স্বামী বিয়ের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে ও অস্বীকার করে, এবং তালাক না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করে, এখন করণীয় কি

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 238
Questioner: Beauty Café
Question Asked: 17 May 2026, 08:48 PM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 08:53 PM
Views: 32
Tokens: 3,761
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার পরিচিত একজনের বিয়ে হয় ৪ বছর আগে, কিন্তু ছেলেটে বিয়ের কাগজ ১ মাসের মধ্যে ছিড়ে ফেলে আর সব কিছু অস্বিকার করে, এবং তালাক না দিয়েই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।পরে মেয়েটির পরিবার থেকে তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দেয়, সেখানে সে ৪ বছর সংসার করে, এখন সেই ছেলেও তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় তার দায়িত্ব নিতে চাই না, এখন মেয়েটার যে প্রথম বিয়ে হয়েছিল যার সাথে সে তাকে আবার নিতে চাই নতুন করে বিয়ে করে, আল্লাহর কাছে তার পূর্বের অপরাধের ক্ষমা চেয়ে। যার সাথে মেয়েটার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল তাকে তালাক দিয়ে আবার যে ক্ষমা চাচ্ছে তাকে মেনে নেওয়া কতটা যুক্তিপূর্ণ?
অনেক জটিল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই আপনাদের এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পরামর্শ চাচ্ছি।

Answer

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও ইসলামি বিধান
একটি অত্যন্ত জটিল পারিবারিক পরিস্থিতি যেখানে একজন নারীর প্রথম বিয়ে হয়, স্বামী বিয়ের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে ও সব অস্বীকার করে তালাক না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া হয়, সেখানে ৪ বছর সংসার করার পর সেই স্বামীও দায়িত্ব না নিয়ে চলে যায়। এখন প্রথম স্বামী ফিরে এসে আবার তাকে গ্রহণ করতে চায় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত—এ বিষয়ে ইসলামি বিধান জানতে চান।


ইসলামি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ

১. প্রথম বিয়ের আইনগত অবস্থা

  • প্রথম বিয়ে যদি শরিয়তসম্মতভাবে (প্রস্তাব ও কবুল, দুই সাক্ষী) সম্পন্ন হয়, তাহলে তা বৈধ। বিয়ের কাগজ ছিঁড়ে ফেলা বা অস্বীকার করায় বিয়ে বাতিল হয় না।
  • স্বামী তালাক না দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করলে স্ত্রী এখনও তার বিবাহিত স্ত্রী হিসেবেই গণ্য হয়। কারণ ইসলামে তালাক শুধু স্পষ্ট উচ্চারণ বা ইশারায় হয়, নীরবতা বা অস্বীকৃতি তালাক নয়।
  • সুতরাং নারীর প্রথম বিয়ে এখনও বহাল আছে।

২. দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা

  • প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ নয়। এটি হারাম ও বাতিল (অবৈধ)
  • নারী যদি প্রথম স্বামীর কাছ থেকে তালাক না পেয়ে বা ফাসখ (বিচ্ছেদ) না করিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে, তাহলে তা যিনা হিসেবে গণ্য হবে এবং দ্বিতীয় বিয়ে শুদ্ধ হবে না।
  • তবে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বসবাসকালে যে সন্তান জন্মেছে, তারা যদি নিকাহের বৈধতা বিশ্বাস করে থাকে তাহলে সন্তান বৈধ হবে—এটি হানাফি মাজহাবের সহজ বিধান।

৩. বর্তমান করণীয়

  • নারীকে অবিলম্বে দ্বিতীয় স্বামী থেকে পৃথক হতে হবে (যদি ইতিমধ্যে পৃথক না হয়)। দ্বিতীয় বিয়ে যেহেতু বাতিল, তাই তালাকের প্রয়োজন নেই; তবে সম্পর্ক ছিন্ন করা জরুরি।
  • প্রথম স্বামী এখন ফিরে আসায় সে তার বৈধ স্বামী। তাই নতুন করে বিয়ে না করেও তারা সংসার করতে পারে। তবে উভয়ের সন্দেহ দূর করতে ও সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নতুন নিকাহ করার অনুমতি আছে।
  • নারী ও প্রথম স্বামী উভয়কে পূর্বের গুনাহের জন্য তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

৪. প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

  • ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রথম স্বামী এখনও তার বৈধ স্বামী, তাই তাকে গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক নয়, তবে সম্ভব।
  • নারী যদি চায়, সে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারে। কিন্তু তার অতীত প্রতারণা ও দায়িত্বহীনতার কারণে যদি স্ত্রী তার সাথে থাকতে না চায়, তাহলে সে খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে মুক্তিলাভ) বা তালাক চাইতে পারে।
  • তবে প্রশ্নে বোঝা যাচ্ছে প্রথম স্বামী সত্যিই অনুতপ্ত ও ক্ষমা চাচ্ছে। তাই তাকে সুযোগ দেওয়া যৌক্তিক, যদি স্ত্রী তাকে ক্ষমা করতে চায়। কারণ ইসলাম ক্ষমা ও সংশোধনকে উৎসাহিত করে।

৫. হানাফি ফিকহের নির্দেশনা

  • রদ্দুল মুহতার (৪/২৯) : স্বামী যদি চুপ থাকে বা বিয়ের কাগজ নষ্ট করে, তাতে তালাক হয় না। বিয়ে বহাল থাকে।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৩১) : স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা বাতিল, যদি প্রথম বিয়ে বিদ্যমান থাকে।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২২৫) : অনুরূপ সমস্যায় ফকিহগণ বলেন, প্রথম স্বামীকে গ্রহণ করতে নতুন নিকাহ জরুরি নয়, তবে উত্তম।

পরামর্শ ও সমাধান

১. নারী ও তার পরিবার প্রথম স্বামীর সাথে বসে সৎভাবে আলোচনা করুন। তিনি যদি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হন ও ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তাকে গ্রহণ করা উত্তম
২. দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন করুন। যদি তার কাছ থেকে তালাক চাওয়া প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে তা দ্বিতীয় স্বামীকে জানিয়ে দিন।
৩. নতুন করে বিয়ে করার প্রয়োজন নেই, তবে সন্দেহ দূর করতে একটি নতুন নিকাহ পড়িয়ে নিলে উভয়ের মনে প্রশান্তি আসবে।
৪. এই ঘটনার দ্বারা সমাজে যদি বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তাহলে স্থানীয় আলেম বা ইসলামি আদালতের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করে ফাসখ বা বিচ্ছেদের ফয়সালা করিয়ে নেওয়া ভালো।

সারমর্ম : প্রথম বিয়ে এখনও বৈধ আছে, তাই নারী ওই স্বামীর স্ত্রী। তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন বিয়ের প্রয়োজন নেই। তবে স্ত্রী যদি তাকে গ্রহণ না করতে চায়, তাহলে সে তালাক বা খুলার মাধ্যমে সম্পর্ক শেষ করতে পারে। সৎ তওবা ও সংশোধনের পথ বেছে নেওয়াই ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম।

اللہ أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.