ডিভোর্স হবার পর পরিবার থেকে দূরে থাকা প্রসঙ্গে

Family Life · Hanafi

Question No: 2153
Questioner: Nuri Fiha
Question Asked: 29 Jun 2026, 08:58 PM
Reviewed & Published: 29 Jun 2026, 09:06 PM
Views: 82
Tokens: 4,645
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, আমার কুফু মিলিয়ে বিয়ে হয়নি,বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নানান ঝামেলা তৈরি হয়,আর ৮ মাসের মধ্যেই ডিভোর্স হয়ে যায়, আমি আমার বাবার বাড়িতে আছি,আমার এ পরিবেশে থাকাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে, সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবারের লোকদের থেকে নানান সমস্যা আর মানসিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, আমার বাবা মা তারা আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে, এদিকে আমার বিয়ে উপযোগী ছোট বোন রয়েছে,তাকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে এক্ষেত্রে আমার দূরে গিয়ে নিজের জন্য আলাদা বাসস্থান আর চাকুরী করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমত, আপনাকে জানাচ্ছি যে, আপনার অবস্থা বুঝতে পেরে আমি সত্যিই দুঃখিত। বিবাহ বিচ্ছেদের পর মানসিক ও সামাজিক চাপ সহ্য করা খুবই কঠিন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য দিন এবং সহজ পথ দেখান।

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, তালাকপ্রাপ্তা মহিলা নিজের স্বামীর বাসায় ইদ্দত পালন করবে।

এক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নেই, তবে কিছু শর্ত স্বাপেক্ষেঃ-

১. ইদ্দতের হুকুম:

তালাকপ্রাপ্তা মহিলার জন্য ইদ্দত (তিন মাসিক বা তিন মাস) পালন করা ফরজ। ইদ্দতের সময় তিনি স্বামীর বাড়িতে থাকবেন, অথবা যদি নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে থাকা সম্ভব না হয়, তাহলে নিজ পিতার বাড়িতে থাকতে পারেন।

২. আলাদা বসবাস ও চাকরি করা:

ইদ্দত পালনের পর আলাদা বাসায় থাকতে পারেন,তার আগে নয়।

ইসলামে নারীর জন্য একাকী বসবাস সাধারণত নিরুৎসাহিত, তবে প্রয়োজনের তাগিদে তা জায়েজ। আপনার পরিস্থিতিতে যদি পিতার বাড়িতে থাকা মানসিক ও সামাজিকভাবে কষ্টকর হয়, এবং আপনি নিজের উপার্জন করে নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারেন, তাহলে আলাদা বাসস্থান ও চাকরি করা জায়েজ ও যুক্তিসঙ্গত হবে।

হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/৬০৪): “নারীদের জন্য নিজের ঘরে অবস্থান করা উত্তম, কিন্তু প্রয়োজনবশত বাইরে কাজ করা জায়েজ, যদি পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা সম্ভব হয়।”
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/২৮৪): “তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি পিতার বাড়িতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে না পারে, তবে নিজের ইচ্ছামতো অন্যত্র বসবাস করতে পারে।”
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২১৫) তে আছে: “প্রয়োজনের তাগিদে নারী নিজের জন্য আলাদা ঘর ভাড়া নিতে পারে এবং চাকরি করতে পারে, যদি তা দ্বীনের সীমার মধ্যে হয়।”

৩. পরিবার ও বোনের ব্যাপারে:

  • আপনার বাবা-মা আপনার জন্য চিন্তিত, এটি স্বাভাবিক। আপনি যদি দূরে গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে তাদের চিন্তাও কমবে।
  • আপনার ছোট বোনের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই, কারণ তার বিয়ের দায়িত্ব আপনার বাবা-মায়ের। আপনার আলাদা থাকার কারণে তাতে কোনো সমস্যা হবে না, বরং আপনার উপস্থিতি সমাজের লোকের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তার বিয়েতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দূরে থাকা উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক হতে পারে।

শর্তসমূহ:

১. চাকরির পরিবেশ যেন ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক হয় (পর্দা, গায়রে মাহরামের সাথে মেলামেশা এড়িয়ে চলা, হালাল রিজিক ইত্যাদি)।
২. আবাসন যেন নিরাপদ ও শালীন হয় (যেমন: মহিলা হোস্টেল বা নিরাপদ এলাকা)।
৩. বাবা-মায়ের সাথে পরামর্শ করে তাদের অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

মনে রাখবেন:

আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করে না।” (সূরা তালাক: ২-৩)

আপনার জন্য দোয়া করছি, আল্লাহ আপনার দুঃখ দূর করুন এবং ভালো পথ দেখান।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.