স্বামীর "তুমি আমার আম্মার মতো হয়েছো" বলায় যিহার হবে কিনা?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার শাশুড়ী চিড়া খেতে খুব পছন্দ করেন।আমিও চিড়া খেতে পছন্দ করি।গত কাল রাতে আমি চিড়ার পকেট খুজে পাচ্ছি না আমার হাসবেন্ডকে বললাম চিড়া পকেট আমি কোথায় রেখেছি দেখেছেন উনি বললেন আমি কি চিড়া খেয়েছি। আমি বললাম সকালে ঘুম থেকে উটেই আমার চিড়া খাইতে হয় প্রতিদিন আমার হাসবেন্ড বললেন তুমি আমার আম্মার মতো হয়েছো।মানে উনি বুঝাতে চেয়েছেন উনার মা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে চিড়া খান আমিও ঘুম থেকে উঠে চিড়া খাই।
আমার প্রশ্ন হলো আমার হাসবেন্ড যে বললেন তুমি আমার আম্মার মতো হয়েছো এই কথায় বলায় কি যিহার হবে? প্লিজ জানাবেন খুব টেনশন হচ্ছে।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে উল্লেখিত "তুমি আমার আম্মার মতো হয়েছো" এই কথাটি যিহার (যিহার) নয়। কারণ যিহার শুধুমাত্র তখনই সংঘটিত হয় যখন স্বামী তার স্ত্রীকে তার মা বা অন্য কোনো মাহরাম (যার সাথে বিবাহ চিরদিনের জন্য হারাম) নারীর কোনো অঙ্গের সাথে তুলনা করে, বিশেষত এমন শব্দে যা স্ত্রীকে তার মায়ের মতো হারাম করে দেয়। যেমন বলা "তুমি আমার মায়ের পিঠের মতো" বা "তুমি আমার বোনের মতো" ইত্যাদি।
আপনার স্বামী শুধু বলেছেন যে, "তুমি আমার আম্মার মতো হয়েছো" – এর অর্থ তিনি আপনার ও তার মায়ের মধ্যে আচরণগত সাদৃশ্য বুঝিয়েছেন (যেমন দুজনেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই চিড়া খান)। এটি যিহারের অন্তর্ভুক্ত নয়।
হানাফি ফিকহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, যিহার প্রমাণিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যা স্ত্রীকে মায়ের সাথে তুলনা করে তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে। শুধু "তোমার মায়ের মতো" বললে যিহার হয় না, যতক্ষণ না উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে স্ত্রীকে মায়ের সমতুল্য করা হয় (যেমন শারীরিক অঙ্গের সাথে তুলনা)। (রদ্দুল মুহতার, ৪/৪৬৯; ফাতাওয়া আলমগিরি, ২/১০৫)
তবে যদি স্বামী বলে, "তুই আমার মায়ের মতো" এবং তার উদ্দেশ্য হয় স্ত্রীকে মায়ের মতো হারাম করা, তাহলে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে এটি যিহার গণ্য হবে। কিন্তু সাধারণত বাস্তবে এ ধরনের কথা বলার সময় লোকেরা আচরণগত বা অভ্যাসগত সাদৃশ্য বুঝিয়ে থাকে, যিহারের নিয়তে নয়।
আপনার ক্ষেত্রে:
যেহেতু আপনার স্বামী শুধু চিড়া খাওয়ার অভ্যাস এর সাথে তুলনা করেছেন, যিহারের কোনো শর্ত পূরণ হয়নি। তাই এতে কোনো প্রকার কাফফারাহ (প্রায়শ্চিত্ত) বা তালাকের প্রভাব পড়বে না। আপনি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
পরামর্শ:
ভবিষ্যতে স্বামীকে অনুরোধ করবেন, এ ধরনের কথা না বলতে। তবে ইতিমধ্যে বলায় কোনো গুনাহ নেই।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
Reference Books:
- রদ্দুল মুহতার: ৪/৪৬৯-৪৭০ (باب الظهار)
- ফাতাওয়া আলমগিরি: ২/১০৫-১০৬
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: ২/২৫৬
- ফাতাওয়া উসমানি: ৩/৪১৫