হেদায়েতে টিকে থাকার উপায়, বেদ্বীন পরিবারে ঈমান রক্ষার পদ্ধতি।

Family Life · Hanafi

Question No: 1982
Questioner: Ummeimarah
Question Asked: 24 Jun 2026, 05:15 PM
Reviewed & Published: 24 Jun 2026, 05:27 PM
Views: 102
Tokens: 7,380
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আমি একজন জেনারেল পড়ুয়া মেয়ে ছিলাম,একদম বেদ্বীন একটা মেয়ে ছিলাম আমি।আমার পরিবারও তেমন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার রহমতে আমি ক্লাস ৭ এ হেদায়েত পাই আলহামদুলিল্লাহ। আমি হেদায়েত পাওয়ার পর ফেমিলির সাথে যুদ্ধ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হই কওমিতে আলহামদুলিল্লাহ। তার এখন ৩ বছর পর মাদ্রাসা থেকে চলে আসি ফেতনা ফাসাদ+ আরও বিভিন্ন কারণ এ।আমি নাহ কোনো জেনারেল এ ssc পাস করেছি আর নাহ মাদ্রাসায় দাওরাহ পাস করেছি আলহামদুলিল্লাহ
এখন আমি আইওমে ভর্তি হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।

আমি এখনো কিছুটা হেদায়েত এর অপর আছি আলহামদুলিল্লাহ। আমার পরিবার অনলাইন বুজে নাহ,আমার অনেক কথা শুনতে হয় বাসায়,পরিবারের মানুষ এর অভিশাপ পেতে হয়,আমি ছিলাম পরিবারের সব থেকে ভালো ছাত্রী,তাদের আমাকে নিয়ে অনেক আশা ছিল।
এখন বলে যে তুই সব থেকে খারাপ হবি।

বলে যে কি দেখে তর বিয়ে দিব,কোনো যোগ্যতায় ত তর নেই,,অনেক বোনেরা অন্তত ssc পাস করে জেনারেল পড়াশোনা ছেড়ে দেয়,কিন্তু আমি ত মাত্র ৭ম পর্যন্ত পড়েছি স্কুলে আলহামদুলিল্লাহ। আবার মাদ্রাসায়ও পড়ি নি।

জানি বিয়ে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার উপরে আলহামদুলিল্লাহ।

আবার আমার পরিবার আমাকে এখন বিয়ে দিবে নাহ,অনেক পরে দিবেন।

এমন বেদ্বীন পরিবারে কীভাবে হেদায়েত এর অপর টিকে থাকব আমি।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই আপনার ঈমান ও হেদায়েতের জন্য আমরা আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি। আপনি যে আল্লাহর পথে এসেছেন এবং দ্বীনের উপর অটল থাকার চেষ্টা করছেন, এটি আপনার জন্য অত্যন্ত বড় নেয়ামত। আপনার পরিবার বর্তমানে দ্বীনের পথে না থাকলেও, আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব হলো ধৈর্য্যের সাথে তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করা এবং নিজের ঈমানকে সুরক্ষিত রাখা।

আপনার প্রশ্নের জবাবে কুরআন ও হাদিসের আলোকে দিকনির্দেশনা:

১. ধৈর্য ও তাকওয়া অবলম্বন করুন:
আল্লাহ তাআলা বলেন:

"নিশ্চয় যারা ধৈর্য্যধারণ করে, তাদেরকে তাদের প্রতিদান অপরিমিতভাবে দেয়া হবে।" (সূরা আয-যুমার: ১০)
আপনার পরিবারের নেতিবাচক কথা, অভিশাপ ও হতাশাজনক আচরণ আপনার জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। আপনাকে ধৈর্য্য ধরে আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। মনে রাখবেন, নবী-রাসূলগণও তাদের নিজ পরিবার ও সমাজ থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন।

২. পরিবারের সাথে সদাচরণ করুন, কিন্তু দ্বীনের ব্যাপারে আপোষ নয়:
পিতা-মাতা ও পরিবারের সেবা করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি।" (সূরা আল-আনকাবুত: ৮)
কিন্তু দ্বীনের ব্যাপারে কোনো আপোষ করা চলবে না। যদি তারা আপনাকে নামাজ, হিজাব বা দ্বীনি শিক্ষা থেকে বিরত রাখতে চায়, তবে আপনাকে নম্রভাবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু আল্লাহর হুকুম অমান্য করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
"আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা জায়েজ নেই।" (মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৮)

