মিথ্যা মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে চাকরির ছুটি নেওয়ার বিধান।

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2308
Questioner: Ifrat Jahan
Question Asked: 04 Jul 2026, 01:02 PM
Reviewed & Published: 04 Jul 2026, 01:05 PM
Views: 63
Tokens: 4,237
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামী প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। ওনি বিসিএস এর জন্য আবেদন করার সময় এটিইউ এক থেকে অনুমতি এনে আবেদন করে কিন্তু যখন রিটেন পরীক্ষা য় ১০ দিন এর মতো ছুটি দরকার হয় তখন বলে ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে গিয়ে মেডিকেল লিভ নেওয়ার জন্য। এভাবে ছুটি নেওয়া কি ঠিক হবে আমার স্বামী চায় না কি ওনি চায় ওনি বছরে যেয় ছুটি পাওনা সেখান থেকে দেওয়ার জন্য কিন্তু তারা এই সিস্টেমেই ছুটি দেয়।এভাবে ছুটি নেওয়া উচিত হবে নাকি??

Answer

উত্তর:

আপনার স্বামীর জন্য মিথ্যা মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে বা মিথ্যা অজুহাতে চিকিৎসা ছুটি নেওয়া হারাম ও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি সুস্পষ্ট মিথ্যা, প্রতারণা এবং জালিয়াতির অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নিম্নে কুরআন, হাদীস এবং সালাফি স্কলারদের মতামতের ভিত্তিতে বিস্তারিত দলীল প্রদান করা হলো:


১. মিথ্যা বলা ও প্রতারণার নিষেধাজ্ঞা:

  • কুরআন:
    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    “নিশ্চয়ই যারা মিথ্যা বলে ওরাই সত্যিকারের ধ্বংসপ্রাপ্ত।” (সূরা আয-যুমার, ৩২)
    আরও বলেন:
    “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” (সূরা আত-তাওবা, ১১৯)

  • হাদীস:
    রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
    “প্রতারণাকারী আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহীহ মুসলিম, ১০১)
    অন্য হাদীসে এসেছে:
    “তোমরা মিথ্যা থেকে বাঁচো, কারণ মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায়, আর পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।” (সহীহ বুখারী, ৬০৯৪)

  • শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
    “মিথ্যা বলা ও প্রতারণার মাধ্যমে অন্যায় সুবিধা নেওয়া হারাম। সরকারি বা ব্যক্তিগত যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মিথ্যা অজুহাতে ছুটি নেওয়া বা জাল ডকুমেন্ট পেশ করা কবিরা গুনাহ।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ২৮/২৩৪)


২. মিথ্যা মেডিকেল রিপোর্টের বিধান:

মেডিকেল রিপোর্টে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা জালিয়াতি করা সুদূরপ্রসারী পাপ। এতে তিনটি বড় গুনাহ আছে:

  1. মিথ্যা বলা – যা সরাসরি নিষিদ্ধ।
  2. প্রতারণা – যা সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক আইনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
  3. জালিয়াতি – যা অন্যায়ভাবে সুবিধা আদায়ের পথ।

শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন:
“কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা অজুহাতে চাকরি সংক্রান্ত ছুটি নেয়, তবে তা হারাম। বরং সে প্রকৃত প্রয়োজনে ছুটি চাইবে, এবং কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে নেবে, না দিলে নয়। মিথ্যা মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করা জালিয়াতি, যা ইসলাম ও আইন উভয় দিক থেকেই নিষিদ্ধ।” (শরহে বুলূগিল মারাম, ৩/৩২৫)


৩. “সিস্টেমে এভাবেই চলে” বলে মিথ্যা জায়েজ হয় না:

  • শায়খ ইবন বায (রহ.) বলেন:
    “কোনো প্রতিষ্ঠানের নীতি বা প্রচলন যদি কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী হয়, তবে তা অনুসরণ করা জায়েজ নয়। বরং একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো সঠিক পথে থাকা, এমনকি পুরো সমাজ ভুল করলেও।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ২৩/৩৫৯)

  • শায়খ সালেহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:
    “মানুষের তৈরি নিয়ম-কানুন ইসলামী শরিয়তের ওপর প্রাধান্য পেতে পারে না। যদি কোনো নিয়ম মিথ্যা বা প্রতারণার দিকে নিয়ে যায়, তবে তা মানা জায়েজ নয়, বরং ছেড়ে দিতে হবে।” (আল-মুনতাকা, ২/২৮৭)


৪. বিকল্প পন্থা:

আপনার স্বামী নিম্নোক্ত বৈধ উপায়ে ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন:

  • বার্ষিক ছুটি বা অর্জিত ছুটির আবেদন:
    “বছরে যে ছুটি পাওনা” – তা যদি আইনত পাওয়া যায়, তাহলে সেটির জন্য যথাযথ আবেদন করুন। যদি কর্তৃপক্ষ বার্ষিক ছুটি দিতে রাজি না হয়, তবে তাদের সাথে আলোচনা করুন বা আইনগত পদক্ষেপ নিন। মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না।

  • বিনা বেতনে ছুটি (LWP):
    অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে ছুটির সুযোগ থাকে। তা চাইতে পারেন।

  • পুনরায় অনুমতি চাওয়া:
    রিটেন পরীক্ষার জন্য পূর্বের অনুমতি (ETU থেকে) নেওয়া সম্ভব হলে আবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বৈধভাবে ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করুন।

শায়খ আলবানী (রহ.) বলেন:
“যে ব্যক্তি বৈধ পথে ছুটি পেতে ব্যর্থ হয়, তার উচিত ছুটি ছাড়াই প্রয়োজন মেটানো, অথবা অন্য বৈধ সমাধান খোঁজা। মিথ্যার মাধ্যমে বস্তুগত সুবিধা নেওয়া কখনোই জায়েজ নয়, এমনকি চাকরি চলে যাওয়ার ভয় থাকলেও।” (সিলসিলা সহীহা, ২/৪৫১)


৫. স্বামীর উদ্দেশ্যে উপদেশ:

আপনার স্বামী যদি মিথ্যা মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করেন, তবে:

  • এটি গুনাহ হবে এবং তার রিযিকে বরকত নষ্ট হবে।
  • সহীহ হাদীসে আছে: “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের নয়।” (মুসলিম)
  • চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য হারাম কাজ করলে আল্লাহ তা থেকে বারাকাহ উঠিয়ে নেবেন।

শায়খ ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) আরও বলেন:
“মিথ্যা ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত ছুটি বা সুবিধা ভোগ করা হারাম, এবং তা থেকে তওবা করা ওয়াজিব।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ৩০/৩২৫)


সিদ্ধান্ত:

প্রশ্নের সরাসরি উত্তর: আপনার স্বামীর জন্য এভাবে মিথ্যা মেডিকেল রিপোর্ট দেখিয়ে ছুটি নেওয়া স্পষ্টতই জায়েজ নয়, বরং হারাম। এমনকি “সিস্টেমে এটাই চলে” বা “সবাই করে” এই অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। তাকে অবশ্যই বৈধ পথে ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি রিটেন পরীক্ষা না দিয়ে বা অন্য কোনো বৈধ ব্যবস্থা করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিন।

আল্লাহ তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.