গর্ভবতী মহিলার জন্য কুরআন-সুন্নাহর রুকইয়া
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: গর্ভবতী মহিলার জন্য রুকইয়া ও দোয়া
হ্যাঁ, গর্ভবতী মহিলার জন্য কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নির্দিষ্ট কিছু রুকইয়া (দোয়া ও আয়াত) রয়েছে যা পড়ে মহিলা নিজে বা অন্য কেউ তার ওপর ফুঁ দিতে পারেন। এগুলো গর্ভকালীন অসুস্থতা, কষ্ট, ঝুঁকি থেকে রক্ষা এবং নিরাপদ সন্তান জন্মদানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। তবে শরিয়তসম্মত রুকইয়া অবশ্যই কুরআন, হাদিস ও বিশুদ্ধ দোয়া দ্বারা হতে হবে; কোনো জাদু, তাবিজ, অন্ধবিশ্বাস বা শিরকমিশ্রিত পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।
গর্ভবতী মহিলার জন্য কুরআন ও হাদিসের দোয়া
১. সূরা ফাতিহা ও আয়াতুল কুরসি
গর্ভবতী মহিলা নিজে বা তার স্বামী প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে পেটের ওপর ফুঁ দেবেন। এটি সর্বপ্রকার ক্ষতি ও অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে।
২. সূরা ইউসুফ ও সূরা মারিয়াম
হাদিস ও বুজুর্গানে কেরামের আমল অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলার জন্য সূরা ইউসুফ (সুন্দর সন্তানের জন্য) এবং সূরা মারিয়াম (নিরাপদ প্রসবের জন্য) পড়া বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো হাদিস নেই, বরং এটি আমল হিসেবে প্রসিদ্ধ।
৩. দোয়া: "বিসমিল্লা-হিল্লাজী লা ইয়াদুররু মাআসমিহী শাই’উন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই ওয়া হুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম"
এই দোয়া সকাল-সন্ধ্যা তিনবার পড়লে সেদিন পর্যন্ত সব বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।
৪. সন্তান প্রসবের সময় দোয়া
সন্তান জন্মের সময় সূরা ফাতিহা ও নিচের দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করালে সহজ হয়:
(رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنْثَىٰ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ الذَّكَرُ كَالْأُنْثَىٰ) [সূরা আলে ইমরান: ৩৬]
এছাড়া প্রসবকালীন ব্যথায় নিচের দোয়া পড়ে পেটে হাত রাখা যায়:
(لَّا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَّا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَّا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ) (বুখারি)।
৫. সাধারণ রুকইয়া পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থ ব্যক্তির ওপর সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন (বুখারি)। তাই গর্ভবতী মহিলার পেটে হাত রেখে এ সূরাগুলো পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নত।
৬. পানি বা জমজমের ওপর পড়া
উপরের দোয়া ও আয়াতগুলো পানি বা অলিভ অয়েলের ওপর পড়ে তা পান করানো বা পেটে মালিশ করাও রুকইয়ার অন্তর্ভুক্ত।
হানাফি কিতাবের উল্লেখযোগ্য রেফারেন্স
- বাহেশ্তি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রহ.) : চতুর্থ অধ্যায়ে গর্ভবতী মহিলার জন্য দোয়া ও আমলের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বিশেষ করে সূরা ইউসুফ ও মারিয়াম পড়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) : রুকইয়া প্রসঙ্গে বলেন, কুরআন-হাদিসের দোয়া দ্বারা রুকইয়া করা জায়েজ এবং তা কার্যকর হয়।
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) : রুকইয়া সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর কালাম ও সহিহ হাদিসের দোয়া দ্বারা চিকিৎসা করা জায়েজ।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া : গর্ভবতী মহিলার জন্য নিরাপত্তামূলক দোয়া ও সূরা ফাতিহার ফজিলত উল্লেখ আছে।
- মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি) : সূরা মুরসালাতের তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভস্থ শিশুর হাড় ও গোশত সৃষ্টির সময় এই সূরা পড়া উপকারী।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
১. রুকইয়া শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করেই করতে হবে, তাবিজ-কবচ, অশুভ বিশ্বাস বা অজ্ঞাত শক্তির সাহায্য নেওয়া যাবে না।
২. অসুস্থতা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ওষুধ ও চিকিৎসাও ইসলামের নির্দেশ। রুকইয়া তারই পরিপূরক।
৩. সন্তান জন্মের পূর্বে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা মুমিনের কাজ।