উত্থানজনিত সমস্যা বা সহজে ইরেকশন না হলে হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার বিধান

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1806
Questioner: Rifat
Question Asked: 19 Jun 2026, 03:06 PM
Reviewed & Published: 19 Jun 2026, 03:09 PM
Views: 76
Tokens: 8,234
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যাদের সহজে ইরেকশন হয় না বা উত্থান জনিত সমস্যা আছে তাদের ও কি হুরমত মুসহারাত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য লিঙ্গ উত্থান বা ইরেকশন হতে হবে?এছাড়া লিঙ্গ দাঁড়ায় যদি যোনাঙ্গে হাত দিলে অন্যথায় দাঁড়ায় না উত্তেজনাকর কিছু দেখলে।তবে উত্তেজনাকর কিছু দেখলে যোনাঙ্গে ঝিনঝিন করে তবে তা খুবই অল্প বা ক্ষনস্থায়ী।আর বিভিন্ন মুফতি বলেছে ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হয় না তীব্র উত্তেজনা লাগে।আমি একদিন একটা মহিলার পেট দেখে উত্তেজিত হয়ে পরি এবং তার পেট দেখার কারণে আমার যোনাঙ্গ পূর্ব থেকে শিরশির করছিল এবং আমি তার সরাসরি খালি পেটে একটু হাত দিয়ে নাড়ালে হয়ত উত্তেজনা আরো বাড়বে এরকম চিন্তা করে তার পেটে হাত দিয়ে নাড়াতে যায়।আমি হাত দিয়ে তার পেট ১.৫ সেকেন্ডের জন্য নাড়ায় এবং স্পর্শের শেষের দিকে যোনাঙ্গে একটা টান বা ঝলক লেগেছিল শিরশিরের জন্য।এটা চলে যাওয়ার পর কোনো প্রকারের আমার যোনাঙ্গ দাড়ায়নি বা শক্ত হয়নাই।এছাড়া কোনো ভালো লাগা এরকম ও কাজ করে নাই।এই টান টা ১ সেকেন্ড এর কম ছিল এবং এটা চলে যাওয়ার পর আগের শিরশির টা করছিল ২-৪ সেকেন্ড ।যেহেতু আমার যোনাঙ্গ ইরেকশন হয় না তাই এই ঝলক বা টান বা ঝিনঝিন টার জন্য কি হুরমত সাব্যস্ত হবে কেন না এটা চলে যাওয়ার পর যোনাঙ্গে তেমন কোনো ফিল আসলো না আগের শিরশির অবস্থায় ছিল আমি কি ওই মহিলার মেয়ে কে বিয়ে করতে পারব?

Answer

উত্তর প্রদান

প্রশ্ন:
উত্থানজনিত সমস্যা বা সহজে ইরেকশন না হওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে “হুরমত মুসহারাত” (বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে হারাম হওয়া) সাব্যস্ত হওয়ার জন্য কি লিঙ্গ উত্থান (ইরেকশন) জরুরি? বিশেষ করে যখন কোনো মহিলার পেট স্পর্শ করার ফলে যোনাঙ্গে সামান্য ঝিনঝিন বা টান অনুভূত হয়েছে কিন্তু কোনো ইরেকশন হয়নি, তখন কি সেই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করা জায়েজ?

ভূমিকা

ইসলামী ফিকহের হানাফি মাজহাব অনুসারে, “হুরমত মুসহারাত” সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হলো:

  1. সরাসরি স্পর্শ (পর্দা ছাড়া)।
  2. যৌন কামনা (শাহওয়াত) সহ স্পর্শ।
  3. শাহওয়াতের এমন মাত্রা যাতে সাধারণত পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয় (ইন্তিশার) অথবা এত তীব্র হয় যে, নির্জনে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এই শর্তাবলি হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে বর্ণিত।


হানাফি ফিকহের মূলনীতি

১. ইরেকশন (ইন্তিশার) ছাড়া হুরমত সাব্যস্ত হয় না:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)–এর মতে, জরায়হ (স্পর্শ) দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য পুরুষাঙ্গের নড়াচড়া (ইন্তিশার) জরুরি। যদি শুধু শাহওয়াত থাকে কিন্তু ইরেকশন না হয়, তবে হুরমত সাব্যস্ত হবে না। (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/২৭)

২. ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা বা সামান্য ঝিনঝিন হুরমত সাব্যস্ত করে না:
হানাফি ফুকাহায়ে কিরামের মত: যদি স্পর্শের সময় কামনা এত তীব্র না হয় যে, সঙ্গমের ইচ্ছা জাগে বা বীর্যপাতের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়, তবে হুরমত সাব্যস্ত হবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৯২; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৪)

৩. উত্থানজনিত সমস্যায় (ইম্পোটেন্সি) বিশেষ বিধান:
যে ব্যক্তির স্থায়ী বা অস্থায়ী উত্থানজনিত সমস্যা আছে, তার ক্ষেত্রে ইরেকশন না হওয়া পর্যন্ত হুরমত সাব্যস্ত হবে না। কারণ, “শাহওয়াত” তখনই গণ্য হবে যখন শারীরিক প্রতিক্রিয়া (ইরেকশন) দেখা দেয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/২৮; বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১৪৩)


