নামাজে দাঁড়ানোর পর হাসি পেলে করণীয় কী?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 1944
Questioner: TᕼIᕼᗩᑎ
Question Asked: 23 Jun 2026, 05:34 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 05:37 PM
Views: 68
Tokens: 3,948
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো যদি নামাজে দাড়ালেই হাসি বা কথা বের হওয়ার অবস্থা হয়, সেক্ষেত্রে তার করনীয় কী?

Answer

উত্তর: নামাজে দাঁড়ালেই হাসি বা কথা বের হওয়ার অবস্থার সমাধান

প্রশ্ন:

কারো যদি নামাজে দাঁড়ালেই হাসি বা কথা বের হওয়ার অবস্থা হয়, সেক্ষেত্রে তার করণীয় কী?

উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুসারে):

নামাজের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হাসা বা কথা বলা নামাজ ভঙ্গকারী কাজ। তবে যদি এটি অনিয়ন্ত্রিত (অর্থাৎ শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে জোরপূর্বক হয়ে যায়) তবে তার বিধান ভিন্ন। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সাধারণ বিধান:

  • হাসি: নামাজে যদি কোনো শব্দসহ হাসি (যেমন: "হা হা" বা "হি হি") বের হয়, তাহলে তা নামাজ ও ওজু উভয়ই ভঙ্গ করে (রদ্দুল মুহতার, ১/৬২৭; বাহিশতি জেওর, ১/১৫২)। তবে শুধু মুখে হাসি (নীরব হাসি) বা ঠোঁটের নড়াচড়া নামাজ নষ্ট করে না (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৬৪)।
  • কথা: ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কথা বলা (আরবি বা অন্য ভাষায়) নামাজ ভঙ্গ করে, যদিও তা এক শব্দ হয় (হিদায়া, ১/১৪৩)।

২. অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা (যেমন: শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা):

যদি কারো কোনো শারীরিক (যেমন: ট্যুরেট সিনড্রোম, স্নায়বিক রোগ) বা মানসিক অবস্থার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে হাসি বা কথা বের হয়, তাহলে শরিয়তে তাকে মা‘যুর (অক্ষম) গণ্য করা হবে। এরূপ ক্ষেত্রে:

  • নামাজের মধ্যে যদি হাসি বা কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে বের হয়, তবে নামাজ ভঙ্গ হবে না। কারণ এটি ‘গালিবা’ (অনিবার্য) অবস্থায় পড়ে, যা ক্ষমার যোগ্য। হাদিসে এসেছে: “আমার উম্মতের (অনিচ্ছাকৃত) ভুল, ভুলে যাওয়া এবং জোরপূর্বক কাজ মাফ করে দেওয়া হয়েছে।” (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ২০৪৫)
  • হানাফি ফিকহে এই নীতির ভিত্তিতে অনুরূপ অবস্থায় নামাজ বৈধ গণ্য করা হয়েছে। (ফাতাওয়া উসমানি, ১/১৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২২১)

৩. করণীয় নির্দেশনা:

  • প্রথমে কারণ নির্ণয়: বুঝতে হবে হাসি বা কথা বের হওয়াটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত। ইচ্ছাকৃত হলে নামাজ ভঙ্গ হবে। অনিচ্ছাকৃত হলে নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন।
  • চিকিৎসার পরামর্শ: যদি এটি শারীরিক বা মানসিক রোগের কারণে হয়, তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। রোগ সারলে পরিস্থিতি ভালো হয়ে যেতে পারে।
  • নামাজে ধৈর্য ও মনোযোগ: নামাজের মধ্যে দাঁড়ানোর সময় বেশি বেশি দৃষ্টি সিজদার জায়গায় রাখুন এবং ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করুন। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়ুন।
  • মাসবুক বা ইমামের জন্য: যদি ইমামের অনুরূপ অবস্থা হয়, তবে উনি ইমামতি না করাই উত্তম। কিন্তু যদি তিনি অনিচ্ছাকৃত হাসেন বা কথা বলেন, তবে মুক্তাদিদের নামাজ নষ্ট হবে না (যদি প্রমাণিত হয় যে এটি অনিয়ন্ত্রিত)।
  • ফিকহি রায়: অধিকাংশ হানাফি মুফতির মতে, যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার হাসি বা কথা বের হয় (যেমন: ট্যুরেট সিনড্রোম), তিনি নামাজের মধ্যে তার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন। যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবুও নামাজ চালিয়ে যাবেন এবং তা সহিহ হবে। (জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২/১১৬; ফাতাওয়া দারুল উলুম দিওবন্দ, ২/২০৬)

৪. গুরুত্বপূর্ণ টিকা:

  • হাসি বনাম মুচকি হাসি: মুখে হাসি (যেমন: ঠোঁটের কোণা নড়ানো) নামাজ নষ্ট করে না, শুধু শব্দসহ হাসি নষ্ট করে।
  • কথা যদি ‘সাহু’ হয়: যদি কেউ ভুলে কিছু বলে (যেমন: “আল্লাহ” পড়ার সময় অন্য কিছু বলা), তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় এবং নামাজ সহিহ থাকে। কিন্তু প্রশ্নে ‘দাঁড়ালেই কথা বের হওয়া’ বলতে বোঝানো হয়েছে অনিচ্ছাকৃত, কিন্তু তা যদি নিয়মিত হয়, তাহলে ওপরের বিধান প্রযোজ্য।

সারসংক্ষেপ:

  • ইচ্ছাকৃত হাসি/কথা → নামাজ ভঙ্গ (পুনরায় পড়তে হবে)।
  • অনিচ্ছাকৃত (অনিবার্য) অবস্থায় → নামাজ সহিহ, তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে ও চিকিৎসা নিতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্যক্তিগত অবস্থা জটিল হলে স্থানীয় কোনো বিশ্বস্ত আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি পরামর্শ নিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.