সুদের টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো বা মেডিকেল টেস্টের খরচ দেওয়া কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
সুদের টাকা দিয়ে চিকিৎসা খরচ দেওয়ার বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন যে, তার কিছু মেডিকেল টেস্ট জরুরি, কিন্তু নিজের কাছে পর্যাপ্ত হালাল টাকা নেই। তার কাছে সুদের টাকা আছে। এই টাকা দিয়ে টেস্ট করানো বা চিকিৎসার খরচ দেওয়া শরিয়ত অনুযায়ী জায়েজ হবে কিনা।
উত্তর
মূলনীতি
সুদ (রিবা) ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বাকি আছে তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা মুমিন হও।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৮)
সুদের অর্থ ব্যবহার করাও হারাম। তবে জরুরি অবস্থায় কিছু বিধানের ব্যতিক্রম হতে পারে।
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, সুদের টাকা দিয়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানো বা চিকিৎসা করানো সাধারণত জায়েজ নয়। কারণ সুদের অর্থ মালিকানায় আসে না; বরং তা নাপাক (অপবিত্র) অর্থ হিসেবে গণ্য হয়।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, সুদের অর্থ ব্যক্তির মালিকানায় আসে না। এটি তার কাছে আমানত হিসেবে থাকে এবং তাকে অবশ্যই তা মূল মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা সদকা করে দিতে হবে।
ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সুদের অর্থ ব্যক্তির মালিকানায় আসে, তবে তা ব্যবহার করা হারাম। তাদের মতে, এই অর্থ সদকা করা ওয়াজিব।
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত হারাম টাকা দিয়ে টেস্ট করানো বা চিকিৎসার খরচ দেওয়া জায়েজ হবেনা।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত হারাম টাকা দিয়ে টেস্ট করানো বা চিকিৎসার খরচ দেওয়া জায়েজ হবেনা।
*সুদের টাকা দিয়ে মেডিকেল টেস্ট বা চিকিৎসার খরচ দেওয়া সাধারণভাবে জায়েজ নয়। তবে নিম্নলিখিত শর্তে জায়েজ হতে পারে:
১. আপনার অবস্থা সত্যিই জরুরি হতে হবে - অর্থাৎ চিকিৎসা না করালে জীবনহানির আশঙ্কা থাকতে হবে। ২. হালাল টাকা সংগ্রহের কোনো উপায় না থাকতে হবে (যেমন: আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, বা ইসলামি সংস্থা থেকে সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা)। ৩. শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে, অতিরিক্ত নয়।
- কুরআন মাজীদ (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫-২৭৯)
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) - ১/২১২, ৪/১৮০
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফি) - ৪/২৮৭
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকী উসমানি) - ২/৪৮৫
- বাহিশ্তি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি) - সুদ অধ্যায়
- আল-হিদায়া (মারগিনানী) - ৩/১১২-১১৫