প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের বাচ্চার বিরক্তি মোকাবিলার বিধান।
Halal and Haram · Hanafi
Question
২. সে যদি শুধু শুধুই আমাকে ডাকতে থাকে আর আমি যদি রেসপন্স না করি তা কি জায়েয?
৩. সে যদি আমাকে বিরক্ত করে তবে তাকে কি ধমক দেওয়া বা চিমটি কাটা যাবে যাতে সে আমাকে বিরক্ত না করে?(যদি সে বুঝমান হয় বা অবুঝ হয় উভয়ক্ষেত্রে)
৪. আমি যদি খেতে বসি অনেক সময় সে ঐ খাবার চায়। কিন্তু আমি কৃপণতার কারণে নয় বরং শান্তিতে যাতে খেতে পারি এই জন্য যদি আমি দরজা বন্ধ করে খাই তবে তা কি জায়েয?
Answer
উত্তর প্রদানে আল্লাহই তাওফীক দাতা।
প্রশ্নটির উত্তর নিম্নরূপ:
১. পাশের বাচ্চা (প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের) বিরক্ত করলে তাকে ভালোভাবে ঘর থেকে বের করে দেওয়া:
হ্যাঁ, জায়েয। যদি কোনো বাচ্চা আপনার ঘরে এসে আপনাকে বিরক্ত করে, তবে তাকে নরম ও শিষ্ট আচরণে বুঝিয়ে বা হাত ধরে ঘর থেকে বের করে দেওয়া বৈধ। এটি জুলুম নয়, বরং নিজের শান্তি ও ইবাদত বা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তবে অবশ্যই কঠোরতা বা আঘাত করা যাবে না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তার পরিবারের প্রতি উত্তম (ব্যবহারকারী)" (তিরমিযী, হাদীস: ৩৮৯৫)। কিন্তু এখানে বিরক্তিকর পরিস্থিতি দূর করা হচ্ছে, যা শরী‘আতসম্মত।
কিতাবের উদ্ধৃতি: ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৫৪)-তে আছে, "যদি কোনো ব্যক্তি অন্যকে বিরক্ত করে, তবে তাকে নরমভাবে সরিয়ে দেওয়া বা বারণ করা জায়েয।"
২. বাচ্চা শুধু শুধুই ডাকতে থাকলে রেসপন্স না করা:
বাচ্চাটি যদি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই একটানা ডাকে এবং আপনি থামিয়ে দেওয়ার পরও না শোনে, তবে তাকে উত্তর না দেওয়া জায়েয। কিন্তু যদি তার কোনো জরুরি প্রয়োজন থাকে (যেমন বিপদ বা অসুস্থতা) তবে উত্তর দেওয়া ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হবে। সাধারণ অবস্থায়, অভ্যাসগত ডাকে সাড়া না দিলে গুনাহ নেই। তবে উত্তম আচরণ হলো প্রথমবার ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা, তারপর উপেক্ষা করা।
হানাফি ফিকহে বলা হয়েছে, "কারো ডাক সাড়া দেওয়া তখনই ওয়াজিব যখন ডাক ব্যক্তির পরিচিত আবশ্যকীয় অধিকারের সাথে জড়িত, অন্যথায় জায়েয।" (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ৫/৩৫৪)
৩. বিরক্তিকর বাচ্চাকে ধমক দেওয়া বা চিমটি কাটা:
এটি সম্পূর্ণ নাজায়েয ও গুনাহের কাজ। বিশেষ করে যখন বাচ্চাটি আপনার নিজের নয়। ছোট বাচ্চা হোক বা বড়, তাকে শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়া (চিমটি কাটা, মারধর করা) হারাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (আবু দাউদ, হাদীস: ৪৯৪৩)
বুঝমান বাচ্চা: তাকে নরম ভাষায় বোঝানো এবং সতর্ক করা জায়েয, কিন্তু ধমক বা চিমটি কাটা যাবে না।
অবুঝ বাচ্চা: তো আরও বেশি সতর্কতা আবশ্যক। তাকে উপেক্ষা করা বা পিতামাতার কাছে অভিযোগ করা উচিত।
ইবনু আবেদীন (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৪৩৪)-এ উল্লেখ আছে, "অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাকে প্রহার করা বা কষ্ট দেওয়া জায়েয নয়, যদিও সে নাবালেগ হয়।" একমাত্র নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক হালকা প্রহারের অনুমতি আছে, তাও নির্দিষ্ট নিয়মে। অপরের সন্তানের জন্য তা একেবারেই নিষিদ্ধ।
৪. খাওয়ার সময় বাচ্চা খাবার চাইলে শান্তিতে খাওয়ার জন্য দরজা বন্ধ করে খাওয়া:
এটি জায়েয। আপনি কৃপণতার কারণে নয়, বরং নিজের খাওয়ার শান্তি বিঘ্নিত না হওয়ার জন্য দরজা বন্ধ করছেন, এতে কোনো গুনাহ নেই। বরং নিজের অধিকার রক্ষা করা বৈধ। তবে যদি বাচ্চাটি খুব অভুক্ত থাকে বা তার প্রতি দয়ার প্রেরণা হয়, তবে কিছু দেওয়া উত্তম। কিন্তু বাধ্যবাধকতা নেই।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে পবিত্র বস্তুসমূহ" (সূরা মায়েদা: ৪)। নিজের সম্পদ নিজের ইচ্ছামতো ভোগ করা বৈধ, যতক্ষণ না তা জুলুম বা অপচয় না হয়। এখানে অপচয় নয়, শান্তি রক্ষার প্রয়োজন।
ফাতাওয়া উসমানী (২/৫২৩)-এ আছে, "নিজের ঘরে একা খাওয়া বা দরজা বন্ধ করে খাওয়া জায়েয, যদি তা কৃপণতা বা অহংকারের জন্য না হয়।"
উপসংহার:
- প্রথম ও চতুর্থ প্রশ্ন: জায়েয, তবে সৌজন্য বজায় রাখা ভালো।
- দ্বিতীয় প্রশ্ন: জায়েয, তবে প্রয়োজন থাকলে সাড়া দেওয়া উচিত।
- তৃতীয় প্রশ্ন: ধমক বা চিমটি কাটা নাজায়েয ও হারাম। ধৈর্য ও সদ্ব্যবহারের সাথে সমাধান করতে হবে।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।