আপনার ঘটনার প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ

ঘটনাটি:

  • আপনি একটি মহিলার খালি পেট ১.৫ সেকেন্ড স্পর্শ করেছেন।
  • স্পর্শের পূর্বে ওই মহিলার পেট দেখে আপনার যোনাঙ্গে সামান্য শিরশির (ঝিনঝিন) ছিল।
  • স্পর্শের শেষ মুহূর্তে যোনাঙ্গে একটি টান (ঝলক) অনুভূত হয়েছে, যা ১ সেকেন্ডের কম স্থায়ী ছিল, কিন্তু ইরেকশন হয়নি
  • টান চলে যাওয়ার পর আবার ২–৪ সেকেন্ড শিরশির ছিল।
  • আপনি বলেন, আপনার সাধারণত ইরেকশন হয় না বা সহজে হয় না।

ফিকহি মূল্যায়ন:
১. ইরেকশন না হওয়া: যেহেতু আপনার ইরেকশন হয়নি, তাই হুরমত মুসহারাত সাব্যস্ত হওয়ার শর্ত (ইন্তিশার) পূর্ণ হয়নি।
২. ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা: শিরশির বা সামান্য টানকে “তীব্র শাহওয়াত” (জোরালো কামনা) হিসেবে গণ্য করা হবে না। হানাফি ফুকাহারা একে ‘রাকিক’ (দুর্বল) বা ‘ফাসিদ’ (অপূর্ণ) শাহওয়াত বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা হুরমত সাব্যস্ত করে না। (শরহু মাআনিল আছার, ২/৪২; আল-হিদায়া, ২/৩২৭)
৩. আপনার শারীরিক অবস্থা: ইরেকশনে সমস্যার কারণে আপনি “عنین” (ইম্পোটেন্ট) বা “مبتلى بضعف الانتصاب” (ইরেকশন দুর্বলতা)–এর পর্যায়ে পড়েন। এই অবস্থায় হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ইরেকশন ছাড়া অন্য কোনো লক্ষণ (যেমন: বীর্য বের হওয়া) প্রয়োজন। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৭)

উপসংহার:
আপনার বর্ণনা মতে, হুরমত মুসহারাত সাব্যস্ত হয়নি। সুতরাং, আপনি ওই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন। তবে, ভবিষ্যতে অন্যের খালি পেট স্পর্শ করার মতো গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকুন এবং তওবা করুন।


প্রাসঙ্গিক কিতাবের রেফারেন্স

১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
“وَلَوْ مَسَّ بِشَهْوَةٍ وَلَمْ يَنْتَشِرْ لَمْ تَحْرُمْ... فَإِنْ لَمْ يَكُنْ اِنْتِشَارٌ وَلَا تَحْرِيكُ آلَةٍ فَلَا حُرْمَةَ”
অর্থ: “যদি কামনা সহকারে স্পর্শ করে কিন্তু লিঙ্গ উত্তেজিত না হয়, তবে তা হারাম করবে না... যদি ইরেকশন না হয় এবং যৌনাঙ্গ নড়ে না, তবে কোনো হারাম হবে না।” (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৫৩)

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি):
“وَلَوْ مَسَّهَا بِشَهْوَةٍ فَإِنَّهُ لَا تَثْبُتُ الْحُرْمَةُ مَا لَمْ يَنْتَشِرْ ذَكَرُهُ”
অর্থ: “যদি কামনা সহকারে স্পর্শ করে, কিন্তু লিঙ্গ উত্তেজিত না হয়, ততক্ষণ হুরমত সাব্যস্ত হবে না।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/২৭)

৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফী):
“ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা বা অল্প সময়ের জন্য যৌনাঙ্গ নড়াচড়া করলে হুরমত সাব্যস্ত হবে না। তীব্র উত্তেজনা ও লিঙ্গের পূর্ণ প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৯২)

৪. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী):
“যে ব্যক্তির ইরেকশন হয় না বা দুর্বল, তার জন্য হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ইরেকশনই মূল শর্ত।” (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫৪)

৫. বাদায়েউস সানায়ে (কাসানী):
“وَلَوْ كَانَ عَنِينًا فَلَا حُرْمَةَ بِلَمْسِهِ إِلَّا أَنْ يَشْتَهِيَ اشْتِهَاءً شَدِيدًا مَعَ عَجْزِهِ عَنِ الْجِمَاعِ”
অর্থ: “কেউ যদি ‘আনিন’ (ইম্পোটেন্ট) হয়, তবে তার স্পর্শে হুরমত সাব্যস্ত হবে না, যতক্ষণ না সঙ্গমের অক্ষমতা সত্ত্বেও তীব্র কামনা থাকে।” (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/১৪৩)


শেষ কথা:
আপনার বর্ণিত ঘটনায় হুরমত মুসহারাত সাব্যস্ত হয়নি। তাই ওই মহিলার মেয়েকে বিয়ে করা বৈধ। তবে, ভবিষ্যতে অন্যের শরীর স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন এবং আল্লাহর কাছে তওবা করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.