সফর অবস্থায় নামাজ কসর করা কি বাধ্যতামূলক?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 2107
Questioner: Tarika Ahamed
Question Asked: 28 Jun 2026, 09:43 AM
Reviewed & Published: 28 Jun 2026, 09:48 AM
Views: 91
Tokens: 4,155
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সফরের দূরত্ব ১৫দিনের কম অবস্থান করলে কি নামাজ কসর করা বাধ্যতামূলক?? পরিপূর্ণ সলাত আদায় করলে কোন সমস্যা হবে কি?

Answer

উত্তর: সফরে নামায কসর করার বিধান

প্রশ্নে উল্লেখিত "১৫ দিনের কম অবস্থান" বলতে সাধারণত এক স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা বুঝানো হয়। আর সফরের দূরত্ব (শর‘ঈ সফর) আলাদা। হানাফি মতে, শর‘ঈ সফরের দূরত্ব হলো প্রায় ৭৭ কিমি (৪৮ মাইল) বা তার বেশি। যদি কেউ এই দূরত্ব অতিক্রম করে সফর করে এবং কোনো স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা করে, তাহলে সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হবে এবং তার জন্য কসর (চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়া) ওয়াজিব

১. কসর করা কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী মুসাফিরের জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয (যোহর, আসর, ইশা) কসর করে পড়া ওয়াজিব (প্রায় বাধ্যতামূলক)। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা মুস্তাহাব নয়; বরং এটি একটি অবশ্য পালনীয় বিধান। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ নামায পড়ে, তাহলে তা মাকরূহ তাহরীমী হবে এবং গুনাহ হবে। তবে নামায আদায় হয়ে যাবে (সহীহ হবে)।

প্রমাণ:

  • কুরআন: ﴿وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ﴾ (সূরা নিসা: ১০১) – “যখন তোমরা জমিনে সফর কর, তখন নামায কসর করাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।” এখানে ‘গুনাহ নেই’ শব্দটি আযীমত (পূর্ণ কর্তব্য) থেকে রুখসত (ছাড়) বোঝায়, যা মুসাফিরের জন্য উত্তম ও আবশ্যক বলেই হানাফি ফুকাহা ব্যাখ্যা করেছেন।
  • হাদীস: ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “মুসাফিরের জন্য নামায কসর করা সুন্নত (অনুসৃত পদ্ধতি)।” (সহীহ মুসলিম)
  • ফাতাওয়া উসমানী: “মুসাফিরের জন্য চার রাকাত ফরয দুই রাকাত পড়া ওয়াজিব। যদি পূর্ণ চার রাকাত পড়ে, তবে নামায সহীহ হলেও সে মাকরূহ তাহরীমী হবে এবং গুনাহগার হবে।” (ফাতাওয়া উসমানী, ৪/২৩৩)

২. পূর্ণ (চার রাকাত) নামায পড়লে সমস্যা কী?

ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ চার রাকাত পড়লে সেক্ষেত্রে ২য় রাকাতে বৈঠক করলে নামায সহীহ হয়ে যাবে,তবে তা **মাকরূহ। তাই কসর করাই উচিত।

রদ্দুল মুহতার (আলাউদ্দিন হাসকাফী ও ইবনু আবেদীন) গ্রন্থে বলা হয়েছে:
“মুসাফিরের জন্য কসর ওয়াজিব; পূর্ণ পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তবে নামায সহীহ।” (রদ্দুল মুহতার, ২/১২১)

৩. সফরের দূরত্ব ও অবস্থানের সময়সীমা

  • সফরের দূরত্ব: শুর‘ঈ সফর = প্রায় ৭৭ কিমি (৪৮ মাইল) বা তার বেশি।
  • অবস্থানের সময়: যদি কোনো স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার ইচ্ছা থাকে, তবে সে মুকীম (স্থানীয়) গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামায পড়বে।
  • যদি ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা থাকে, তবে সে মুসাফিরই থাকবে এবং কসর করবে।
  • সফর অবস্থায় কসর করা থেকে বিরত থাকার কোনো বৈধ কারণ নেই (যেমন ইমামের পিছনে পড়া ছাড়া)।

৪. ব্যতিক্রম (কখন পূর্ণ পড়তে হয়)

মুসাফির যদি মুকীম ইমামের পিছনে নামায পড়ে, তবে তাকে পূর্ণ চার রাকাত পড়তে হবে। অথবা নিজে ইমাম হলে এবং পিছনে কোনো মুকীম মুক্তাদি থাকলে, তাকে পূর্ণ পড়তে হবে। এসব ক্ষেত্রে কসর জায়েয নয়।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

প্রশ্ন: সফরের দূরত্ব ১৫ দিনের কম অবস্থান করলে কি নামাজ কসর করা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব)। আপনি যদি শর‘ঈ সফর (প্রায় ৭৭ কিমি) করেন এবং কোনো স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার ইচ্ছা করেন, তবে যোহর, আসর ও ইশার ফরয দুই রাকাত পড়া আবশ্যক

প্রশ্ন: পরিপূর্ণ সালাত আদায় করলে কোনো সমস্যা হবে কি?
উত্তর: ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ চার রাকাত পড়লে সেক্ষেত্রে ২য় রাকাতে বৈঠক করলে নামায সহীহ হয়ে যাবে,তবে তা **মাকরূহ। তাই কসর করাই উচিত।

হানাফি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ (রদ্দুল মুহতার, আল-হিদায়া, ফাতাওয়া উসমানী, বেহেশতী জেওর) থেকে এই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.