ইসলামী ফিকহে ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে কম ভাড়ায় থাকার পদ্ধতি জায়েজ কিনা?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2067
Questioner: Muhammad Rashed
Question Asked: 26 Jun 2026, 05:14 PM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 05:29 PM
Views: 140
Tokens: 4,643
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
ক ব্যাক্তি খ ব্যাক্তির ফ্ল্যাট বন্ধক নিল, যেহেতু প্রচলিত নিয়ম হারাম, তাই ফ্ল্যাটে থাকার জন্য ক ব্যাক্তির সাথে খ ব্যাক্তি আলোচনা সাপেক্ষে একটা ভাড়া নির্ধারণ করলো, যেখানে বর্তমান ভাড়া ২০/২২ সেখানে হয়তো ৫/৬ এর ভিতরে হয়তো ভাড়া বা তারও কম বেশি, আর সাথে কারেন্ট, পানি, গ্যাস বিল ক ব্যাক্তি পরিশোধ করবে। যখন খ ব্যাক্তি ক ব্যাক্তির টাকা পরিশোধ করবে তখন ক ব্যাক্তি তার ফ্ল্যাট ছেড়ে দিবে।

এই পদ্ধতি কি জায়েজ হবে কিনা জানালে ভালো হয়

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতি জায়েজ নয়। কারণ এটি একটি বন্ধক (রাহ্ন) চুক্তির সাথে ভাড়া (ইজারা) চুক্তির মিশ্রণ, যেখানে ভাড়া বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি পরোক্ষভাবে সুদের (রিবা) সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং হানাফী ফিকহ অনুযায়ী বৈধ নয়।

হানাফী ফিকহের দলিল ও বিশ্লেষণ:

১. বন্ধক (রাহ্ন) ও ভাড়া (ইজারা) এর শর্তাবলী:

  • বন্ধককৃত সম্পত্তি (ফ্ল্যাট) থেকে বন্ধক গ্রহীতা (মুর্তাহিন, এখানে ‘ক’) কোনো প্রকার উপকার নিতে পারে না, যতক্ষণ না ঋণদাতা (রাহিন, এখানে ‘খ’) অনুমতি দেয়। তবে অনুমতি দিলেও ভাড়া বাজারমূল্যের সমান বা ন্যায্য হতে হবে। (রদ্দুল মুহতার, ৫/৩২৩; আল-হিদায়া, ৩/২৩১)
  • ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন: "যদি মুর্তাহিন বন্ধককৃত জিনিস ব্যবহার করতে চায়, তাহলে একে অপরের সাথে কোনো লাভ-ক্ষতি ছাড়াই সম্মত হতে হবে।" (শারহু মা'আনিল আসার, ২/৪০)

২. কম ভাড়া নির্ধারণের হুকুম:

  • এখানে বাজারমূল্য ২০/২২ টাকা হলেও ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫/৬ টাকা বা তারও কম। এটি বন্ধক গ্রহীতার জন্য স্পষ্ট সুবিধা, যা সুদের শামিল। কারণ বন্ধক গ্রহীতা টাকা ধার নিয়ে কম ভাড়ায় সম্পত্তি ভোগ করছে, যা সরাসরি "কর্জে মানফআত" (ঋণের বিনিময়ে উপকার) নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৫০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩২)

৩. শর্ত পরিহার করার প্রয়োজনীয়তা:

  • হানাফী ফকিহগণ বলেন: "বন্ধক ও ভাড়ার চুক্তি পৃথক হতে হবে এবং ভাড়া বাজারমূল্যের অধীনস্থ হতে হবে। অন্যথায় এটি মাকরূহ তাহরিমি (হারামের কাছাকাছি) হবে।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, ৪/৪৫; বাহিশতি জেওর, ২/২৩)

সমাধান ও বিকল্প পদ্ধতি:

  • যদি ‘ক’ ব্যক্তি ফ্ল্যাটে থাকতে চায়, তাহলে বন্ধক বাতিল করে পৃথক ভাড়া চুক্তি করতে হবে। ভাড়া বাজারমূল্যের কাছাকাছি হবে এবং ‘খ’ ব্যক্তি আলাদাভাবে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।
  • অথবা পুনঃক্রয়ের শর্তে বিক্রয় (বাই’ বিল ওয়াফা) বা লিজ এন্ড লিজ ব্যাক (Islamic Lease to Own) এর মতো বৈধ ইসলামিক পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে, যেখানে কোনো সুদ বা অস্বাভাবিক শর্ত না থাকে।

সতর্কতা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“প্রত্যেক ঋণ যা উপকার নিয়ে আসে, তা সুদ।” (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, ৫/৩৫০)
অতএব, এমন লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি।

সারসংক্ষেপ:
প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতি (বন্ধক রেখে কম ভাড়ায় থাকা ও বিল নিজে প্রদান) জায়েজ নয়। কারণ এটি সুদের সন্দেহ সৃষ্টি করে ও হানাফী ফিকহের মতে নিষিদ্ধ। বিকল্প বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করাই নিরাপদ।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.