স্বামী কীভাবে স্ত্রীকে পর্দার গুরুত্ব বোঝাবে?
Family Life · Hanafi
Question
এই ব্যাপারে স্বামীর কি করা উচিৎ?
Answer
স্ত্রীর পর্দা সংক্রান্ত অসচেতনতা ও স্বামীর করণীয়
প্রশ্নের উত্তর
স্বামীর জন্য করণীয় নিম্নরূপ:
১. ধৈর্য ও কোমল আচরণ বজায় রাখা
স্ত্রী দ্বীনের জ্ঞানে কম হলেও পর্দা পালনে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে স্বামীর উচিত ধৈর্য ধরা এবং কঠোরতা না দেখানো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।" (তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
২. ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা দেওয়া
স্ত্রী যখন পর্দায় অসচেতন হয়, তখন স্বামী কর্তব্য:
- কোরআনের আয়াত ও হাদিসের আলোকে বুঝানো: সূরা নূরের ৩০-৩১ আয়াত ও সূরা আহযাবের ৫৯ আয়াত তিলাওয়াত করে অর্থ বুঝিয়ে বলা।
- ইতিবাচক উৎসাহ দেওয়া: "তুমি যখন পর্দা করো, তখন তোমাকে খুব সুন্দর লাগে" - এ ধরনের প্রশংসা করে উৎসাহিত করা।
- ধীরে ধীরে শেখানো: একসাথে সবকিছু শেখানোর চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে শিক্ষা দেওয়া।
৩. নিজে উদাহরণ সৃষ্টি করা
স্বামী নিজে যদি পর্দার বিষয়ে সচেতন থাকেন এবং নিজের দৃষ্টি নিচু রাখেন, তাহলে স্ত্রীর উপর এর প্রভাব পড়বে। পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বামীর আমল স্ত্রীকে প্রভাবিত করে।
৪. দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টি করা
বাড়িতে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামি আলোচনা ও দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা স্ত্রীকে পর্দা ও অন্যান্য দ্বীনি বিষয়ে সচেতন করতে সহায়ক।
৫. ইসলামি বই-পুস্তক ও ভিডিও সরবরাহ করা
পর্দার ফজিলত ও বিধান সম্পর্কে সহজবোধ্য বই বা ভিডিও উপহার দেওয়া যেতে পারে। যেমন: "পর্দার বিধান" (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.), অথবা "বেহেশতি জেওর" (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এর পর্দা সংক্রান্ত অধ্যায়।
৬. ধৈর্য সহকারে দোয়া করা
স্বামী উচিত নিয়মিত দোয়া করা যাতে আল্লাহ তার স্ত্রীকে পর্দাসহ সকল দ্বীনি আমলে পূর্ণ সচেতনতা দান করেন।
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) এ উল্লেখ আছে:
"স্বামীর জন্য তার স্ত্রীকে পর্দা ও অন্যান্য দ্বীনি বিধান শেখানো ওয়াজিব। যদি স্ত্রী না মানে, তবে স্বামী তাকে নরমভাবে বোঝাবে। কঠোরতা করবে না।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)
ফাতাওয়া হিন্দিয়া তে এসেছে:
"স্বামী যদি দেখে যে তার স্ত্রী পর্দা বা অন্য কোনো ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘন করছে, তবে তাকে নাসীহাত করবে। যদি না শোনে, তবে তাকে ভয় দেখাবে। কিন্তু মারপিট বা কঠোর আচরণ বৈধ নয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/৪০০)
গুরুত্বপূর্ণ নোট
- অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করা: স্ত্রীকে অতিরিক্ত চাপ দিলে মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
- স্ত্রীর ভালো দিকগুলোর প্রশংসা করা: তিনি পর্দা করেন এবং দ্বীনের প্রতি আগ্রহী - এ জন্য তার প্রশংসা করুন।
- দ্বীনের জ্ঞান বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা: তাকে একটি ইসলামি পরিবেশে নিয়ে যাওয়া, দ্বীনি মাহফিলে শামিল করানো ইত্যাদি।
সংক্ষেপে করণীয়
| করণীয় | পদ্ধতি | |--------|--------| | ধৈর্য ও কোমলতা | কঠোরতা না করে নরম ভাষায় বোঝানো | | শিক্ষা দান | কোরআন-হাদিসের আলোকে বুঝানো | | উদাহরণ সৃষ্টি | নিজে পর্দা ও ইসলামি আদর্শ মেনে চলা | | উৎসাহ দান | ভালো কাজের প্রশংসা করা | | দোয়া করা | আল্লাহর নিকট স্ত্রীর হেদায়েত কামনা |
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পর্দাসহ সকল দ্বীনি বিধান পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।