গোনাহ করলে ঈমান চলে যায় কি

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1973
Questioner: Saiful Islam
Question Asked: 24 Jun 2026, 02:47 PM
Reviewed & Published: 24 Jun 2026, 02:55 PM
Views: 77
Tokens: 4,001
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।মুসলমানদের নাম ইসলামিক নাম থাকবে এটাই সাভাবিক এরকম নামের আইডির সাথে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক মানে অবৈধ সম্পর্ক করলে মেসেজ করা বা কল করার সময় ইসলামিক নাম আসে তারপরও গোনাহ করলে ইমান চলে যাবে?

২। যিনা,পরকিয়া করার সময় যদি জিজ্ঞেস করে কেমন আছো, আছেন আলহামদুলিল্লাহ বললে মোট কথা ঐ সময়ে ইসলামিক কিছু বললে করলে ইমান চলে যাবে কি?

Answer

প্রশ্ন ১: ইসলামিক নামের আইডির সাথে অবৈধ সম্পর্ক করলে ইমান চলে যাবে কি?

উত্তর:

ইসলামিক নামের আইডি ব্যবহার করে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক (যিনা, প্রেম-প্রীতি, ফোন কল, মেসেজ করা) করা নিঃসন্দেহে হারাম ও কবিরা গুনাহ। কিন্তু এতে সরাসরি ইমান চলে যায় না, যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তি এটিকে হালাল মনে না করে বা ইসলামের কোনো মৌলিক বিধানকে অস্বীকার না করে।

হানাফি ফিকহের নিয়ম:

  • গুনাহ করলে ইমান যায় না, বরং ইমান দুর্বল হয় এবং আমল নষ্ট হয়
  • তবে গুনাহের সময় ইসলামিক নামের প্রতি বেআদবী বা বিদ্রুপ করলে ইমান চলে যেতে পারে। কিন্তু শুধু নাম থাকার কারণে ইমান যাওয়ার বিষয়টি কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।

রেফারেন্স:
১. রদ্দুল মুহতার (১/৪২৫):

"গুনাহ করলে ইমান চলে যায় না, তবে তা কবিরা গুনাহ হলে ইমানের নূর (আলো) নষ্ট করে দেয়।"
২. ফতোয়া হিন্দিয়া (২/২৬০):
"যে ব্যক্তি যিনা করে, কিন্তু তাকে হালাল মনে করে না, সে কাফির হয় না।"
৩. ফতোয়া উসমানী (২/৪৫০):
"গুনাহ করলে ইমান চলে যায়—এ ধারণা ভুল। বরং গুনাহ করলে তওবা করা ফরজ হয়।"

সারমর্ম:

  • ইসলামিক নামের আইডি নিয়ে অবৈধ সম্পর্ক করা গুনাহ, কিন্তু ইমান চলে যাওয়ার জন্য স্পষ্ট কুফরি (যেমন: গুনাহকে হালাল মনে করা, দ্বীনকে মজা করা ইত্যাদি) জরুরি।
  • এই কাজের জন্য তওবা করা আবশ্যক

প্রশ্ন ২: যিনা/পরকিয়ার সময় "আলহামদুলিল্লাহ" বললে বা ইসলামিক কোনো কথা বললে ইমান চলে যাবে কি?

উত্তর:

যিনা বা হারাম সম্পর্কের সময় আল্লাহর নাম বা ইসলামিক বাক্য (যেমন: আলহামদুলিল্লাহ, বিসমিল্লাহ) বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং এটি ইমানকে দুর্বল করে। কিন্তু ইমান চলে যাওয়ার জন্য শর্ত হলো—

১. বিদ্রুপের নিয়তে বা হালকাভাবে ইসলামিক বাক্য বলা।
২. গুনাহকে হালাল মনে করে বা দ্বীনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলা।

তবে যদি অভ্যাসবশত (যেমন: জিজ্ঞাসার জবাবে "আলহামদুলিল্লাহ" বলা, কিন্তু অন্তরে গুনাহের লজ্জা থাকে) তবে ইমান চলে যায় না, তবে গুনাহের কাজকে আরও ভয়াবহ করে

হানাফি ফিকহের নিয়ম:

  • ইমাদুল ফতোয়া (১/২৮৯):

    "গুনাহের সময় আল্লাহর নাম নিলে ইমান যায় না, কিন্তু গুনাহের পাপ দ্বিগুণ হয়।"

  • রদ্দুল মুহতার (৩/৪৫৬):

    "যিনা করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া মুনাফিকির লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু সরাসরি কুফরি নয়।"

সতর্কতা:

  • গুনাহের অবস্থায় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা আল্লাহর প্রতি অশ্রদ্ধা এবং গুনাহকে স্বাভাবিক করা হিসেবে বিবেচিত হয়।
  • এটি ইমানের দুর্বলতা এবং গুনাহের প্রতি নির্লজ্জতা প্রমাণ করে।

সারমর্ম:

  • ইমান চলে যায় না, যদি না স্পষ্টভাবে কুফরি কথা বলা হয় (যেমন: "এটা হালাল", "ইসলাম ঠিক নেই")।
  • তবে এই ধরনের কাজ ছেড়ে দেওয়া ও তওবা করা ফরজ।

প্রয়োজনীয় উপদেশ:

  1. গুনাহ থেকে বিরত থাকুন: ইসলামিক নামের আইডি নিয়ে অবৈধ সম্পর্ক বা যিনা—উভয়ই আল্লাহর গজব ডেকে আনে।
  2. তওবা করুন:
    • গুনাহের জন্য লজ্জিত হওয়া,
    • ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প,
    • আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া
  3. ইমান রক্ষার উপায়:
    • নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইমান মজবুত করুন।
    • যিনার পথে যাওয়ার সব মাধ্যম বন্ধ করুন (ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, একান্ত সাক্ষাৎ ইত্যাদি)।

শেষ কথা:

ইমান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। গুনাহ করলে ইমান চলে যায় না, কিন্তু ইমানের আলো নিভে যায়। তাই তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে হিফাজত করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.