ইসলামি ব্যাংকের provisioning profits সম্পর্কে
Halal and Haram · Hanafi
Question
শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেবগণ,
আমি ইসলামিক ব্যাংকে টাকা রাখার ফলে তারা এবছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য আমাকে Provisional profit হিসেবে 2133 টাকা পাঠিয়েছে।
ইসলামি ব্যাংক পরিপূর্ণ রুপে ইসলামি শারিয়া ফলো করে চলে কি না এটা আমার জনা নাই।
এখন প্রশ্ন হল এই টাকাটা কি আমি ভক্ষণ করতে পারব এটা কি আমার জন্য জায়েজ হবে?
নাকি বিনা সওয়াবের নিয়তে এটাকে দান করে দিতে হবে?
দয়া করে জানালে অনেক উপকৃত হব ইনশাআল্লাহ।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
মুহতারাম প্রশ্নকারী ভাই,
আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদানের পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, ইসলামী ব্যাংকগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে ইসলামী শরী‘আহ মোতাবেক চলছে কি না – তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অনেক বড় বড় আলেম ও মুফতী সাহেবগণ মনে করেন, বর্তমান ইসলামী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম শতভাগ শরী‘আহসম্মত নয়; এতে কিছু কিছু জায়গায় সুদ (রিবা) বা অন্যান্য শরী‘আহ পরিপন্থী বিষয় জড়িত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের জন্য এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য।
আপনার প্রাপ্ত Provisioning Profit (প্রভিশনিং প্রফিট) বা অস্থায়ী মুনাফার টাকা সম্পর্কে বিধান হলো:
যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে ব্যাংকটি সম্পূর্ণ শরী‘আহ মোতাবেক ব্যবসা পরিচালনা করে, এবং বিশেষজ্ঞদের মতে অনেক ক্ষেত্রেই ইসলামী ব্যাংকগুলো শরী‘আহসম্মত পদ্ধতি পুরোপুরি অনুসরণ করে না, তাই এইরূপ মুনাফা গ্রহণ করা জায়েয হবে না বরং তা সন্দেহজনক (মুশতাবিহ) বলে গণ্য হবে।
হানাফী ফিকহের মূলনীতি:
হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর উভয়ের মাঝে আছে সন্দেহজনক বিষয়সমূহ, যা অনেক লোক জানে না। অতএব, যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বস্তু থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও ইজ্জত বাঁচিয়ে নিল। আর যে সন্দেহজনক কাজে জড়িয়ে পড়ল, সে হারামে পতিত হল…”
(সহীহ বুখারী: ৫২, সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯)
এই হাদীসের আলোকে, আপনার প্রাপ্ত টাকা সন্দেহজনক হওয়ার কারণে তা আপনাকে ব্যক্তিগত ব্যবহার করার অনুমতি নেই।
অতএব, করণীয় হলো:
আপনার প্রাপ্ত 2133 টাকা নিজের জন্য হালাল মনে করে খাওয়া জায়েয হবে না। বরং এ টাকা বিনা সওয়াবের নিয়তে (অর্থাৎ এটাকে দান বা সাদাকাহ করার সওয়াব নিজে না নিয়ে) কোনো গরীব-মিসকীনকে দিয়ে দিন অথবা কোনো দ্বীনী প্রতিষ্ঠানে চুপচাপ দিয়ে দিন। এ টাকা দান করে দিলে আপনার কোনো গুনাহ হবে না, বরং এটি আপনার জন্য পবিত্রতা ও পরিত্রাণের কারণ হবে।
জরুরী নোট:
- আপনি যদি ভবিষ্যতে ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখতে চান, তাহলে যে ব্যাংকটি সম্পূর্ণরূপে শরী‘আহ মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত আলেমদের নিকট প্রমাণিত, কেবল সেই ব্যাংকটিতেই অ্যাকাউন্ট খুলবেন।
- অথবা সরাসরি কোনো ইসলামী ব্যাংকে হিসাব না খুলে একটি চলতি (কারেন্ট) অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, যাতে কোনো মুনাফা না আসে। এতে আপনার দ্বীন ও সম্পদ উভয়ই রক্ষা পাবে।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। (আমীন)
সূত্র:
- সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫২
- সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৯
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৫:২৬২
- ফাতাওয়া উসমানী, ২:৪৫৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২:৪৫৯