তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কতক্ষণ? ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত কি তাহাজ্জুদ পড়া যাবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 1829
Questioner: Mahmuda afrin Mim
Question Asked: 20 Jun 2026, 05:24 AM
Reviewed & Published: 20 Jun 2026, 05:42 AM
Views: 95
Tokens: 3,715
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

তাহাজ্জতের সময় কয়টা পর্যন্ত ধরা হয়। ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত কি পড়া যাবে? আমি নামাজের সময় মুসলিমবাংলা আ্যাপ ফলো করি। তবে মুসলিমবাংলা আ্যাপে যখন দেখায় তাহাজ্জতের সময় শেষ। কিন্তু তখনো আমাদের এখানকার মসজিদ গুলো তে ফজরের আজান দেওয়া শুরু করেনি। তাহলে কি তখন তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারব?

Answer

উত্তর:
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের সঠিক সময় (সুবহে সাদিক) শুরু হওয়া পর্যন্ত। অর্থাৎ, সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাহাজ্জুদের সময় শেষ হয়ে যায় এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সুবহে সাদিকের পর কোনো নফল নামাজ (তাহাজ্জুদসহ) পড়া জায়েজ নয়, শুধু ফজরের সুন্নত নামাজ ছাড়া।

প্রমাণ:

  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) ‘রাদ্দুল মুহতার’ (১/৩৭১) গ্রন্থে বলেন:

    “সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর ফজরের সুন্নত ব্যতীত অন্য কোনো নফল নামাজ পড়া মাকরুহ।”

  • ‘ফাতাওয়া আলমগিরী’ (১/৫৬) ও ‘ফাতাওয়া উসমানী’ (২/২২১) তেও একই কথা বলা আছে।
  • ইমাম কাসানী (রহ.) ‘বাদায়িউস সানায়ি’ (১/২৮৬) তে উল্লেখ করেন:

    “তাহাজ্জুদের শেষ সময় হলো সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত।”

আপনার ব্যবহারিক প্রশ্ন:
আপনি মুসলিমবাংলা অ্যাপ অনুসরণ করেন। অ্যাপে যখন তাহাজ্জুদের সময় শেষ দেখায়, কিন্তু আপনার এলাকার মসজিদে ফজরের আজান তখনো দেয়া শুরু হয়নি—এই অবস্থায় আপনার করণীয়:

১. অ্যাপ ও মসজিদের সময়ের পার্থক্য: এটি সাধারণত স্থানীয় গণনা পদ্ধতি বা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হয়। যদি অ্যাপের দেখানো সময় অনুসারে সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, তাহলে তাহাজ্জুদ পড়া জায়েজ হবে না, কারণ তাহাজ্জুদের সময় শেষ। অন্যদিকে, আপনার এলাকার মসজিদ যদি বাস্তব সুবহে সাদিকের কিছু সময় পর আজান দেয় (যেমন অধিকাংশ মসজিদে সুবহে সাদিকের ২০-৩০ মিনিট পর আজান হয়), তাহলে আসল সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া বৈধ।

২. নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি: আপনার উচিত প্রকৃত সুবহে সাদিক চিহ্নিত করা। সুবহে সাদিক হলো পূর্ব দিগন্তে আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত সাদা আলোর রেখা (একে বলে ‘মুস্তাতিল’ আলো)। এটি উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যাবে। আর এর পরই ফজরের নামাজের সময় শুরু, তখন তাহাজ্জুদ পড়া যাবে না।

৩. স্থানীয় মসজিদের আজানকে প্রাধান্য দিন: সাধারণত স্থানীয় মসজিদের আজানই স্থানীয় গণনা ও দৃশ্যমানতার ভিত্তিতে হয়। তাই আপনার এলাকার মসজিদের আজানের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া চলে (যদি আপনি নিশ্চিত হন যে আজান সুবহে সাদিকের পরই দেয়া হয়)। তবে অ্যাপের সময় যদি প্রকৃত সুবহে সাদিকের সাথে মিলে যায় এবং মসজিদ দেরিতে দেয়, তাহলে অ্যাপের সময়ই গ্রহণযোগ্য হবে।

সারসংক্ষেপ:

  • তাহাজ্জুদের শেষ সময়: সুবহে সাদিক উদিত হওয়া পর্যন্ত।
  • ফজরের আজানের অপেক্ষা না করে, সঠিক সুবহে সাদিক নির্ণয় করে তাহাজ্জুদ পড়বেন।
  • যদি অ্যাপ বলে সময় শেষ, কিন্তু আপনার জানা মতে আসলে সুবহে সাদিক হয়নি (যেমন মসজিদের আজান এখনো দেয়া হয়নি এবং আপনি নিজেও আকাশে কোনো আলো দেখছেন না), তাহলে তাহাজ্জুদ পড়তে পারবেন।
  • আর যদি নিশ্চিত হন যে সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, তাহলে তাহাজ্জুদ ছেড়ে ফজরের সুন্নত ও ফরজের প্রস্তুতি নিন।

সেরা সময়: তাহাজ্জুদের সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (সুবহে সাদিকের আগে)। তাই সময় পাওয়া মাত্রই তাহাজ্জুদ পড়ে নেয়াই উত্তম।

অধিকতর নির্দেশনার জন্য স্থানীয় আলেম বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গণনা অনুসরণ করুন।

রেফারেন্স:

ইবনে আবিদিন, ‘রাদ্দুল মুহতার’ (১/৩৭১) ‘ফাতাওয়া আলমগীরী’ (১/৫৬) ‘ফাতাওয়া উসমানী’ (২/২২১) ‘বাদায়িউস সানায়ি’ (১/২৮৬) ‘মাআরিফুল কুরআন’ (সূরা বনী ইসরাঈলের তাফসির) – তাহাজ্জুদের সময় প্রসঙ্গে ‘বেহেশতী জেওর’ (২/১২০) – তাহাজ্জুদের সময় ও নিয়ম ‘শারহু মাআনি আছার’ (ইমাম তাহাবী) – নিয়মিত নফল ও তাহাজ্জুদের পার্থক্য


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.