নারীদের জন্য পুরুষদের মত সিজদা করা জায়েয?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 195
Questioner: Champa0395
Question Asked: 17 May 2026, 09:09 AM
Reviewed & Published: 17 May 2026, 11:24 AM
Views: 31
Tokens: 2,496
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম।
বুঝতে পারছি নারীদের গুটিয়ে সেজদা দিয়া মুস্তাহাব। এসত্তেও কোনো মেয়ে যদি রাসুল সা.সেজদা করে এতে কি আল্লাহ রাগ করবে বান্দার উপ র নারাজ হবে। বা তিনি এই নামাজ অপছন্দ করবে। খুব ভয়ে আছি

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—নারীদের জন্য সেজদায় গুটিয়ে বসা মুস্তাহাব হওয়া সত্ত্বেও কোনো নারী যদি পুরুষদের মতো সেজদা করে (যেমন হাত ও পা ছড়িয়ে দেয়), তাহলে কি আল্লাহ রাগান্বিত হবেন? নাকি তিনি এই নামাজ অপছন্দ করবেন?

উত্তর:

প্রথমত, বুঝে নিন যে নারীদের জন্য গুটিয়ে সেজদা করা (যেমন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে, হাত কাঁধ বরাবর না রেখে বুকের পাশে রাখা) মুস্তাহাব বা উত্তম। এটি তাদের পর্দা ও লজ্জা রক্ষার জন্য বেশি উপযোগী। কিন্তু যদি কোনো নারী পুরুষদের মতো সেজদা করে (যেমন হাত-পা ছড়িয়ে, পেট উরু থেকে আলাদা করে), তাহলে তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে, তবে তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হবে। এর অর্থ এটি গুনাহ নয়, বরং উত্তম পদ্ধতি থেকে বিচ্যুতি। আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করবেন এমনটি নয়; বরং তিনি বান্দার নামাজ কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ, তবে উত্তম পদ্ধতি থেকে কম সওয়াব পাওয়া যাবে।

কোরআন-হাদিস ও হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

১. হাদিসে নারীদের ভিন্ন পদ্ধতি নির্দেশ:

  • ইমাম বায়হাকি ও আবু দাউদ (রহ.) বর্ণনা করেন—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “নারী যখন সিজদা করে, তখন সে যেন নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুটিয়ে নেয় (এক সাথে রাখে) এবং পুরুষের মতো না হয়।” (বায়হাকি, শু‘আবুল ঈমান, হাদিস: ২৯৭৯)
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নারীদের জন্য সিজদায় পুরুষদের মতো হাত-পা ছড়ানো মাকরূহ। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪৩; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৯)

২. হানাফি ফিকহের বক্তব্য:

  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ শফি রহ.)-তে লেখা: “নারীদের জন্য জমিনের সাথে লেগে সাজদা করা এবং হাত-পা গুটিয়ে নেওয়া সুন্নত। যদি তারা পুরুষদের মতো সাজদা করে, তবে মাকরূহ হলেও নামাজ হয়ে যায়।”
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী রহ.)-তে উল্লেখ: “নারীদের সাজদা গুটিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব; অন্যথায় নামাজের ফরজ আদায় হয়, তবে সওয়াব কম হবে।”
  • বাহিশতি জেওর (মুফতি আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এর ‘নারীদের নামাজের পদ্ধতি’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে: “নারীদের সিজদায় পেট উরুর সাথে মিলিয়ে, বাহু জমিনের সাথে বিছিয়ে না দিয়ে উঁচু করে রাখা চাই। যদি ভুলে যায় বা না জানে, তাহলে নামাজ হয়ে যাবে।”

৩. আল্লাহর রাগ ও নারাজি প্রসঙ্গ:

  • কেউ যদি জেনে-শুনে মুস্তাহাব ত্যাগ করে (অর্থাৎ গুটিয়ে না বসে), তাতে আল্লাহ রাগান্বিত হবেন না; বরং তিনি দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তবে শাস্তির বিষয়টি তখনই প্রযোজ্য যখন ফরজ বা ওয়াজিব ত্যাগ করা হয়। এখানে পুরুষের মতো সেজদা করা ফরজ ত্যাগ নয়, তাই আল্লাহর রাগের ভয় না করে বরং শিখে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
  • কোরআনে বলা হয়েছে: “আল্লাহ তোমাদের থেকে বোঝা লাঘব করতে চান; মানুষ দুর্বল সৃষ্ট।” (সূরা নিসা: ২৮) অর্থাৎ তিনি সহজ চান, কঠিন নয়। নারীদের জন্য গুটিয়ে বসা সহজ ও লজ্জা রক্ষার জন্য, তাই আল্লাহ চান যে তারা এই সুন্নত অনুসরণ করুক।

সারমর্ম:

  • মুস্তাহাব (উত্তম): নারীরা সেজদায় গুটিয়ে বসবেন।
  • যদি পুরুষের মতো সেজদা করা হয়: নামাজ শুদ্ধ হবে, তবে তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) এবং উত্তম থেকে কম সওয়াব।
  • আল্লাহ রাগান্বিত হবেন বা নারাজ হবেন—এমন ভয়ের কিছু নেই। বরং আল্লাহ দয়ালু; তিনি নামাজ কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ।

আপনার করণীয়:

  • ধীরে ধীরে মুস্তাহাব পদ্ধতি শিখুন এবং অনুশীলন করুন।
  • অতীতের নামাজগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং ভবিষ্যতে উত্তম পদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা করুন।
  • আল্লাহর রহমতের আশা রাখুন; তিনি তওফিক দেবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সুন্নত মোতাবেক ইবাদত করার তওফিক দান করুন। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.