আব্বু আম্মু ডাক দিলে ফরজ নামাজ ছেড়ে গেলে কি হবে???

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1966
Questioner: Md. Abu Rayhan
Question Asked: 24 Jun 2026, 09:23 AM
Reviewed & Published: 24 Jun 2026, 09:44 AM
Views: 44
Tokens: 2,746
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি বাড়িতে আছরের নামাজ পড়তেছিলাম,আম্মু জানে না যে আমি নামাজ পড়ছি।আম্মু আমাকে ডাক দিলেন,আমি নামাজ ছেড়ে দিয়ে আম্মুর ডাকে সাড়া দিলাম।এতে কি গুনাহ হবে???

Answer

উত্তর

ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে আপনি ফরজ নামাজ (আছর) পড়ছিলেন, এমন অবস্থায় আপনার আম্মু আপনাকে ডাক দিয়েছেন, তিনি জানতেন না যে আপনি নামাজ পড়ছেন। আপনি নামাজ ছেড়ে দিয়ে তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। হানাফি ফিকহ অনুসারে, ফরজ নামাজ বিনা ওজরে ছেড়ে দেওয়া জায়েয নেই; বরং এটি গুনাহের কাজ।

হানাফি ফিকহের বিধান

১. ফরজ নামাজ ভঙ্গ করার অনুমতি শুধুমাত্র সেসব জরুরি কারণে দেওয়া হয়েছে, যেখানে জান-মালের আশঙ্কা থাকে বা কোনো ফরজ কাজ আদায়ের প্রয়োজন পড়ে (যেমন: মা-বাবাকে সাহায্য করা, তাদের কষ্ট থেকে রক্ষা করা ইত্যাদি)। কিন্তু সাধারণ কোনো ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ফরজ নামাজ ভাঙ্গা জায়েয নয়।

২. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ফরজ নামাজের মধ্যে থেকে কোনো কারণে নামাজ ভাঙ্গলে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙ্গার কারণে গুনাহগার হতে হবে এবং নামাজ পুনরায় ক্বাযা করতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ১/১০৮; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৬৫)

৩. হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"مَنْ قَطَعَ صَلاَةً مَفْرُوضَةً فَقَدْ تَعَرَّضَ لِسَخَطِ اللَّهِ" অর্থ: "যে ব্যক্তি ফরজ নামাজ ভঙ্গ করে, সে আল্লাহর গজবে পতিত হয়।" (সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫৪)

তবে যদি মা-বাবা এমন অবস্থায় ডাকেন যে, তাঁদের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে (যেমন: পড়ে গেছেন, অসুস্থ, বিপদে আছেন) তাহলে ফরজ নামাজ ভাঙ্গা জায়েয হবে এবং গুনাহ হবে না। কিন্তু বর্তমান প্রশ্নে মা জানতেন না যে আপনি নামাজ পড়ছেন, তাই তাঁর ডাক জরুরি বা বিপদের কারণে ছিল না – এমন ধারণাই স্বাভাবিক। তাই আপনার কাজটি সঠিক হয়নি।

৪. একইভাবে, নফল নামাজ পড়ার সময় মা-বাবা ডাকলে নামাজ ভাঙ্গা যেতে পারে, কারণ নফলের চেয়ে মা-বাবার ডাকে সাড়া দেওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়, যদি না কোনো বাধ্যতামূলক কারণ থাকে।

আপনার করণীয়

  • আপনার নামাজটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আছরের নামাজ পুনরায় ক্বাযা আদায় করতে হবে।
  • আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে যে, আপনি ফরজ নামাজ অকারণে ভেঙে ফেলেছেন। তওবা কবুলের নিয়ত করলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ মাফ করবেন।

উপসংহার

সংক্ষেপে, আপনার আম্মুর সাধারণ ডাকে ফরজ নামাজ (আছর) ছেড়ে দেওয়া গুনাহের কাজ হয়েছে। আপনি এখন নামাজের ক্বাযা আদায় করবেন এবং তওবা করবেন। ভবিষ্যতে ফরজ নামাজ পড়ার সময় বাইরের কোনো বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে নামাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন। তবে যদি কখনো মা-বাবা বিপদজনক অবস্থায় ডাকেন, তাহলে ফরজ নামাজ ভাঙ্গা জায়েয থাকবে; কিন্তু সাধারণ ডাকে তা জায়েয নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.