পুতুলের ছবি বা বারবি ডল টেন্ট হাউজে থাকলে নামাজ পড়া যাবে কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
বাচ্চাদের খেলনা টেন্ট হাউজে পুতুলের ছবি আছে বারবি ডল।এখন এটা রুমে রাখলে নামাজ হবে?বা ছবিটা কিভাবে কি করলে নামাজ হবে?দয়া করে জানাবেন।
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের সারমর্ম: বাচ্চাদের টেন্ট হাউজে বারবি ডল বা পুতুলের ছবি (প্রিন্টেড) থাকলে সে ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? এবং কী করলে নামাজ শুদ্ধ হবে?
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, প্রাণীর ছবি (প্রাণীমূর্তি) রাখা বা তৈরি করা নিষিদ্ধ (হারাম বা মাকরুহ তাহরিমি)। তবে শিশুদের খেলনা পুতুলের ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা আছে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. পুতুলের ছবি বা মূর্তি: দুই ধরনের বিধান
-
ত্রিমাত্রিক পুতুল (যেমন বারবি ডল):
শিশুদের খেলার জন্য এটি বৈধ। কিন্তু নামাজের স্থানে বা কিবলার দিকে রাখা উচিত নয়। যদি নামাজরত ব্যক্তির সামনে বা চোখের সামনে থাকে, তাহলে নামাজ মাকরুহ তানজিহি (অপছন্দনীয়) হবে, তবে নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
(রদ্দুল মুহতার, ১/৪৭৯; ফাতাওয়া উসমানি, ২/১২৩) -
দ্বিমাত্রিক ছবি (প্রিন্টেড বা আঁকা):
এটি যদি পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর আকৃতি হয় (যেমন পুরো বারবি ডলের ছবি), তবে তা রাখা নিষিদ্ধ। তবে ছবিটি যদি ছোট হয় (যেমন আঙুলের ডগার সমান বা তার কম) অথবা মাথা কাটা/বিকৃত থাকে, তাহলে তা মাফ।(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৬৫)
২. আপনার ক্ষেত্রে বিধান
- আপনি বলেছেন “পুতুলের ছবি” বা “বারবি ডল” – যদি টেন্ট হাউজে প্রিন্টেড ছবি থাকে, তাহলে সেটি দ্বিমাত্রিক ছবি। যদি ছবিটি পূর্ণাঙ্গ (সম্পূর্ণ শরীরসহ) হয় এবং আকার বড় (প্রায় ৪-৫ ইঞ্চির বেশি), তাহলে তা নিষিদ্ধ এবং নামাজের সময় চোখে পড়লে নামাজ মাকরুহ হবে।
- অন্যদিকে, যদি ছবিটি খুব ছোট বা অস্পষ্ট হয়, তাহলে নামাজে কোনো সমস্যা নেই।
৩. কী করলে নামাজ শুদ্ধ হবে?
নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলোর যেকোনো একটি নিলে নামাজ শুদ্ধ হবে:
ক. ছবির মুখমণ্ডল মুছে দেওয়া: ছবির চোখ, নাক, মুখ ইত্যাদি এমনভাবে কেটে বা ঢেকে দেওয়া যাতে আর প্রাণীর আকৃতি না থাকে। এটা করলে ছবি অসম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং নামাজ মাকরুহ থাকবে না।
(মুয়াত্তা মালিক, হাদিস: ১৭০০; ফাতাওয়া উসমানি, ২/১২৫)
খ. ছবিটি আড়ালে রাখা: টেন্ট হাউজটি নামাজের স্থান থেকে সরিয়ে ফেলুন বা এমন জায়গায় রাখুন যেখানে নামাজের সময় দৃষ্টি যায় না। যেমন পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া বা অন্য কক্ষে রাখা।
গ. ছবির ওপর কাপড় ঢেকে দেওয়া: যদি পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া হয় তাহলেও নামাজ মাকরুহ হবে না।
ঘ. নামাজের সময় ছবির দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে ফিরে দাঁড়ানো: তবে এটি উত্তম নয়, বরং উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করাই শ্রেয়।
৪. সংক্ষিপ্ত দলিল
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: যে ছবির মাথা কাটা বা মুছে ফেলা হয়েছে, তা আর নিষিদ্ধ নয়। (শরহু মাআনিল আসার, ৪/৩০৫)
- মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.) লিখেছেন: শিশুদের খেলনা পুতুল যদি পূর্ণাঙ্গ হয় এবং নামাজের সামনে থাকে তবে নামাজ মাকরুহ, কিন্তু পুনরায় পড়তে হবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২১৫)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়াতে বলা হয়েছে: প্রাণীর ছবি যদি মাটিতে লুটানো অবস্থায় থাকে বা পায়ের নিচে পড়ে, তাহলে নামাজ মাকরুহ নয়। (৫/৩৬৬)
৫. সুতরাং আপনার করণীয়
- সর্বোত্তম সমাধান: ছবির মুখমণ্ডল কেটে বা কালি দিয়ে ঢেকে দিন। তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
- যদি তা সম্ভব না হয়: টেন্ট হাউজটি নামাজের কক্ষ থেকে সরিয়ে অন্যত্র রাখুন।
- এসব সম্ভব না হলে: নামাজের সময় ছবির দিকে দৃষ্টি না দিয়ে অন্য দিকে ফিরে দাঁড়ান। তবে মনে রাখবেন, ছবি থাকা অবস্থায় নামাজ মাকরুহ হবে, কিন্তু নামাজ আদায় হয়ে যাবে (পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই)।
উপসংহার:
আপনার বাচ্চাদের টেন্ট হাউজে বারবি ডলের ছবি থাকলেও নামাজ আদায় হবে, তবে তা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হবে। উত্তম হলো ছবির মুখমণ্ডল মুছে ফেলা বা ঢেকে দেওয়া। আর যদি পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়, তবে তা-ই সর্বোত্তম।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহীহভাবে দ্বীন পালনের তাওফীক দান করুন।