১৮ কোন নাম্বার কলামে স্বামী যদি না জেনেই সাইন করে, সেক্ষেত্রে স্ত্রী কি তালাকের অধিকার পায়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2366
Questioner: Sunflower
Question Asked: 05 Jul 2026, 07:15 PM
Reviewed & Published: 05 Jul 2026, 07:21 PM
Views: 60
Tokens: 11,062
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম হুজুর। তালাক নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।
১. আমাদের বিয়ে পড়ানো আগে কাজি সাহেব কাবিননামায় সাইন নিয়ে নেন। তখন ১৮নং কলামটি খালি ছিল। তারপর বিয়ে পড়ানোর পর কাজি মৌখিকভাবে কিছু শর্ত দেন। আমার হাসব্যান্ড এতে রাজি ছিল কি না আমি জানি না। আমার মনে নাই।
আমরা এখনো কাবিননামা তুলি নাই। আমাদের তালাকে ই তাফয়ীজ সম্পর্কে ধারণা ছিল না তখন। এখানে যে, জামাই নিজে তালাকের অধিকার দেয় এটা আমার হাসব্যান্ড জানতেন না।
প্রশ্ন হলো, একদিন আমাদের ২জনের মধ্যে প্রচুর ঝগড়া হয়। তখন আমাকে তালাক দিতে বলি। উনি আমাকে তালাক দিতে চান না। তখন আমি উনাকে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে, সম্পর্ক ভাঙ্গার জন্য বলেছি যে, আমার দিক থেকে তালাক হয়ে গেছে। কথাটি আমি ২বার বলেছি যতটুকু মনে আছে। আমি আমার নফস এর উপর তালাক নেয়নি কারন আমি জানতাম না,, স্ত্রী কিভাবে তালাক নিতে হয়।
এই ঘটনার কিছুক্ষন পরে, আমি বলি যে, আপনি আমাকে তালাক দেন বা না দেন,, আমাদের তালাক হয়ে গেছে আমি মেনে নিছি।
এর প্রতিউত্তরে আমার জামাই কি বলেছেন আমার মনে নাই। উনার ও মনে নাই। সম্ভবত আমাকে মানানোর ট্রাই করেছিলেন। কারন উনি আমাকে তালাক দিতে চান না একদম।
আমি যখন তালাক ই তাফয়ীজ নিয়ে জানতে পারি তখন উনাকে আমি জিজ্ঞাসা করি যে,, কাজি সাহেব কি কি শর্ত দিয়েছিল উনার মনে আছে কি না।
উনি বলেন যে,, কই। উনি তো কিছুই বলেন নাই। আমি বুঝতে পেরেছি যে,, আমার জামাই এর মনে নাই।
হুজুর, এই ঘটনার কিছুদিন আগে আমার স্বামী আমাকে স্পষ্ট ভাষায় কিছু শর্ত দিয়েছিলেন নিজ থেকে অ্যান্ড আমাকে বলেছিলেন, এই শর্ত ছাড়া কোনোভাবেই আমি তালাক এর কথা মুখে আনতে পারব না।
যার একটার সাথেও আমার তালাক দেওয়ার কথা মিলে নাই। মানে আমার জামাই এর দেওয়া শর্ত পাওয়া যায়নি।
আরেকটা কথা,কাজি সাহেব হয়ত বলেছিলেন,, ভরণপোষণ না দিলে তালাক দিতে পারব আমি।
কিন্তু আমরা ২জনেই স্টুডেন্ট হওয়াই উনি আমার ভরণপোষণ চাকরি করার আগে দিতে পারবেন না আগেই বলে রাখছিলেন আমাকে।।আমিও মেনে নিছিলাম এটা আর আমার কোনো প্রকার অভিযোগ ছিল না এটা নিয়ে। এখন কাযি সাহেব তো সারাজীবন এর কথা বুঝাইছেন। কিন্তু আমার স্বামী বিয়ের আগে ও পরে বলেছিলেন এই কয়েক বছর কস্ট করো, তারপর তো তোমার সব দায়িত্ব আমারই। উনি চেষ্টা করতেন আমাকে কিছু কিনে দিতে উনার সার্মথ্য অনুযায়ী আর আমার বাবার আথির্ক অবস্থা ভালো হওয়ায় আমার ভরনপোষণ দেওয়া নিয়ে কোন অভিযোগ ছিল না তখন।
এখন আমাদের কি তালাক ই তাফয়ীজ হয়ে গেছে?
কত তালাক হয়েছে এতে?
২. হুজুর, তালাক নিয়ে একই ঘটনা ২জন যোগ্য মুফতিকে জানানো হলে ২জন ভিন্ন ফাতওয়া দিলে কার টা মানব?
আমি গতকাল এই গ্রুপে একটি প্রশ্ন করেছিলাম, শ্রদ্ধেয় মুফতি জানিয়েছেন, আমার ওই ঘটনায় তালাক হয়নি। কিন্তু কিছুদিন আগে আরেকজন মুফতি বলেছেন, এক তালাক হয়েছে।
যেহেতু তালাক এর মতো বিষয়, তাই এখন আমি কার কথা মানব?
প্লিজ, কিছু মনে করবেন না আমার এই প্রশ্নের জন্য। আমি দ্বিধাদ্বন্দে আছি।

