পুরোনো দিনের গুপ্তধন সম্পর্কে শরীয়তের বিধান কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1917
Questioner: @rir2591
Question Asked: 22 Jun 2026, 08:02 PM
Reviewed & Published: 22 Jun 2026, 08:06 PM
Views: 88
Tokens: 4,235
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার জমিতে কোন পুরোনো দিনের গুপ্তধন পেলে, সেটা কি আমার হবে। বা আন্ডার ওয়াটার ড্রাইভিং করে কোন সম্পদ পেলে সেটা কি আমার হবে?

Answer

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

আপনার জমিতে কোনো প্রাচীন গুপ্তধন পেলে বা পানির নিচে ডুব দিয়ে (আন্ডার ওয়াটার ড্রাইভিং) কোনো সম্পদ পেলে ইসলামী শরিয়তের বিধান নিম্নরূপ:

১. জমিতে পুরোনো গুপ্তধন পাওয়া

ক. প্রাচীন জাহেলি যুগের গুপ্তধন (ريكاز):
প্রাচীন জাহেলি যুগের (ইসলাম পূর্ব) কোনো গুপ্তধন নিজের জমিতে পেলে তা ‘রিকাজ’ বলে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে:

في الرِّكَازِ الْخُمُسُ
“গুপ্তধনে (রিকাজে) এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) ওয়াজিব।”
(সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৪৯৯; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৭১০)

হানাফি ফিকহে বিধান:

  • রিকাজের খুমুস (১/৫) ইমাম বা ইসলামি রাষ্ট্রের বায়তুলমালে জমা দিতে হবে। বর্তমানে যদি কোনো ইসলামি রাষ্ট্র না থাকে, তাহলে তা সদকাহ করে দেওয়া উত্তম।
  • অবশিষ্ট ৪/৫ অংশ আবিষ্কারক (আপনি) গ্রহণ করতে পারবেন। জমির মালিকানা এ বিধানে কোনো পরিবর্তন আনে না; জমি আপনার হলেও খুমুস ওয়াজিব থাকবে।
  • (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৩/২৯৯; আল-হিদায়া, ২/৬১; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৭৫)

খ. ইসলামি যুগের গুপ্তধন (لقطة):
যদি গুপ্তধনে ইসলামি যুগের মুদ্রা বা চিহ্ন থাকে, তবে তা লুকতা (হারানো সম্পদ) গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দিতে হবে; মালিক পাওয়া গেলে ফিরিয়ে দিতে হবে, না পেলে সদকাহ করে দেওয়া উচিত।

২. আন্ডার ওয়াটার ড্রাইভিং/ডুব দিয়ে সম্পদ পাওয়া

ক. প্রাচীন ডুবে যাওয়া জাহাজ বা সম্পদ (রিকাজ):
পানির নিচে যদি প্রাচীন জাহেলি যুগের কোনো জাহাজ বা সম্পদ পাওয়া যায়, তবে তাও রিকাজের মতোই বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ১/৫ খুমুস ওয়াজিব, বাকি ৪/৫ আপনার জন্য। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৫৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪১৫)

খ. আধুনিক যুগের হারানো জিনিস (لقطة):
যদি তা সাম্প্রতিককালের কোনো হারানো জিনিস হয় (যেমন কেউ ফেলে দিয়েছে), তবে তা লুকতা হিসেবে গণ্য হবে এবং এক বছর ঘোষণা দিতে হবে।

গ. সমুদ্র থেকে মুক্তা, প্রবাল ইত্যাদি সংগ্রহ:
হানাফি মতে, সমুদ্র থেকে ডুব দিয়ে মুক্তা বা প্রবাল সংগ্রহ করলে তা ‘মাদান’ (খনিজ সম্পদ) হিসেবে গণ্য। এ ব্যাপারে হানাফি ফুকাহাদের মধ্যে মতভেদ আছে:

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে সমুদ্রের মুক্তা ও প্রবালে খুমুস নেই।
  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে খুমুস ওয়াজিব।
    মুফতা বাহিত (প্রাধান্যপ্রাপ্ত) ফতওয়া হলো: সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা মুক্তা ও প্রবালেও খুমুস ওয়াজিব। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ২/২৮৪; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৭০) তবে এটি নিয়মিত পেশা হিসেবে না করলে একবারের অধিক সংগ্রহের জন্য খুমুস প্রযোজ্য নয়; বরং তা রিকাজের ন্যায় বিবেচিত হবে।

সারসংক্ষেপ

  • পুরোনো (জাহেলি যুগের) গুপ্তধন নিজ জমিতে বা পানির নিচে পেলে – খুমুস (১/৫) ওয়াজিব, বাকি আপনার।
  • ইসলামি যুগের বা আধুনিক হারানো জিনিস – লুকতা; এক বছর ঘোষণা দিতে হবে।
  • মুক্তা/প্রবাল – প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত অনুযায়ী খুমুস ওয়াজিব।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
و الله تعالى أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.