বিসমিল্লাহ বলে মোবাইল চালু করলে ইমান ভঙ্গ হবে কিনা?
Waswasa-OCD · Hanafi
Question No:
1889
Questioner:
MHMA
Question Asked:
21 Jun 2026, 08:51 PM
Reviewed & Published:
21 Jun 2026, 08:53 PM
Views:
24
Tokens:
3,168
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমি একটা কারণে counsiling করেছিলাম।তখন আমাকে যিনি কাউন্সিলিং করিয়েছেন,তিনি আৃাকে দিয়ে কথা দিয়ে নিয়েছেন, আমি জেন মোবাইল না দেখি,কবে দেখতে পাব তা তিনি পরে জানাবেন বলেছেন।
but,একটা counsiling korar por ar next sesion neya hoyni.এখন তো মোবাইল দেখাও গুনাহ আমার জন্য।but,আমি যদি হঠাত বেখেয়ালে মোবাইল on করার আগে বিসমিল্লাহ বলে ফেলি,তাহলে কি আমার ইমান ভঙ্গ হবে?
but,একটা counsiling korar por ar next sesion neya hoyni.এখন তো মোবাইল দেখাও গুনাহ আমার জন্য।but,আমি যদি হঠাত বেখেয়ালে মোবাইল on করার আগে বিসমিল্লাহ বলে ফেলি,তাহলে কি আমার ইমান ভঙ্গ হবে?
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নটি মূলত ওয়াসওয়াসা (OCD) সংক্রান্ত। আপনি যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন — তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিচে বিস্তারিত ফিকহি বিশ্লেষন দেওয়া হলো:
১. ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ও ইমান ভঙ্গের প্রশ্ন
- ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বৈধ কাজ শুরুর আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত, ফরজ নয়। এটি ইমানের শর্ত নয়।
- ইমান ভঙ্গ হয় কেবলমাত্র স্পষ্ট কুফরি কালেমা বা কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করলে, অথবা ইসলামের কোনো অপরিহার্য বিষয়কে অস্বীকার করলে।
- আপনি যদি হঠাৎ বেখেয়ালে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ফেলেন, তাহলে তা আপনার ইমান ভঙ্গের কারণ হবে না। বরং এটা শয়তানের পক্ষ থেকে ওয়াসওয়াসা, যাতে আপনি অযথা চিন্তিত হন।
প্রমাণ:
- ফতোয়ায়ে উসমানী (২/২৩১): “বিসমিল্লাহ বলা বা না বলার কারণে ইমান নষ্ট হয় না। ইমান নষ্ট হয় কুফরি আকিদা বা স্পষ্ট অস্বীকার করলে।”
- ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৫২): “ওয়াসওয়াসার কারণে যে কোনো কিছু ইমান ভঙ্গের শঙ্কা তৈরি করা শয়তানের কুমন্ত্রণা। এর কোনো গুরুত্ব নেই।”
২. কাউন্সেলরের সাথে করা প্রতিশ্রুতি (ওয়াদা) সম্পর্কে
- আপনি কাউন্সেলরকে কথা দিয়েছেন যে, তিনি না বললে মোবাইল দেখবেন না। তবে তিনি পরবর্তী সেশন না নিয়েই চলে গেছেন।
- ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, কোনো শর্ত বা প্রতিশ্রুতি যদি অপূর্ণ থেকে যায় (যেমন কাউন্সেলর তার অংশের দায়িত্ব পালন না করেন), তাহলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাধ্যতামূলক থাকে না।
- বর্তমানে যেহেতু তিনি আর যোগাযোগ করেননি, আপনার জন্য মোবাইল দেখা হারাম বা গুনাহ নয়, যদি না অন্য কোনো সঙ্গত কারণ থাকে।
প্রমাণ:
- আল-হিদায়া (৩/২৪৫): “কোনো শর্ত যদি অপর পক্ষ পূরণ না করে, তবে প্রথম পক্ষ তার প্রতিশ্রুতি থেকে মুক্ত হয়।”
- ফতোয়া আলমগিরি (২/৪৫০): “ওয়াদা ভঙ্গ করা কবিরা গুনাহ, যদি ওয়াদা পূর্ণ করার ইচ্ছা ও সক্ষমতা থাকে। কিন্তু যদি ওয়াদার শর্ত শেষ হয়ে যায়, তাহলে বাধ্যবাধকতা থাকে না।”
৩. আপনার করণীয়
- আপনি যে ওয়াসওয়াসায় ভুগছেন, তা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করুন। শয়তান আপনাকে ইমান ভঙ্গের ভয় দেখিয়ে অস্থির করতে চায়।
- মোবাইল ব্যবহার স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন। তবে যদি আপনার প্রকৃতই কোনো সমস্যা থাকে (যেমন আসক্তি), তাহলে পরিমিত ব্যবহার করুন।
- ‘বিসমিল্লাহ’ বলার অভ্যাস ভালো, এটি আপনার কোনো ক্ষতি করবে না বরং বরকত আনে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে সিদ্ধান্ত:
হঠাৎ বেখেয়ালে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে মোবাইল চালু করলে আপনার ইমান ভঙ্গ হবে না।
আর কাউন্সেলরের অনুমতি ছাড়া মোবাইল দেখা বর্তমানে আপনার জন্য গুনাহ নয়, কারণ তিনি তার অংশের দায়িত্ব পালন করেননি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। (আমীন)