Answer

উত্তরঃ
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরী যে, তালাক হচ্ছে স্বামীর হক। স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিতে পারে না, তবে যদি স্বামী তাকে তালাকের অধিকার দেয় (তালাকে তাফবীজ) তবে সে শর্তসাপেক্ষে তা ব্যবহার করতে পারে। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পরিষ্কারঃ


১. তালাকে তাফবীজের বৈধতা ও শর্ত

  • কাবিননামার ১৮ নং কলাম খালি ছিল, অর্থাৎ বিয়ের সময় লিখিতভাবে তালাকের অধিকার দেওয়া হয়নি।
  • কাজী সাহেব মৌখিকভাবে কিছু শর্ত দিয়েছিলেন, কিন্তু আপনার স্বামী তা সমর্থন করেছিলেন কিনা তা স্মরণ নেই। তবে শরিয়তে মৌখিক শর্ত ততক্ষণ কার্যকর নয়, যতক্ষণ না স্বামী স্পষ্টভাবে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করে। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৩)
  • আপনার স্বামী নিজে থেকে কিছু শর্ত দিয়েছিলেন (যেমন: নির্দিষ্ট কারণে তালাক বলা যাবে না), কিন্তু আপনার তালাকের ঘটনা সেই শর্তের সাথে মেলে না। সুতরাং এ অবস্থায় আপনার পক্ষ থেকে তালাকের কোনো উচ্চারণই বৈধ নয়।

২. আপনার উচ্চারিত বাক্য বিশ্লেষণ

আপনি বলেছেনঃ

“আমার দিক থেকে তালাক হয়ে গেছে” (২ বার)
“আপনি আমাকে তালাক দেন বা না দেন, আমাদের তালাক হয়ে গেছে আমি মেনে নিছি”

  • ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী স্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে তালাক ঘোষণা করলে তা কার্যকর হয় না, যতক্ষণ না স্বামী তাকে এ অধিকার দেয়। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৭৩)
  • আপনি যখন এ কথাগুলো বলেছেন, তখন আপনি তালাকে তাফবীজ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং নিজের উপর তালাক নেওয়ার নিয়তও করেননি। তাই আপনার কথা তালাক গণ্য হবে না
  • স্বামীও তালাক দিতে চাননি এবং আপনার কথার জবাবে তিনি কিছু বলেননি (মনে নেই) – বরং তিনি মানানোর চেষ্টা করেছিলেন।

সুতরাং, তালাকে তাফবীজ বা অন্য কোনো মাধ্যমে আপনার তালাক হয়নি।


৩. ভরণপোষণ সংক্রান্ত শর্ত

কাজী সাহেব বলেছিলেন, ভরণপোষণ না দিলে তালাক দেওয়া যাবে। কিন্তু আপনারা উভয়ই ছাত্র হওয়ায় স্বামী সামর্থ্য ছিল না, এবং আপনি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। এমতাবস্থায় ভরণপোষণ না দেওয়া তালাকের কারণ হয় না, বরং এটা স্ত্রীর অধিকার যা সে চাইলে দাবি করতে পারে। (আল-হিদায়া, ২/৩৩৪)


৪. দ্বিতীয় প্রশ্নঃ দুজন মুফতির ভিন্ন মত

যদি একই ঘটনায় দুজন যোগ্য মুফতি ভিন্ন ফতোয়া দেন, তবে আপনার জন্য সতর্কতামূলক (ইহতিয়াত) পথ গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু যেহেতু আমরা এখানে প্রমাণ পেয়েছি যে আপনার তালাক হয়নি, তাই দ্বিতীয় মুফতির মত (যিনি তালাক হয়েছে বলেছেন) সম্ভবত ভুল। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তৃতীয় কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতি বা স্থানীয় আলেমের নিকট সম্পূর্ণ ঘটনা পুনরায় পেশ করতে পারেন।

তবে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী তালাক না হওয়ার পক্ষেই যুক্তি শক্তিশালী। কেননা-

  • তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর ইচ্ছা ও স্পষ্ট উচ্চারণ জরুরি।
  • আপনার উচ্চারণ ছিল অস্পষ্ট এবং তালাকের নিয়তবিহীন।
  • স্বামী তালাক দিতে রাজি ছিলেন না।

চূড়ান্ত ফতোয়া

আপনার তালাক হয়নি। আপনারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আগের মতই বৈধ। আপনার কোনো ইদ্দত পালন করতে হবে না। ভবিষ্যতে নিজের থেকে তালাকের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ

  • রদ্দুল মুহতার (৪/৪৮৫-৪৮৬)
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৩৭৩)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৪১৮)
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/৩৫৪)

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.