থাকবো না তোমার সাথে আর এই কথা বললে তালাক হবে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 2251
Questioner: Tinnj Akter
Question Asked: 03 Jul 2026, 01:04 AM
Reviewed & Published: 03 Jul 2026, 01:14 AM
Views: 80
Tokens: 4,117
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমার স্বামী আমাকে বলেছে আমি তোমার সাথে থাকবো না।তখন আমি উনাকে বলেছি আপনি এসব কি বলেন তখন উনি বলেছে কেন জামাই বউ কি আলাদা থাকেনা। আমি তখন উনাকে জিজ্ঞাসা করেছি আপনি কি এই উদ্দেশ্যে বলেছেন নাকি আপনি তো ঐ( মানে ঐ বলতে আমি তালাকের কথা জিজ্ঞাসা করছি) তখন উনি বলেছে আমি ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি।আমি তখন বলি ঐ উদ্দেশ্য কোন উদ্দেশ্য তখন উনি বলে আলাদা বাসায় থাকার। পরে আমি উনাকে বলি আমি তো আপনার জন্য হারাম হয়েছি আমি চলে যাই উনি বলে এই না।

আসলে আমি বুঝতে পারছিনা এখানে উনার নিয়ত আছে কিনা।

আর আমাদের কি তালাক হয়েছে??

Answer

উত্তর: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনার আলোকে ফিকহী বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:

প্রথমত: স্বামীর উক্তি "আমি তোমার সাথে থাকবো না"

  • এটি কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দের অন্তর্ভুক্ত। কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক তখনই পতিত হয়, যখন স্বামী তালাকের নিয়তে উচ্চারণ করে অথবা এমন পরিস্থিতি থাকে যা থেকে তালাকের ইচ্ছা স্পষ্ট বোঝা যায় (যেমন তীব্র ঝগড়া বা তালাকের আলোচনার সময়)।
  • হানাফী ফিকহে কিনায়া শব্দগুলোর মধ্যে "আমি তোমার সাথে থাকবো না" বা "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম" ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৭২)

দ্বিতীয়ত: স্বামীর নিয়ত ও পরবর্তী প্রশ্নোত্তর

  • স্ত্রী যখন "উদ্দেশ্য কী?" জানতে চান, স্বামী জবাবে বলেন: "আলাদা বাসায় থাকার" অর্থাৎ তালাক নয়, বরং স্বামী-স্ত্রীর পৃথক বসবাসের ইচ্ছা ছিল।
  • যদিও প্রথমবার স্বামী বলেছিলেন "ঐ উদ্দেশ্যেই বলেছি", কিন্তু স্ত্রীর পুনঃপ্রশ্নের পর তিনি স্পষ্টভাবেই বলে দেন যে উদ্দেশ্য পৃথক থাকা, তালাক নয়।
  • ইসলামী ফিকহের মূলনীতি: কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বামীর নিয়ত অপরিহার্য। স্বামী যখন স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে তার নিয়ত তালাকের ছিল না, তখন কিনায়া শব্দের কারণে তালাক পতিত হবে না। (বাদায়ি’উস সানায়ি’, ৩/৯৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৬১)

তৃতীয়ত: স্ত্রীর উক্তি "আমি আপনার জন্য হারাম হয়ে গেছি"

  • এটি স্ত্রীর নিজস্ব ধারণা মাত্র। যেহেতু তালাক পতিত হয়নি, তাই স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হননি। স্বামী "এই না" বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা সঠিক।

সিদ্ধান্ত: ➡️ আলোচ্য ঘটনায় কোনো তালাক পতিত হয়নি। বর্তমানে আপনাদের বিবাহিত জীবন পূর্বের মতোই বহাল রয়েছে।

➡️ তবে স্বামীর কথাবার্তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি থাকায় উভয়ের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অস্পষ্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

➡️ পরামর্শ: সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সালিশ (মধ্যস্থতা) বা পরিবারের বড়দের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে দ্বীনি পরিবেশে বসে আলোচনা করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.