৩. দ্বীনি পরিবেশ ও সাথী নির্বাচন করুন:
যেহেতু আপনার পরিবার দ্বীনি চেতনা থেকে দূরে, তাই আপনাকে দ্বীনি বন্ধু ও পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

"মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। তাই তোমরা প্রত্যেকে দেখে নাও, সে কার বন্ধুত্ব গ্রহণ করে।" (আবু দাউদ: ৪৮৩৩)
আপনি বর্তমানে আইওমে (ইসলামিক অনলাইন মাদরাসা) ভর্তি হয়েছেন, এটি একটি বড় নেয়ামত। এখান থেকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দ্বীনি বান্ধবী তৈরি করুন, যারা আপনাকে উৎসাহিত করবে।

৪. বিয়ে ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়া:
আপনার পরিবার বর্তমানে বিয়ে দিতে রাজি নয়, তবে আপনি আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।" (সূরা আন-নূর: ৩২)
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা (এসএসসি না থাকা বা মাদরাসার দাওরাহ না থাকা) কোনো বাধা নয়। দ্বীনদার ও সচ্চরিত্র ব্যক্তি আপনার জন্য উত্তম পাত্র হবে। আপনি এখন নিজের ঈমান ও আমলকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিন। সময় হলে আল্লাহ নিজেই ব্যবস্থা করে দেবেন।

৫. মা-বাবা ও পরিবারের জন্য দোয়া করুন:
আপনার পরিবার বর্তমানে দ্বীনের পথে না থাকলেও, তাদের জন্য দোয়া করা আপনার কর্তব্য। হজরত ইব্রাহীম (আ.) তার পিতার জন্য দোয়া করেছিলেন, যদিও তিনি মুশরিক ছিলেন। আপনি আল্লাহর কাছে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে থাকুন।

৬. হানাফি ফিকহের দিকনির্দেশনা:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, পিতা-মাতার অবাধ্যতা করা জায়েজ নয়, তবে যদি তারা ফরজ ইবাদত (যেমন নামাজ, হিজাব) থেকে বিরত রাখতে চায়, তবে তাদের কথা না মানা জায়েজ। ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’-এ লিখেছেন:

"পিতা-মাতার আদেশ যদি গুনাহের কাজে হয়, তবে তা মানা আবশ্যক নয়। তবে উত্তম পদ্ধতি হলো নম্রভাবে অস্বীকার করা।" (রদ্দুল মুহতার: ৬/৪১৪)

উপসংহার ও পরামর্শ:

  • নিজের ঈমানকে শক্তিশালী করতে কুরআন তিলাওয়াত ও নামাজের প্রতি যত্নবান হোন।
  • পরিবারের সাথে কথা বলার সময় নম্র ও সহনশীল থাকুন, কিন্তু দ্বীনের ব্যাপারে দৃঢ় থাকুন।
  • নিয়মিত দোয়া করুন, বিশেষ করে সূরা আল-ফাতিহা ও অন্যান্য মাসনুন দোয়া পড়ুন।
  • আপনার অবস্থা বুঝে কোনো দ্বীনি আলেম বা বিদুষী বোনের সাথে পরামর্শ করুন।
  • ভবিষ্যতে বিয়ে হলে দ্বীনদার পাত্র খোঁজার চেষ্টা করুন, যিনি আপনার দ্বীনি অগ্রগতিতে সহায়ক হবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও তাকওয়া দান করুন। আপনার পরিবারকে হেদায়েত দান করুন এবং আপনার দ্বীনি পথকে সহজ করে দিন। আমিন।

সূত্র:

  • কুরআন: সূরা আয-যুমার: ১০, সূরা আল-আনকাবুত: ৮, সূরা আন-নূর: ৩২
  • হাদিস: মুসনাদে আহমাদ: ১০৯৮, আবু দাউদ: ৪৮৩৩
  • ফিকহ: রদ্দুল মুহতার: ৬/৪১৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪
  • উসুল: ‘বেহেশতি জেওর’ (আশরাফ আলী থানভী), ‘মা’আরিফুল কুরআন’ (মুফতি মুহাম্মদ শফী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.