অনলাইনে গায়রে মাহরাম পুরুষ বিক্রেতার সাথে কেনাকাটা সংক্রান্ত কথা বলা কি জায়েজ?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2044
Questioner: Queen
Question Asked: 26 Jun 2026, 06:16 AM
Reviewed & Published: 26 Jun 2026, 06:24 AM
Views: 49
Tokens: 4,034
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। অনলাইন কেনাকাটায় গাইরে মাহরাম পুরুষ বিক্রেতার সাথে কেনাকাটা সংক্রান্ত কথা বলা কি গুনাহ হবে?
অনেক সময় কেনাকাটা জরুরি না হলেও শখের বসে কিনতে চাওয়ার কারণে কিংবা পণ্যের এ্যাড দেখে ভালো লাগার কারণে অনলাইনে গাইরে মাহরাম পুরুষ বিক্রেতার সাথে শুধুমাত্র কেনাকাটা জনিত কথা বলা / আলাপ করা কি জায়েজ?

Answer

উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন: অনলাইনে কেনাকাটার সময় গায়রে মাহরাম (অনার mahram) পুরুষ বিক্রেতার সাথে শুধুমাত্র কেনাকাটা সংক্রান্ত কথা বলা বা আলাপ করা কি গুনাহ? বিশেষ করে যখন কেনাকাটাটি জরুরি নয়, বরং শখ বা পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে ভালো লাগার কারণে করা হয়, তখন কী হুকুম?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

মূলনীতি

ইসলামে পুরুষ ও নারীর মধ্যে পর্দার বিধান কঠোর। গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, বিশেষত যখন তাতে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তা জায়েজ নয়। তবে প্রয়োজনবশত যেমন কেনাকাটা, চিকিৎসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে কথা বলা জায়েজ হতে পারে।

সুতরাং অনলাইনে গায়রে মাহরাম পুরুষ বিক্রেতার সাথে উভয় পক্ষ থেকে ফিতনার আশংকা না থাকলে শুধুমাত্র জরুরী কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কথা বলা অডিও কলে বা মেসেজে জায়েজ, তবে সংক্ষেপে ও শালীনভাবে।

উল্লেখ্য, যদি তার সাথে কথা বলার জন্য আপনার বাবা,ভাই,স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষ থাকে,সেক্ষেত্রে তাকে দিয়েই কথা বলতে উলামায়ে কেরামগন নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাসঙ্গিক হাদিস ও ফিকহি নীতিমালা

১. পর্দার বিধান:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা (নারীরা) যখন (আল্লাহর নবীর) স্ত্রীদের কাছে কিছু চাও, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাও। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্রতার কারণ।" (সূরা আল-আহযাব: ৫৩)
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ না করে, কেননা তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।" (তিরমিজি: ২১৬৫)

২. প্রয়োজনীয় কথোপকথনের অনুমতি:

  • ইমাম কাসানী (রহ.) "বাদায়িউস সানায়ি" গ্রন্থে বলেন: "গায়রে মাহরাম নারীর সাথে কথা বলা জায়েজ যদি তা প্রয়োজনীয় হয় এবং নিরাপদ হয় (অর্থাৎ ফিতনার আশঙ্কা না থাকে)।" (বাদায়িউস সানায়ি, ৪/৩৫৫)
  • ইবনে আবেদীন (রহ.) "রদ্দুল মুহতার" এ বলেন: "যখন নারী-পুরুষের মধ্যে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তখন অপ্রয়োজনীয় কথা বলা হারাম। প্রয়োজনীয় কথা বলার ক্ষেত্রেও সংক্ষেপে এবং শালীনতা বজায় রেখে বলতে হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)

নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে বিস্তারিত

অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে যদি নারী গ্রাহকের সাথে গায়রে মাহরাম পুরুষ বিক্রেতার কথা বলতে হয়, তবে তা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে হওয়া উচিত। যেমন: পণ্যের বিবরণ জিজ্ঞাসা, দাম জানা, অর্ডার কনফার্ম করা ইত্যাদি। এর বেশি অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, যেমন পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে বাড়তি আলোচনা, বা শখের বসে কেনাকাটা করার মানসে কথোপকথনে লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়। বিশেষ করে যখন নারী নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে চায় কেবল পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে ভালো লাগার কারণে, তখন সেই আলাপ-আলোচনা ফিতনার আশঙ্কা উৎপাদনকারী হওয়ায় তা নাজায়েজ।

