গোপনে পরকিয়া ও ইসলামের ভাব মূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২।আব্দুল কুদ্দুস বা মোহাম্মদ আহমেদ লেখা অন্যজনের কিছুতে লেখা থাকে নিচে রাখা তবে মানুষের পারা ঐদিকে যাবেনা। যেহেতু অন্যজনের আমি যদি না তুলি তাকে সতর্ক না করি তাহলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
Answer
উত্তর
প্রশ্ন দুটি পৃথক। নিচে প্রতিটির উত্তর হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবের আলোকে পেশ করা হলো।
প্রথম প্রশ্ন: গোপনে প্রেম, যিনা বা পরকিয়া করে ধরা পড়লে ইমান ও ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে কি?
যিনা (ব্যভিচার) একটি কাবীরা গুনাহ। কুরআনে এসেছে, “আর তোমরা যিনার নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।” (সূরা বনী ইসরাঈল ১৭:৩২) হাদীসে যিনাকে সবচেয়ে বড় গুনাহের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে। (সহীহ বুখারী)
ইমানের ব্যাপার: যিনা করলে ইমান চলে যায় না, যতক্ষণ না যিনাকে হালাল মনে করে। কেননা ঈমান ত্যাগের শর্ত হলো এমন কিছুকে হালাল মনে করা যা কুরআন-সুন্নায় স্পষ্টভাবে হারাম। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও ফিকহের কিতাবে স্পষ্ট: “যিনা বা অন্য কোনো কবীরা গুনাহ করলেও ঈমান বিনষ্ট হয় না, তবে ব্যক্তি ফাসিক ও পাপী হয়।” (রদ্দুল মুহতার ৪/২২৯, আল-হিদায়া ২/৩৫০) তবে যদি কেউ বিশ্বাস করে যে যিনা হালাল, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা ২/২৬৬)
ইসলামের ভাবমূর্তি: গোপন যিনা করলেও যদি তা প্রকাশ পায় এবং অমুসলিম বা অন্যেরা জানতে পারে, তাহলে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুসলিমকে দেখে লোকেরা দ্বীন সম্পর্কে ধারণা করে।” (ইমাম বুখারী, আদাবুল মুফরাদ) তাই মুসলামানদের উচিত নিজেদের কর্মের মাধ্যমে ইসলামের সুন্দর চিত্র তুলে ধরা। কিন্তু ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া ঈমান যাওয়ার শামিল নয়; বরং এটি একটি বাড়তি গুনাহ ও দায়িত্ব। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৯০)
সারসংক্ষেপ: যিনা করলে ঈমান বিনষ্ট হয় না, কিন্তু এটি একটি ভয়াবহ গুনাহ। তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। অন্যের সামনে ধরা পড়লে ইসলাম কলুষিত হয়, সেজন্য গুনাহ আরও বাড়ে। (মা’আরিফুল কুরআন, সূরা নূরের তাফসির)
দ্বিতীয় প্রশ্ন: কারো নাম (আব্দুল কুদ্দুস, মুহাম্মাদ আহমদ ইত্যাদি) নিচে রাখলে ও না তুললে গুনাহ বা ইমানের সমস্যা হবে কি?
নাম লেখা থাকলে বিশেষ করে ‘মুহাম্মাদ’ শব্দটি সম্মানিত। নিচে (মাটিতে বা যেখানে পায়ে পড়ার সম্ভাবনা) রাখা অনুচিত। হাদীসে আছে, “আল্লাহর নাম বা তাঁর নবীর নাম যেখানে অসম্মানিত হতে পারে সেখানে রাখা নিষেধ।” (আবু দাউদ, আদাব) হানাফী ফিকহে স্পষ্ট: “যে স্থানে মানুষের পা পড়ে বা অসম্মানের আশঙ্কা থাকে, সেখানে নাম মুহাম্মাদ লেখা কাগজ রাখা মাকরূহ তাহরীমী।” (রদ্দুল মুহতার ১/২৫২)
আপনার দায়িত্ব: আপনি যদি দেখেন যে ওই নাম নিচে পড়ে আছে এবং সেখানে মানুষের পা পড়ার সম্ভাবনা নেই (আপনি বলেছেন “মানুষের পা ওদিকে যাবে না”), তবে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি সামান্য সম্ভাবনাও থাকে, তাহলে ওঠানো বা সতর্ক করা ওয়াজিব। (বেহেশতী জেওর, সফর-২, আদাব অধ্যায়)
ইমান ও গুনাহের ব্যাপার: আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে উদাসীন থাকেন এবং অসম্মান হতে দেন, তবে আপনি গুনাহগার হবেন। ইমান চলে যাবে না, তবে এটি একটি গুনাহ। বিশেষ করে ‘মুহাম্মাদ’ নাম হলে সতর্কতা বাধ্যতামূলক। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন, “যে ব্যক্তি নবীর নামের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখায়, সে দীনের প্রতি উদাসীন।” (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা ৫/৩৩৪)
সারসংক্ষেপ: যেখানে নিরাপদ, সেখানে রাখা জায়েজ। কিন্তু অসম্মানের ভয় থাকলে তা ওঠানো জরুরি। না করলে গুনাহ হবে, ইমান থাকবে কিন্তু তাওবা করা আবশ্যক।
সর্বশেষ উপদেশ: উভয় অবস্থায়ই তৎপর হওয়া উচিত। প্রথম প্রশ্নে: যিনা থেকে বেঁচে থাকা এবং তাওবা করা ও সংশোধন করা। দ্বিতীয় প্রশ্নে: সম্মানিত নাম সম্মানের স্থানে রাখা এবং অন্যদের সতর্ক করা।
আল্লাহ সর্বশক্তিমান আমাদের ক্ষমা করুন ও সঠিক পথ দেখান।