এইচএসসি পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে আগের ছবি থাকা এবং পর্দার বিধান।
Halal and Haram · Hanafi
Question
সমস্যা হলো, কলেজে ভর্তির সময় আমি নবম-দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থার একটি ছবি জমা দিয়েছিলাম। বর্তমানে আমার এইচএসসির (HSC) রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং অ্যাডমিট কার্ডে ওই ছবিটিই রয়ে গেছে। এখন পরীক্ষার হলে যখন শিক্ষকরা (যাঁদের মধ্যে নন-মাহরাম পুরুষও থাকবেন) প্রবেশপত্র বা খাতা যাচাই করতে আসবেন, তখন স্বভাবতই ছবিটি তাঁদের চোখে পড়বে।
এই পরিস্থিতির কারণে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই বলে এখন আমি বেশ চিন্তিত। এই ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা ও সমাধান কী?
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমেই আপনার বর্তমান দ্বীনি অবস্থা এবং পর্দা মেইনটেইন করার ব্যাপারে আন্তরিকতার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আলহামদুলিল্লাহ, আপনি বর্তমানে পূর্ণ পর্দা করছেন—এটি একটি বড় নেয়ামত ও সৌভাগ্যের বিষয়।
এখন আপনার প্রশ্নের জবাব:
আপনার এই বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কোনো গুনাহ হবে না, ইনশাআল্লাহ। কারণ বিষয়টি আপনার ইচ্ছাধীন বা আপনার নিয়ন্ত্রণে নয়। অতীতে যখন আপনি ছবি জমা দিয়েছিলেন, তখন হয়তো আপনি দ্বীনের ব্যাপারে সেভাবে সচেতন ছিলেন না, কিন্তু সেই ছবিটি এখন কেবল আপনার অ্যাডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কাগজেই সীমাবদ্ধ। এটি আপনার বর্তমান পর্দার আমলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না এবং এর জন্য কোনো গুনাহও সাব্যস্ত হবে না, যেহেতু এটি অপসারণ বা পরিবর্তনের ক্ষমতা আপনার নেই।
শরয়ী দৃষ্টিকোণ:
ইসলামে গুনাহ তখনই হয় যখন কোনো কাজ ইচ্ছাকৃত ও সচেতনভাবে করা হয়, অথবা কোনো গুনাহের কাজ বন্ধ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সে বন্ধ না করে। আপনার এখানে দুইটি বিষয় লক্ষণীয়:
-
ছবি দেওয়ার সময় আপনার অবস্থা: আপনি নিজেই বলেছেন, তখন আপনি নবম-দশম শ্রেণীতে পড়তেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে গাফিলতি ছিল। তখন ছবি জমা দেওয়া আপনার পক্ষ থেকে কোনো গুনাহের ইচ্ছা ছিল না। এটি ছিল একটি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগত প্রক্রিয়ার অংশ। তাই অতীতের জন্য আপনার তওবা করাই যথেষ্ট, এবং আলহামদুলিল্লাহ, আপনি বর্তমানে পর্দা করছেন।
-
বর্তমান পরিস্থিতি: এখন আপনার অ্যাডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কাগজে সেই ছবি বিদ্যমান থাকায় শিক্ষকদের (নন-মাহরাম পুরুষসহ) তা দেখতে পাওয়ার বিষয়টি আপনার পূর্ণ ইচ্ছাধীন নয়। আপনি যদি ছবি তোলা বা প্রদর্শনের ইচ্ছা না করে থাকেন, তবে এর জন্য আপনি দায়ী হবেন না। কুরআনে এসেছে:
"আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতীত বোঝা দেন না।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)
এবং হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি ও বাধ্যকৃত অবস্থার (গুনাহ) মার্জনা করে দিয়েছেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৫)
সমাধান ও পরামর্শ:
যেহেতু এটি আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই এতে আপনার কোনো চিন্তার কারণ নেই। তবে আপনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো করতে পারেন:
- তওবা ও ইস্তিগফার: আপনি যদি মনে করেন অতীতে কোনো ত্রুটি হয়েছে, তাহলে তওবা করুন। আল্লাহ তওবা কবুল করেন। আপনার বর্তমান পর্দার আমল আপনার অতীতের ভুলগুলো ঢেকে দেবে, ইনশাআল্লাহ।
- মনে রাখুন: এখন আপনি সেটা পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং নতুন করে কোনো ছবি জমা দেয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আপনি চাইলে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার বর্তমান পর্দার ছবি জমা দেয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ করতে পারেন—তবে সেটা কোনো বাধ্যতামূলক করণীয় নয়।
- ইসলামের প্রশস্ততা: ইসলাম খুব সহজ এবং রহমতের দ্বীন। আপনার বর্তমান ইখলাস ও দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আপনাকে অযথা দুশ্চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই।
সংক্ষেপে:
- গুনাহ হবে না, কারণ বিষয়টি আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি বাধ্যতামূলক পরিস্থিতি।
- অতীতের জন্য তওবা করুন, বর্তমানের পর্দা ধরে রাখুন।
- ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন—আপনার নিজের কোনো ছবি যাতে অপ্রয়োজনে বা নন-মাহরামের সামনে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার সকল ভালো কাজ কবুল করুন এবং দ্বীনের পথে আরও শক্তিশালী করুন। আমিন।