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) "বেহেশতী জেওর" এ নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন: "গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা এবং হাস্য-ঠাট্টা করা গুনাহ। যদি কোনো প্রয়োজনীয় কাজ থাকে, তবে সেটি অতি সংক্ষেপে শেষ করবে।" (বেহেশতী জেওর, ২/৩২৫)

মুফতি তাকি উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) লিখেছেন: "বর্তমান যুগে অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কথা বলার অনুমতি আছে, কিন্তু এতেও পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা আবশ্যক। যেখানে ফিতনার আশঙ্কা আছে, সেখানে কথা বলা জায়েজ নয়। বিশেষ করে যখন কোনো নারী শুধুমাত্র শখের বসে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করছে, তখন তার জন্য গায়রে মাহরাম বিক্রেতার সাথে দীর্ঘ আলোচনায় লিপ্ত হওয়া স্পষ্টতই গুনাহ।" (ইসলাহি মজালিস, ১/২৩৫)

বিশেষ নোট

  • প্রয়োজনীয় কেনাকাটা: যদি পণ্যটি সত্যিই প্রয়োজন হয় (যেমন: ঘরের জিনিস, পোশাক ইত্যাদি), তাহলে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য জিজ্ঞাসা করা জায়েজ, তবে সংক্ষেপে এবং শালীনভাবে।
  • অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা: যদি কেনাকাটা জরুরি না হয় বরং শখের বসে বা বিজ্ঞাপন দেখে ভালো লাগার কারণে করা হয়, তাহলে সে উদ্দেশ্যে গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে কথোপকথন করা জায়েজ নয়। কারণ এটি ফিতনার দরজা খুলে দেয়।

সঠিক পদ্ধতি

  • যদি কোনো নারীকে অনলাইনে কেনাকাটা করতে হয়, তবে তিনি যেন:
    1. পর্দার নিয়ম মেনে লিখিত আকারে (চ্যাট, ইমেইল) অথবা সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে কেনাকাটা সম্পন্ন করেন।
    2. কেবল প্রয়োজনীয় প্রশ্ন সীমাবদ্ধ রাখেন।
    3. অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন, আনন্দের আলোচনা, দীর্ঘ কথোপকথন পরিহার করেন।
    4. পুরুষ বিক্রেতার সাথে ব্যক্তিগত কোনো কথাবার্তায় না যান।
    5. কেনাকাটার প্রক্রিয়া এমন হোক যাতে ফিতনার আশঙ্কা না থাকে।

উপসংহার

অনলাইনে গায়রে মাহরাম পুরুষ বিক্রেতার সাথে উভয় পক্ষ থেকে ফিতনার আশংকা না থাকলে শুধুমাত্র জরুরী কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কথা বলা অডিও কলে বা মেসেজে জায়েজ, তবে সংক্ষেপে ও শালীনভাবে।

উল্লেখ্য, যদি তার সাথে কথা বলার জন্য আপনার বাবা,ভাই,স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম পুরুষ থাকে,সেক্ষেত্রে তাকে দিয়েই কথা বলতে উলামায়ে কেরামগন নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু যখন কেনাকাটাটি অপ্রয়োজনীয় এবং শুধুমাত্র শখ বা বিজ্ঞাপন দেখে ভালো লাগার কারণে করা হয়, তখন সেই উদ্দেশ্যে গায়রে মাহরামের সাথে আলাপ-আলোচনা করা জায়েজ নয় এবং এতে ফিতনার আশঙ্কা থাকায় তা গুনাহ হবে। মুমিন নারীর উচিত বিনোদন ও শখের জন্য অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা এবং পর্দার বিধানকে সর্বদা প্রাধান্য দেওয়া।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক আমল করার তওফিক দান করুন। আমীন।

রেফারেন্স:

  • কুরআন: সূরা আল-আহযাব: ৫৩
  • সহিহ হাদিস: তিরমিজি: ২১৬৫
  • বাদায়িউস সানায়ি: ৪/৩৫৫
  • রদ্দুল মুহতার: ১/৪০৬
  • বেহেশতী জেওর: ২/২৩২
  • ইসলাহি মজালিস: ১/২৩৫ (মুফতি তাকি উসমানী)
  • ফাতাওয়া উসমানী: ২/৫৪২
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/৮৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.