গরু বর্গা দিয়ে রাখার পর মালিকের অনুমতি ছাড়া বিক্রি করলে করণীয় কী?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2051
Questioner: Amina khatun
Question Asked: 26 Jun 2026, 10:53 AM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 11:19 AM
Views: 73
Tokens: 10,399
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকা তুহ উস্তায। আমার বান্ধবী নীচের প্রশ্নটি পাঠিয়েছেন। প্রশ্নটি হলোঃ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকা তুহ।একজন বোনের পক্ষ থেকে প্রশ্নটি।

আমার আম্মু একজনের থেকে একটা গরু কিনে ৬৫০০০ হাজার টাকায়।তখন গরুটার ৩ মাস বাচ্চা পেটে ছিল।যার থেকে গরু কিনা হয় তাদেরকেই বর্গা দেয়া হয়।গরু কিনার ৭ মাস পর বাচ্চা হয়।বাচ্চা মারা যায়।বাচ্চা হওয়ার কারনে গরুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে।এই ৭ মাসে আমাদের ৫ হাজার টাকার মতো খরচ যায়।উনাদের ও কিছু খরচ গিয়েছে।পরবর্তীতে উনারা আমাদের কে না জানিয়েই গরুটা বিক্রি করে দেয়।বিক্রি করার পর জানায় যে গরুটা তারা ৫১ হাজার দিয়ে বিক্রি করেছে এবং সেই টাকাও খরচ করে ফেলেছে। বিষয় টা জানার পর আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়,যে আমরা গরুটাকে ডক্টর দেখাতাম চিকিৎসা দিতাম।বা নিজের লোক রেখে বিক্রি করতাম।উনারা যে ৫১ হাজারে বিক্রি করেছে বলছে তার প্রমান কি?তাই আমার আম্মু উনাদের বলেছে আমি আপনাদের থেকে যে দামে কিনেছি মানে ৬৫০০০ সেই দাম ই আমাকে ফেরত দিতে হবে।আমার আর ও ৫০০০ বেশি গেছে।উনারা তখন বলেছেন আমরা ৪/৫ হাজার কম দিতে চাই।আম্মু বলেছেন কম নিতে পারব না।উনারা তখন সেটাতেই রাজি হয়েছেন।এখন এই কথা হওয়ার ও প্রায় ৬/৭ মাস হয়ে গেছে।৩ মাস পর উনারা ৩৫ হাজার ফেরত দিয়েছে।এখন বলেছে কয়েকদিনের মধ্যে বাকিটা দিবে।এখন আম্মুর প্রশ্ন,

উনারা যেহেতু আম্মুকে না জানিয়ে বিক্রি করেছে,তাই আম্মু উনাদের থেকে ৬৫০০০ হাজার টাকাই চেয়েছে এটা কি জায়েজ হবে কিনা?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শরী‘আতের বিধান হলো:

প্রথমত, আপনার আম্মু একটি গরু ক্রয় করার পর যে ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছিলেন তাকেই ‘বর্গা’ (অর্থাৎ ভাগচাষ বা শেয়ারক্রপিং) দিয়েছেন। এতে গরুটির মালিকানা আপনার আম্মুর কাছেই থাকে এবং বর্গাদার শুধু তত্ত্বাবধান ও পরিচর্যার দায়িত্বে থাকে, সে একজন আমীন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) হিসেবে গণ্য হয়।

দ্বিতীয়ত, বর্গাদার মালিকের অনুমতি ছাড়া গরুটি বিক্রি করে দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ। এটি আমানতের খিয়ানত (বিশ্বাসভঙ্গ)। এই ধরনের অবৈধ বিক্রয় শরী‘আতে বাই‘ ফুযূলী (অননুমোদিত ব্যক্তির বিক্রয়) বলে গণ্য হয়। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, মালিক যদি এই বিক্রয়কে অনুমোদন না করেন, তাহলে বিক্রয় বাতিল হয়ে যায় এবং বর্গাদার ক্রেতার কাছ থেকে গরুটি ফেরত নেওয়ার দায়িত্বে থাকে। কিন্তু যেহেতু গরুটির মূল্য ক্রেতা দিয়ে ফেলেছেন এবং টাকা খরচ করে ফেলেছেন, তাই বর্গাদার যেহেতু খিয়ানতকারী (متعدي) হয়ে গেছেন, তিনি গরুটির মূল্য আদায়ের জন্য দায়ী।

তৃতীয়ত, হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে:

