পূর্বের হায়েয থেকে ১৫ দিনের কম পবিত্রতা থাকলে করণীয় কি?
Family Life · Hanafi
Question
এখন ৭-১৩ ই জুনের পরের হায়েজটা ইস্তিহাজা হিসেবে ধরে নামাজ পড়েছি, এখন যে ৫-৬ দিনের গ্যাপে হায়েজ হয়েছে সেটা ইস্তিহাজার ৫-৬ দিন পর। তাহলে এখন কি নামাজ পড়বো?
এটা কি হায়েজ নাকি ইস্তিহাজা?
Answer
উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
প্রথমেই জেনে নেওয়া জরুরি যে, হায়েজ (মাসিক) ও ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) পার্থক্য করার জন্য ইসলামী ফিকহে কয়েকটি মূলনীতি নির্ধারিত আছে। হানাফি মাজহাব অনুসারে, হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। দুই হায়েজের মাঝখানে কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্র থাকা আবশ্যক। এর কম পবিত্রতা থাকলে দ্বিতীয় রক্ত হায়েজ না হয়ে ইস্তিহাজা গণ্য হবে।
আপনার বর্ণিত ঘটনার বিশ্লেষণ:
-
প্রথম রক্ত: জুনের ৭ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত। এটি ৬ দিন স্থায়ী ছিল। এটি হায়েজ।
-
দ্বিতীয় রক্ত: জুনের ২৫ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ১ তারিখ পর্যন্ত। এটি ৭ দিন স্থায়ী ছিল। কিন্তু প্রথম হায়েজ শেষ হওয়ার পর (১৩ জুন) দ্বিতীয় রক্ত শুরু হওয়ার আগে (২৫ জুন) পর্যন্ত মাত্র ১২ দিন পবিত্রতা ছিল (১৩-২৪ জুন = ১২ দিন)। যেহেতু পবিত্রতার সময়কাল ১৫ দিনের কম, তাই এই দ্বিতীয় রক্ত হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা গণ্য হবে। আপনি ঠিকই করেছেন যে, এই রক্তকে ইস্তিহাজা ধরে নামাজ পড়েছেন। তবে পূর্বের হায়েয থেকে ১৫ দিন পূর্ণ হওয়ার পর যদি তিনদিন তিনরাত রক্তস্রাব স্থায়ী হয়, তাহলে সেই রক্তস্রাব হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।
-
তৃতীয় রক্ত: জুলাইয়ের ৫ তারিখে রক্ত দেখা দিয়েছে। এখন দেখতে হবে, এই রক্তের আগের হায়েজ (প্রথম রক্ত) শেষ হওয়ার পর কত দিন পবিত্রতা ছিল। প্রথম হায়েজ শেষ হয়েছিল ১৩ জুন। তারপর তৃতীয় রক্ত শুরু হয়েছে ৫ জুলাই। অর্থাৎ ১৩ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত মোট ২২ দিন পবিত্রতা (ইস্তিহাজার রক্তের সময় পবিত্রতা গণ্য হয় না, কারণ ইস্তিহাজা অবস্থায় নারী পবিত্র থাকে এবং নামাজ পড়ে)। ২২ দিন ১৫ দিনের বেশি হওয়ায়, এখন এই তৃতীয় রক্ত নতুন হায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বর্তমান মাসয়ালা:
আপনি এখন ৫ জুলাই রক্ত দেখেছেন। এই রক্ত যদি ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয় এবং ১০ দিনের বেশি না হয়, তবে তা হায়েজ হবে। কিন্তু যেহেতু এখনো ৩ দিন পূর্ণ হয়নি, তাই অপেক্ষা করতে হবে।
- যদি রক্ত ৩ দিন পূর্ণ করে (অর্থাৎ ৫, ৬, ৭ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকে), তাহলে তা হায়েজ হবে। তখন এই ৩ দিনের নামাজ কাজা হবে না।
- যদি রক্ত ৩ দিনের আগেই বন্ধ হয়ে যায় (যেমন শুধু ৫ জুলাই রক্ত এসে পরে বন্ধ), তাহলে তা হায়েজ নয়; বরং ইস্তিহাজা হবে। তখন আপনাকে সেই দিনের নামাজ কাজা আদায় করতে হবে।
বর্তমানে করণীয়:
আপাতত ৩ দিন (৫-৭ জুলাই) পর্যন্ত রক্ত চলাকালে আপনি নামাজ, রোজা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবেন। ৩ দিন পূর্ণ হলে তা হায়েজ গণ্য হবে। যদি ৩ দিনের কম হয়, তবে ঐ দিনগুলোতে পড়া নামাজ কাজা হবে না (কারণ আপনি তখন ইস্তিহাজা অবস্থায় নামাজ পড়বেন)। আর যদি ৩ দিন পূর্ণ হয়, তাহলে আগের নামাজগুলোর কাজা নেই।
সারসংক্ষেপ:
- ২৫ জুন-১ জুলাইয়ের রক্ত ইস্তিহাজা ছিল, তাই এটি হায়েজের চক্রে গণ্য হবে না।
- বর্তমান (৫ জুলাই থেকে) রক্ত হায়েজ হতে পারে যদি তা ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয়। ৩ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- নামাজ পড়বেন কি না: এখন (৫ জুলাই) থেকে আপনি নামাজ, রোজা থেকে বিরত থাকুন, যতক্ষণ না ৩ দিন পূর্ণ হয় বা রক্ত বন্ধ হয়। যদি ৩ দিন পূর্ণ হয়, তাহলে হায়েজ শেষে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন। আর যদি ৩ দিনের কম হয়, তাহলে গোসল করে নামাজ শুরু করুন এবং বন্ধ হওয়া দিনের নামাজ কাজা পড়ুন।
দলিল:
- সূরা বাকারা (২:২২২) – হায়েজকালে নামাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ।
- হাদিস: “হায়েজের সময়কাল ৩ থেকে ১০ দিন। এর বেশি হলে ইস্তিহাজা।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৬)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬ – “দুই হায়েজের মাঝে ১৫ দিন পবিত্রতা শর্ত।”
- রদ্দুল মুহতার, ১/৪৩৩ – ইস্তিহাজার বিধান।
উত্তর:
এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে এটি হায়েজ নাকি ইস্তিহাজা। ৩ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ৩ দিন পূর্ণ হলে হায়েজ, না হলে ইস্তিহাজা।
আল্লাহু আলাম।