গরুর ভুড়ির কালো পর্দাটা কি নাপাক?
Food and Drink · Hanafi
Question
গরুর ভুড়ির গোবর পরিষ্কার করার পর গরম পানিতে কিছুখন ডুবিয়ে রাখলে কি এতে নাপাকি প্রবেশের সম্ভবনা আছে?
Answer
উত্তর:
গরুর ভুড়ি (রুমেন) ভিতরের গোবর পরিষ্কার করার পর যে কালো পাতলা পর্দা দেখা যায়, তা নাপাক নয় বরং পাক। এটি ভুড়ির স্বাভাবিক আস্তরণ (inner lining) বা ঝিল্লি, যা গরুর দেহের অংশ। গোবর অপসারণের পর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে এটি সম্পূর্ণ পাক ও ব্যবহারযোগ্য হয়। তবে যদি এটি এতটাই দূষিত হয় যে ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ বা নাপাকির চিহ্ন থাকে, তবে পুনরায় ধৌত করতে হবে।
গরুর ভুড়ি গোবর পরিষ্কার করার পর গরম পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখলে নাপাকি প্রবেশের সম্ভাবনা নেই, যদি আগে ভালোভাবে ধোয়া হয়ে থাকে। তবে যদি ধোয়ার পরও নাপাকির কোনো চিহ্ন থেকে যায়, তবে সেই পানি নাপাক হবে এবং ভুড়ি পুনরায় ধৌত করতে হবে। পরিষ্কার ভুড়ি গরম পানিতে ডোবালে তা নাপাক হয় না।
প্রমাণ ও রেফারেন্স:
وَلَا بَأْسَ بِالْمَعِدَةِ وَالْأَمْعَاءِ إذَا غُسِلَتْ وَطَهُرَتْ”
(রদ্দুল মুহতার, ১/২১৩)
অর্থ: “পাকস্থলী ও অন্ত্র ধুয়ে নিলে তা ব্যবহারে কোনো দোষ নেই।”
قال في الهندية: “أَكْلُ الْكَرِشِ بَعْدَ الْغَسْلِ حَلَالٌ”
(فتاوى هندية، ৫/২৯০)
অর্থ: “ভুড়ি ধোয়ার পর খাওয়া হালাল।”
ইমাম হাসকাফী (রহ.) বলেন: “فإن غسلت طهرت”
(দুররুল মুখতার, ১/২১৩)
অর্থ: “যদি (ভুড়ি) ধৌত করা হয়, তবে তা পাক হয়ে যায়।”
আধুনিক ফতোয়ায়:
“গরু-ছাগলের পেটের ভেতরের অংশ পাক, তবে তা ভালোভাবে পরিষ্কারের পর।” (ফতোয়া উসমানী, ১/২৪০; ইমদাদুল ফতোয়া, ১/১১৩)
সারসংক্ষেপ:
- কালো পর্দাটি ভুড়ির অংশ, নাপাক নয়। ভালোভাবে ধোয়ার পর পাক।
- গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখলে নাপাকি প্রবেশের আশঙ্কা নেই যদি আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয়।
- তবে যদি ধোয়ার পরও নাপাকির গন্ধ বা রং থাকে, তবে ভুড়ি নাপাক থাকবে এবং পুনরায় ধৌত করতে হবে।