إذا باع الوديع الوديعة بغير إذن المالك صار ضامناً بقيمتها يوم البيع
“যদি আমানতদার মালিকের অনুমতি ছাড়া আমানত বিক্রি করে দেয়, তাহলে সে বিক্রির দিনের মূল্যের জামিন (দায়ী) হবে।”
(রদ্দুল মুহতার, ৫/১৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ৩/২২১)

অর্থাৎ বর্গাদার তার অবৈধ বিক্রির সময় গরুটির যে বাজারমূল্য (মূল্যায়িত দাম) ছিল, তা পরিশোধ করতে বাধ্য। এটি মালিকের প্রাপ্য। এখানে আপনার আম্মু গরুটির জন্য যে ৬৫,০০০ টাকা দিয়েছিলেন, তা ক্রয়ের সময়ের মূল্য; কিন্তু গরুটি অসুস্থ অবস্থায় বিক্রি করা হয়েছে, ফলে বিক্রির সময় তার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। তাই পুরো ৬৫,০০০ টাকা দাবি করা শরী‘আতসম্মত নয় যদি না বর্গাদার স্বেচ্ছায় সেটি দিতে রাজি হয়।

তবে আপনার আম্মু বর্গাদারের কাছে আরও যে ৫,০০০ টাকা গরুর চিকিৎসায় খরচ করেছেন, সেটি যদি বর্গা চুক্তি অনুযায়ী বর্গাদারের দায়িত্ব ছিল (যেমন সাধারণত বর্গাদার গরুর খরচ বহন করে), তাহলে সেই টাকাও দাবি করা যেতে পারে। কিন্তু এখানে আপনার আম্মু শুধু ৬৫,০০০ টাকা দাবি করেছেন, যা ক্রয়মূল্য।

এখন বর্গাদার প্রথমে কিছু কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরে আপনার আম্মুর দাবি মেনে নিয়ে ৬৫,০০০ টাকা দিতে রাজি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ৩৫,০০০ টাকা পরিশোধ করেছে, বাকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অবস্থায় বর্গাদারের সম্মতি সাপেক্ষে এই চুক্তি একটি সুলহ (আপস-নিষ্পত্তি) হিসেবে গণ্য হয় এবং তা জায়েয। কারণ ফিকহের কিতাবে আছে:

الصلح جائز بين المسلمين إلا صلحاً أحل حراماً أو حرم حلالاً
“মুসলিমদের মধ্যে সুলহ (আপস) জায়েয, তবে যে সুলহ হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল করে তা জায়েয নয়।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৯৪; মিশকাত, পৃষ্ঠা ২৮৬)

এখানে বর্গাদার নিজের ইচ্ছায় আরও বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তার ওপর ঋণস্বরূপ বর্তায়। তবে আপনার আম্মুর জন্য উত্তম হলো ন্যায্য বাজারদর নির্ণয় করে সেই টাকা নেওয়া এবং বর্গাদারের ওপর বাড়তি চাপ না দেওয়া। যদি বর্গাদারের রাজি হওয়া সত্ত্বেও আপনি মনে করেন যে বর্গাদার জোর বা লজ্জায় রাজি হয়েছে, তাহলে আপনি তাকে বলতে পারেন: “শরী‘আতে আমার প্রাপ্য হলো গরুটির বিক্রির দিনের বাজারমূল্য, সেটা নির্ণয় করে নিন। যদি তা ৬৫,০০০ টাকার চেয়ে কম হয়, তাহলে বাকি অংশ ফেরত দেওয়া আপনার জন্য উত্তম।”

সারকথা:

  • বর্গাদারের অনুমতি ছাড়া গরু বিক্রি করা গুনাহ এবং তিনি দায়ী।
  • আপনার আম্মু শুধু ক্রয়মূল্য ৬৫,০০০ টাকা দাবি করছেন; এটি জায়েয হবে না যদি তা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি হয়।
  • যেহেতু বর্গাদার রাজি হয়েছে, তাই এখন তা একটি চুক্তিতে পরিণত হয়েছে। সে হিসেবে বাকি টাকা নেওয়া জায়েয, তবে উত্তম হলো ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে তা নেওয়া বা অতিরিক্ত মাফ করে দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা উভয় পক্ষকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং এই বিষয়টি ন্যায়পরায়ণতার সাথে মীমাংসা করার তাওফীক দিন। (আমীন)

প্রাসঙ্গিক হানাফী কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (فتاوی شامی) ৫/১৩৪
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা ৩/২২১
  • ফাতাওয়া উসমানী ২/২৮৩
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/৩৫৪

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.