আল্লাহু আকবার লাম মোটা না করলে জবাই হালাল হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 1949
Questioner: Hisham
Question Asked: 23 Jun 2026, 06:33 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 06:38 PM
Views: 78
Tokens: 25,175
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

1) যে ব্যক্তি আল্লাহু আকবার বাংলা স্টাইলে উচ্চারণ করে(অর্থাৎ 'লাম' মোটা না করে) তার জবাই করা কবুতর খাওয়া যাবে? (মনযোগের সহিত উচ্চারণ করলে ইনশা-আল্লাহ লাম মোটা হবে, কিন্তু স্বাভাবিক উচ্চারণে হয়তো মোটা করেন না। ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত sure না)
2) প্রথম কবুতর জবাইয়ের সময় বলল, কিন্তু দ্বিতীয় কবুতর জবাইয়ের সময় বললো না, এখন দ্বিতীয়টা কী খাওয়া যাবে?
3) IslamQAPro তে মাসে সর্বোচ্চ কয়টি প্রশ্ন করা যায়?

Answer

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

১. ‘আল্লাহু আকবার’ বাংলা স্টাইলে (লাম মোটা না করে) উচ্চারণ করলে জবাই করা কবুতর খাওয়া যাবে কি?

হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, জবাই করার সময় তাসমিয়াহ (আল্লাহর নাম উচ্চারণ) শর্ত; তবে তা উচ্চারণে সামান্য ভুল বা আঞ্চলিক প্রভাব থাকলে যতক্ষণ উদ্দেশ্য ‘আল্লাহু আকবার’ বলা থাকে এবং অর্থের বিকৃতি না ঘটে, ততক্ষণ জবাই হালাল হবে।

  • ‘লাম’ মোটা করা ওয়াজিব নয়; এটি আরবী তাজবিদের অংশ। যদি কেউ স্বভাবগতভাবে বা অভ্যাসবশত লাম মোটা না করে, কিন্তু তার নিয়ত ‘আল্লাহু আকবার’ বলার হয় এবং অন্য কোনো অর্থে পরিবর্তন না হয়, তবে জবাই সঠিক ও হালাল হবে।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে ‘লাম’ মোটা না করা বা ভুল করা যদি অর্থ পরিবর্তন না করে, তাহলেও জবাই হালাল। কারণ শরী‘আতে উচ্চারণের পূর্ণাঙ্গ বিশুদ্ধতা শর্ত নয়, বরং ‘বলার উদ্দেশ্য’ ও ‘শরঈ অর্থের উপস্থিতি’ শর্ত। (রা. আল-মুহতার ৬/২৯৩; ফাতাওয়া উসমানী ২/৪৫৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৩৪)
  • তবে স্পষ্টত: অর্থ পরিবর্তন হয়ে গেলে (যেমন ‘আল্লাহু আকবার’ না বলে ‘আল্লাহু আজবার’ বা ‘আল্লাহু আকরাম’ ইত্যাদি বলা) জবাই নাজায়েয হবে।

সারসংক্ষেপ: প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি যদি ‘আল্লাহু আকবার’ বলার নিয়তে বাংলা স্টাইলে (লাম মোটা না করে) বলেন এবং অন্য কোন অর্থ প্রতিপাদিত না হয়, তাহলে তার জবাইকৃত কবুতর খাওয়া জায়েয


২. প্রথম কবুতর জবাইয়ের সময় তাসমিয়াহ বললেন, দ্বিতীয়টায় বললেন না; দ্বিতীয়টা খাওয়া যাবে কি?

হানাফী মাযহাবে জবাইয়ের সময় তাসমিয়াহ বলা শর্ত। এর বিধান দুটি অবস্থায় ভিন্ন:

ক. ইচ্ছাকৃতভাবে তাসমিয়াহ না বলা:
হানাফী মাযহাবে জবাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তাসমিয়াহ ত্যাগ করলে সেই প্রাণী হারাম। (আল-হিদায়া ৪/৩২০; ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/২৯৩)

খ. ভুলে বা অমনোযোগের কারণে তাসমিয়াহ না বলা:
হানাফী মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুসারে, ভুলে তাসমিয়াহ বাদ পড়লে জবাই হালাল। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ভুলে যাওয়া লোকদের ক্ষমা করেছেন (সূরা বাকারা ২:২৮৬)। (শরহু মা‘আনিল আসার ৪/২২২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৩৭; বাহিশ্তি জেওর ৫/১৪)

উত্তর: দ্বিতীয় কবুতর জবাইয়ের সময় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাসমিয়াহ না বলে থাকেন, তবে তা খাওয়া হারাম। আর যদি ভুলে বা অমনোযোগে না বলে থাকেন, তবে খাওয়া হালাল। নিজের অবস্থা নিশ্চিত না হলে সন্দেহের ভিত্তিতে সেটি না খাওয়াই উত্তম (তাকওয়া)


৩. IslamQAPro তে মাসে সর্বোচ্চ কয়টি প্রশ্ন করা যায়?

এটি একটি প্রযুক্তিগত বা সাইট পলিসি বিষয়, ফিকহী মাসআলা নয়। সাধারণত প্রশ্নোত্তর সাইটে নির্দিষ্ট সীমা থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের তথ্যমতে IslamQAPro প্লাটফর্মে মাসিক সীমা সম্পর্কে কোন নির্ধারিত সংখ্যা উল্লেখ নেই। আপনি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে পারেন; তবে অপ্রয়োজনীয় বা অপচয়মূলক প্রশ্ন থেকে বিরত থাকা উত্তম।


সতর্কীকরণ: যেহেতু প্রশ্নকর্তা নিজেই বলেছেন যে, মনযোগ দিয়ে বললে ‘লাম’ মোটা হবে কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় মোটা করেন না, তবে তা অভ্যাসজনিত। এবং দ্বিতীয় কবুতরটির ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন যে ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত তাসমিয়াহ ত্যাগ করেছেন— সেক্ষেত্রে সন্দেহের ভিত্তিতে সেটি না খাওয়াই উক্ত ব্যক্তির জন্য তাকওয়া (পরহেজগারী) সঙ্গত হবে

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.