কসমের কাফফারা ও এনএসআই চাকরি জায়েজ কিনা?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1826
Questioner: Sania
Question Asked: 20 Jun 2026, 03:47 AM
Reviewed & Published: 20 Jun 2026, 04:07 AM
Views: 66
Tokens: 3,580
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ।আমার প্রশ্ন:
১. কসমের কাফফারা কত ?
২.এনএসআই তে চাকরি করা কি জায়েজ?

Answer

উত্তর দেওয়ার পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ নোট:
আমরা এখানে হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করছি। কুরআন, হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য হানাফি কিতাব (ফাতাওয়া উসমানি, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার, বেহেশতি জেওর, ফাতাওয়া আলমগিরি, আল-হিদায়া, তাবয়িনুল হাকায়েক, উসুলুশ শাশি প্রভৃতি) থেকে দলিল পেশ করা হবে।


১. কসমের কাফফারা কত?

উত্তর:
শরিয়তে কসমের (শপথ) কাফফারা হল—

وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ
(সূরা আল-মায়েদা: ৮৯)

অর্থাৎ, একটি গোলাম আজাদ করা অথবা দশজন মিসকিনকে মধ্যম ধরণের খাবার খাওয়ানো অথবা তাদেরকে কাপড় দেওয়া। যদি এগুলো করতে না পারে, তাহলে তিন দিন রোজা রাখতে হবে।

হানাফি মাযহাবের বিস্তারিত বিধান:

(ক) খাদ্য প্রদান:
প্রত্যেক মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাওয়াতে হবে। অথবা প্রত্যেক মিসকিনকে অর্ধ সা‘ (প্রায় ১.৯ কেজি) গম বা তার সমমূল্যের রুটি, অথবা এক সা‘ (প্রায় ৩.৮ কেজি) যব, খেজুর ইত্যাদি দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার: ৩/৭২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/২৪১)

আধুনিক মূল্য হিসাব:
বর্তমানে (২০২৬ সালের হিসাবে) অর্ধ সা‘ গমের বাজার মূল্য প্রায় ৮০-১০০ টাকা (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)। অতএব, দশজন মিসকিনকে মোট ৮০০-১০০০ টাকা বা সমপরিমাণ খাদ্য দেওয়া প্রয়োজন। তবে উত্তম হল প্রত্যেক মিসকিনকে দুই বেলা ভালো খাওয়ানো।

(খ) পোশাক প্রদান:
প্রত্যেক মিসকিনকে একটি করে লুঙ্গি বা পাঞ্জাবি দেওয়া যথেষ্ট। অথবা গড়পড়তা এক জোড়া পোশাকের মূল্য দেওয়া। (ফাতাওয়া আলমগিরি: ২/২৪৫)

(গ) রোজা:
যদি উপরোক্ত কোনোটি আদায় করতে অক্ষম হন (যেমন, অর্থ নেই), তাহলে টানা তিন দিন রোজা রাখবেন। (বেহেশতি জেওর, ২/৪৩)

মনে রাখবেন:

  • কসম করছিলেন, কিন্তু ভুলে গিয়ে ভঙ্গ করে ফেললে কাফফারা ওয়াজিব নয়, তবে কসম ভঙ্গের কারণে তওবা করতে হবে।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে কসম ভাঙলে কাফফারা ওয়াজিব হয়।
  • যদি একই কসম বারবার করেন এবং ভঙ্গ করেন, তাহলে প্রতিবারের জন্য আলাদা কাফফারা দিতে হবে।

২. এনএসআই (National Security Intelligence) তে চাকরি করা কি জায়েজ?

উত্তর:
এনএসআই হলো বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সাধারণত এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের কাজ দেশের নিরাপত্তা, গোপন তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, নাগরিকদের ওপর নজর রাখা ইত্যাদি। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে চাকরিটি শর্তসাপেক্ষে জায়েজ হতে পারে।

হানাফি ফকিহগণ বলেছেন:

> وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ

(সূরা আল-মায়েদা: ২)
অর্থাৎ, নেকি ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতা করো।

চাকরি করার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

১. কাজের প্রকৃতি শরিয়তসম্মত হতে হবে:

  • যদি চাকরির দায়িত্বে শুধুমাত্র বৈধ তথ্য সংগ্রহ (যেমন, দেশের শত্রু সম্পর্কে তথ্য) এবং ফৌজদারি অপরাধ প্রতিরোধ করা হয়, তাহলে তা জায়েজ।
  • কিন্তু যদি কাজের অংশ হিসেবে মুসলমানদের ওপর অন্যায় গোয়েন্দাগিরি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ, মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া, বা বেআইনি নজরদারি করতে হয়, তাহলে তা হারাম। কারণ ইসলাম গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।

وَلَا تَجَسَّسُوا
(সূরা আল-হুজুরাত: ১২)
অর্থাৎ, তোমরা কারো দোষ খোঁজ করো না।

২. প্রতিষ্ঠানের আইন যদি ইসলামবিরোধী হয়:
যদি এনএসআই এমন কোনো কাজ করে যা স্পষ্টত ইসলামের পরিপন্থী (যেমন, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা, ঘুষখোরিকে সমর্থন করা), তাহলে সেখানে চাকরি করা জায়েজ নয়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/৪৫৮)

৩. জালেম শাসকের সহযোগিতা:
যদি এনএসআই জালিম সরকারের হয়ে নির্যাতনের হাতিয়ার হয়, তাহলে সেখানে চাকরি করা নাজায়েজ। (ফাতাওয়া উসমানি: ২/৫৩০)

সতর্কতামূলক ফতোয়া:
আমাদের প্রেক্ষাপটে এনএসআই একটি সরকারি সংস্থা। অধিকাংশ সময় তাদের কাজ ইসলামের দ্বন্দ্বে পড়ে না বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট পদ ও দায়িত্ব দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সাধারণভাবে বলা যায়:

  • কাজটি যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অপরাধ দমনে সহায়ক হয় এবং কোনো হারাম কাজের সঙ্গে জড়িত না হয়, তাহলে জায়েজ।
  • কিন্তু যদি কোনো অবস্থায় মুসলমানদের ওপর জুলুম, গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা মিথ্যা সাক্ষ্যের প্রয়োজন পড়ে, তবে সে চাকরি ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

উপদেশ:
চাকরি গ্রহণের আগে নিজের দায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠানের নীতি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। কোনো সন্দেহ থাকলে আলিমের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ফতোয়া জিজ্ঞেস করুন।

সারসংক্ষেপ:
১. কসমের কাফফারা: দশজন মিসকিনকে খাওয়ানো বা কাপড় দেওয়া, অথবা তিন দিন রোজা।
২. এনএসআই চাকরি: শর্তসাপেক্ষে জায়েজ; যদি কাজটি শরিয়তসম্মত হয় এবং অন্যায় কাজে লাগে না, তবে পারমিটেড।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথে চালিত করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.