যিনা বা অবৈধ সম্পর্ক করলে ইমান চলে যায় কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2143
Questioner: Saiful Islam
Question Asked: 29 Jun 2026, 04:04 PM
Reviewed & Published: 29 Jun 2026, 04:10 PM
Views: 69
Tokens: 3,444
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।দুইজন ইসলামিক নামদ্বারি মুসলিম পুরুষ মহিলা গোপনে প্রেম, পরিকিয়া, জিনা বা এমনিতেই কথা বললে পরে ধরা খেলে ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে তওবা না করলে ইমান চলে যাওয়ার আশংকা থাকে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে—দু’জন মুসলিম পুরুষ ও মহিলা গোপনে প্রেম, অবৈধ সম্পর্ক বা যিনায় লিপ্ত হওয়ার পর ধরা পড়ে যাওয়া এবং এর ফলে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া—এগুলোর কারণে কেবল ‘তওবা না করলেই’ ইমান চলে যাওয়ার আশংকা থাকে না। তবে এটি একটি গুরুতর গুনাহ, যা তওবা না করলে আখিরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হবে। ইমান চলে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির বিশ্বাস ও ইচ্ছার ওপর, কেবল গুনাহের কাজ করার ওপর নয়।

হানাফি ফিকহ ও আকিদার মূলনীতি অনুযায়ী:

  • যিনা (ব্যভিচার) বা অবৈধ সম্পর্ক কাবিরা (বড়) গুনাহ, কিন্তু এটি ইমান নষ্ট করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তি এটিকে হালাল মনে না করে বা ইসলামের বিধানকে অস্বীকার না করে। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৬/৪০৬; ফতোয়া হিন্দিয়া, ২/২৭৪)
  • ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া—এটি একটি পৃথক গুনাহ। তবে এর জন্যও তওবা ফরজ। যদি ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে কাজ করে, তবে তা কুফর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় (গোপনে সম্পর্ক ও পরে ধরা পড়া) সাধারণত সেই নিয়ত থাকে না।
  • তওবা না করলে ইমান যায় কি? না। ইমান শুধু বিশ্বাসগত বিষয়ে অস্বীকার বা বিদ্রুপ করলেই যায়। গুনাহ করলেও ইমান থাকে, তবে তা দুর্বল হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত তওবা না করলে আল্লাহর শাস্তি ভোগ করতে হবে। (সূত্র: শরহু আকিদাতিত তাহাবি, পৃ. ৩০৭; ফতোয়া উসমানি, ১/২২৬)

তবে সতর্কতা:
গুনাহতে লিপ্ত থাকা ইমানকে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে কুফর বা ইসলাম থেকে বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই অবিলম্বে তওবা করা ফরজ। তওবার অর্থ: গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া এবং পুনরায় না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

উপসংহার:
প্রশ্নোক্ত পরিস্থিতিতে—যিনা বা গোপনে সম্পর্কের পর ধরা পড়লে—কেবল তওবা না করায় ইমান চলে যাওয়ার আশংকা নেই, তবে গুনাহের কারণে ইমান দুর্বল হওয়ার ও আখিরাতে শাস্তির ভয় আছে। ইমান রক্ষার জন্য অনুতপ্ত হয়ে তওবা করা আবশ্যক। আল্লাহর রহমত অপরিসীম; তিনি তওবা করলে ক্ষমা করেন।

সতর্কীকরণ:
যদি ব্যক্তি গুনাহ করার পর ইসলামের বিধানকে মিথ্যা বলে, বা হালাল মনে করে, বা ধরা পড়ার পর ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে বিদ্রুপ করে, তাহলে তা কুফর হতে পারে। সাধারণ গুনাহ থেকে ইমান যায় না, কিন্তু কুফরি কাজ করলে যায়।

হাদিস:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি যিনা করে, সে যিনাকালীন সময়ে মুমিন থাকে না।” (বুখারি: ২৪৭৫)
এর অর্থ: পূর্ণ ইমানের সাথে গুনাহ একত্রিত হয় না; কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। বরং গুনাহ করার সময় ইমানের পূর্ণতা থাকে না। (ইবনে হাজার, ফাতহুল বারি)

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): ৬/৪০৬, ৪/২৩৬
  • ফতোয়া হিন্দিয়া: ২/২৭৪
  • ফতোয়া উসমানি: ১/২২৬
  • শরহু আকিদাতিত তাহাবি: পৃ. ৩০৭

সর্বোপরি: আল্লাহ তাআলা তওবাকারীকে ভালোবাসেন। তাই তাড়াতাড়ি তওবা করে নিজেকে সংশোধন করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.