তাহাজ্জুদ না উঠতে পারলে ঘুমানোর আগে পড়া যাবে কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
আমি তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য রেগুলার নিয়ত করি এলার্ম দেই কিন্ত একদিনো উঠতে পারি না।
এখন আমি যদি রাতে ঘুমানোর আগে পড়ি তাহলে কি বেতর এর আগে পড়তে হবে।
আবার রাতে ঘুমানোর আগে পড়লে শেষ রাতে উঠতে পারলে তখন ও কি পড়তে পারব।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য নিয়ত ও এলার্ম দেন কিন্তু উঠতে পারেন না। এ অবস্থায় আপনি রাতে ঘুমানোর আগে কিছু নফল পড়তে চান, এবং জানতে চান—
(১) ঘুমানোর আগে পড়লে তা কি বিতরের আগে পড়তে হবে?
(২) ঘুমানোর আগে পড়ার পর যদি শেষ রাতে উঠতে পারেন, তাহলে কি আবার পড়া যাবে?
হানাফি মতে বিস্তারিত উত্তর
১. তাহাজ্জুদ ও বিতরের সময়:
- তাহাজ্জুদ মূলত রাতের শেষ ভাগে (তাহাজ্জুদ অর্থ জাগরণ) ঘুম থেকে জেগে পড়া হয়। তবে যদি আপনি উঠতে না পারেন, তাহলে রাতে ঘুমানোর আগে নফল পড়া জায়েয আছে, তবে সেটি 'তাহাজ্জুদ' না হলেও নফল নামাজের সওয়াব পাওয়া যাবে।
- হানাফি মতে বিতর হলো রাতের শেষ নামাজ। তাই উত্তম হলো— প্রথমে তাহাজ্জুদ পড়ে শেষে বিতর পড়া।
২. ঘুমানোর আগে পড়লে বিতর কখন পড়বেন?
- আপনি যদি ঘুমানোর আগে নফল পড়েন (যাকে আপনি তাহাজ্জুদের নিয়তে পড়ছেন), তাহলে সেই নফলের পরে বিতর পড়ে নিন। কারণ বিতর হলো রাতের শেষ নামাজ।
- তবে হাদিসে এসেছে:
“যে ব্যক্তি ভয় করে যে শেষ রাতে উঠতে পারবে না, সে যেন শুরুতে বিতর পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি নিশ্চিত যে শেষ রাতে উঠবে, সে যেন শেষ রাতে বিতর পড়ে।” (সহীহ মুসলিম)
- যেহেতু আপনি নিয়মিত উঠতে পারছেন না, তাই ঘুমানোর আগে বিতর পড়ে নেওয়াই উত্তম। আর তার আগে কিছু নফল পড়তে পারেন।
৩. ঘুমানোর আগে পড়ার পর যদি শেষ রাতে উঠতে পারেন?
- যদি আপনি ঘুমানোর আগে নফল ও বিতর পড়ে ঘুমান, আর তারপর শেষ রাতে জেগে উঠেন, তাহলে আপনি আবার নফল (তাহাজ্জুদ) পড়তে পারবেন। কিন্তু বিতর পুনরায় পড়া যাবে না—কারণ এক রাতে একবারই বিতর পড়তে হয়।
- তবে আরও উত্তম হলো: শেষ রাতে উঠার সম্ভাবনা থাকলে ঘুমানোর আগে শুধু নফল পড়ুন এবং বিতর না পড়ে জেগে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ে তারপর বিতর পড়ুন। কিন্তু যেহেতু আপনার ক্ষেত্রে উঠা নিশ্চিত নয়, তাই বিতর আগে পড়ে নেওয়াই নিরাপদ।
সারসংক্ষেপ ও সুপারিশ
| পরিস্থিতি | করণীয় | |-----------|--------| | নিয়মিত উঠতে না পারলে | রাতে ঘুমানোর আগে নফল (যত পারবেন) পড়ুন, তারপর বিতর পড়ে ঘুমান। | | শেষ রাতে উঠার সম্ভাবনা থাকলে | ঘুমানোর আগে বিতর না পড়ে শুধু নফল পড়ুন; জেগে উঠে তাহাজ্জুদ ও শেষে বিতর পড়ুন। | | ঘুমানোর আগে নফল ও বিতর পড়ার পর জেগে উঠলে | তাহাজ্জুদের নিয়তে নতুন নফল পড়ুন, বিতর পুনরায় পড়বেন না। |
মূলনীতি:
- ‘আল-হিদায়া’ ও ‘রদ্দুল মুহতার’-এ বর্ণিত আছে: বিতর সময়সীমা এশার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। উত্তম হলো বিতরকে রাতের শেষ নামাজ বানানো। কিন্তু উঠতে না পারার আশঙ্কায় আগে পড়া জায়েয।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তাহাজ্জুদ ঘুমের পর পড়াই বেশি ফজিলতপূর্ণ, তবে ঘুমানোর আগেও নফল পড়া যায়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃ. ১১২)
আপনার জন্য পরামর্শ:
- উঠার জন্য একাধিক এলার্ম দিন, কুরআন তিলাওয়াত শুনে ঘুমান, এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
- যদি একান্তই না উঠতে পারেন, তবে রাতে ঘুমানোর আগে কমপক্ষে ২ রাকাত নফল ও বিতর পড়ে ঘুমান। এতে তাহাজ্জুদের কিছু সওয়াব পাওয়ার আশা থাকবে।
আল্লাহ তাআলা আপনার ইবাদত কবুল করুন এবং তাহাজ্জুদ পড়ার তাওফিক দিন।
রেফারেন্স:
- সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৭৫৫
- রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭-৪৮
- আল-হিদায়া, ১/১৩০
- ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮৫
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৩৪