জন্মদিন উদযাপনের খাবার খাওয়ার বিধান কী?
Food and Drink · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন—ইসলামে জন্মদিন পালন করার বিধান কী? অধিকাংশ হানাফি ফকীহ ও scholars-এর মতে, জন্মদিন পালন করা জায়েয নয়। এটি একটি বিদ‘আত (নতুন আবিষ্কৃত রীতি) এবং অমুসলিমদের অনুকরণ, যা শরী‘আত নিষেধ করেছে। [সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৩৪; বেহেশতী জেওর, ১/৮৫]
এখন আপনার মূল প্রশ্ন: আপনি যদি ওই জন্মদিন উদযাপনে সক্রিয় অংশ না নেন, কিন্তু সেখানে দেওয়া খাবার খান, তাহলে কী হবে?
এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের কিতাবাদির নির্দেশনা হলো: কোনো হারাম অনুষ্ঠানে যদি খাবার পরিবেশন করা হয়, তবে সেই খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত। কারণ, খাবার গ্রহণ করা ঐ অনুষ্ঠানের বৈধতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে এবং আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে সহযোগিতা করার শামিল হতে পারে। কুরআনে এসেছে: “পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।” (সূরা মায়িদা: ২)
রদ্দুল মুহতার (رد المحتار)-এ উল্লেখ আছে: এমন জায়গায় খাওয়া মাকরূহ (নিকৃষ্ট) যেখানে বিদ‘আত বা গুনাহের কাজ হয়, যদি খাদ্যটি হালাল হলেও তা সেই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয়। [সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৯৫]
মোটকথা: জন্মদিন উদযাপনে অংশগ্রহণ করা হারাম, এবং সেখানে দেওয়া খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত।
তবে যদি আপনি কোনোভাবে সেই খাবার গ্রহণ করেন, তবে সেটা হারাম হওয়ার পাশাপাশি গুনাহের কাজে সরাসরি সহযোগিতারও শামিল।
হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া উসমানী (জন্মদিন নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (বিদ‘আতী অনুষ্ঠানের খাবার)
- রদ্দুল মুহতার (গুনাহগারের দাওয়াতে খাওয়া)
- বেহেশতী জেওর (বিদ‘আত ও কুসংস্কার অধ্যায়)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন।