফকিহগণ এই ব্যতিক্রমগুলো উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে অন্যতম হলো:

  1. জুলুমের অভিযোগ ও প্রতিকার চাওয়া: কেউ কারও উপর জুলুম করলে, মজলুম (নির্যাতিত ব্যক্তি) তার অভিযোগ বিচারক, শাসক বা এমন কারও কাছে বলতে পারেন যে প্রতিকার করতে পারে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৮২)
  2. চিকিৎসার প্রয়োজন: কোনো ব্যক্তি নিজের বা অন্যের রোগ সম্পর্কে ডাক্তারকে জানানো। এটি চিকিৎসার নিমিত্তে বৈধ, যদিও তা অন্যের নেতিবাচক দিক উল্লেখ করেও হয়। (ফাতাওয়া উসমানী, ৩/৩৮২ ; রদ্দুল মুহতার, ৫/২৬৩)
  3. সাহায্য বা পরামর্শের জন্য: বিশেষজ্ঞের কাছে কল্যাণকর পরামর্শ নেওয়া।

মানসিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা: মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা (সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং) প্রায়শই অতীতের দুঃখজনক অভিজ্ঞতা, অত্যাচার বা অপব্যবহারের ঘটনা জানার উপর নির্ভর করে। যদি রোগী ডাক্তারকে তার ওপর হওয়া জুলুম ও আঘাতের বিবরণ না দেন, তবে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব হয় না। তাই এটি ‘চিকিৎসার প্রয়োজন’ বা ‘জুলুমের অভিযোগ’ এই উভয় ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে।

  • ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে বলেছেন, “গীবতের অনুমতি রয়েছে ... যালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ... এবং অন্ধ ব্যক্তির দোষ চিকিৎসার জন্য বলা।” (রদ্দুল মুহতার, ৫/২৬৩)
  • মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (দা. বা.) ফাতাওয়া উসমানীতে বলেন, “যদি ডাক্তারের নিকট রোগের কারণ বর্ণনা করা চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য হয়, তবে তাতে অন্যের দোষ উল্লেখ করলেও গীবত হবে না।” (ফাতাওয়া উসমানী, ৩/৩৮২)

তবে সতর্কতা:

  • শুধু চিকিৎসার প্রয়োজনীয় তথ্যই বলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় গালি বা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • যদি সম্ভব হয়, ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করে ঘটনা বর্ণনা করা উত্তম। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে নাম বলাও জায়েজ।
  • কেবল বিশ্বস্ত ডাক্তারের সামনেই বলা উচিত; যাতে তথ্য অপ্রয়োজনে ছড়িয়ে না পড়ে।

সিদ্ধান্ত:

মানসিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে কারও জুলুম বা আঘাতের কথা খুলে বলা গীবত বা গুনাহ নয়; বরং এটি একটি বৈধ প্রয়োজন। তাই কোনো ভয় না করেই সঠিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারকে সম্পূর্ণ সত্য বলবেন। তবে অপ্রয়োজনীয় অতিরঞ্জন বা গীবতের নিয়তে না বলে কেবল চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই বলবেন। আল্লাহ তাআলা জানেন ও ক্ষমাশীল।

উল্লেখযোগ্য হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  1. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) – ৫/২৬৩ (غيبة بمقصد صحيح)
  2. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানি) – ৩/৩৮২ (বৈধ কারণে অন্যের দোষ বর্ণনা)
  3. বাহিশ্তি জেওর (আশরাফ আলী থানভী) – গীবতের ব্যতিক্রম অধ্যায়
  4. আল-হিদায়া ও শারহু মাআনিল আসার – গীবতের বৈধ কারণসমূহ
  5. মাআরিফুল কুরআন (মুফতি শফি) – সূরা হুজুরাত, আয়াত ১২-এর তাফসীর

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.