নন মাহরাম নারীর পেটে স্পর্শ ও সামান্য উত্তেজনায় কি বিবাহের নিষেধাজ্ঞা (হুরমত) সাব্যস্ত হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 1692
Questioner: Shakib
Question Asked: 16 Jun 2026, 05:06 PM
Reviewed & Published: 16 Jun 2026, 05:42 PM
Views: 117
Tokens: 9,829
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পূর্বের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি ইরেকশন যেহেতু হয়নাই তাই হুরমত সাব্যস্ত হয়নি। এখন একটু নতুন কিছু সংযোজন  করছি:(এমনে আমার উত্তেজনাকর কিছু দেখলে ইরেকশন হয় না সহজে আর আমি মহিলাটার পেটে সরাসরি স্পর্শ করেছি।এবং আমি উনার পেট দেখার কারণে যোনাঙ্গে শিরশির অনুভূতি হচ্ছিল ভাবছি পেটে হাত এক পাশ থেকে আরেকপাশে নাড়ালে উত্তেজনা আরো বাড়বে।আমি যখন পেটে হাত নাড়াতে যায় নাড়ানীর শেষের দিকে একটা টান বা ঝলক আসে। এখন এই টান বা ঝলক এটার জন্য কি হুরমত সাব্যস্ত হবে? কেন না এই টান টা চলে যাওয়ার পর আমার যোনাঙ্গে কোনো কিছু হচ্ছিল না আগের শিরশির অবস্থায় ছিল।আর আমার স্পর্শ বা হাত নাড়ানোর সময় মাত্র ১.৫ সেকেন্ড এখন আমি কি তার মেয়ে কে বিয়ে করতে পারব?)
‎আগের প্রশ্ন:উত্তর পেয়েছি
‎সম্মানিত মুফতি সাহেব আসসালামু আলাইকুম।দয়া করে পুরোটা পড়বেন। আমি একজন ছেলে আমার উত্তেজনাকর কিছু দেখলে সহজে লিঙ্গ দাঁড়ায় বা শক্ত হয় না তবে যোনাঙ্গ এর ভিতরে কিছু একটা করে যেমন কোনো কিছু ফুটতাছে অথবা কিছু চলাচল করতাছে এমন যা ঝিনঝিন বা ঝলক বলে।যেটা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় খুবই কম মাত্রার উত্তেজনা।এবং উত্তেজনা  আসার প্রাথমিক লক্ষণ যা ক্ষনস্থায়ী এবং কম মাত্রার উত্তেজনা কে নির্দেশ করে।আবার আমার লিঙ্গ দাড়াতে একটু সময় লাগে হাতের স্পর্শ পেতে হয়। না হয় বিষয়টি অধিক উত্তেজনাকর হতে হয় আর হাত স্পর্শ না করলে লিঙ্গ ছোট অবস্থায় একটু শক্ত হয় রগ বেরিয়ে আসে এবং একটু বাকা হয়ে থাকে।এখন একদিন আমি একটা মহিলাকে আমার যোনাঙ্গ পূর্বের চিন্তার কারণে আগে থেকে শিরশির করে এবং অই অবস্থায় স্পর্শ করি এবং স্পর্শের শেষের দিকে যদি একটা টান আসে ওই টান টার জন্য কি হুরমত সাব্যস্ত হবে কি না?আমি স্পর্শ ১.৫ সেকেন্ড এর জন্য করছি। আর টান টা এক সেকেন্ডের কম সময় ছিল। কেন না ওই টান টা চলে যাওয়ার পর যোনাঙ্গ কোনো কিছু চেঞ্জ হলো না অথবা যোনাঙ্গে বিশেষ কিছু লাগলো না।এ আই এর মাধ্যমে জানলাম এটাও কম মাত্রার উত্তেজনা।কয়েকজন মুফতির সাথে কথা বলে জানতে পারি কম মাত্রার উত্তেজনার কারণে হুরমত সাব্যস্ত হয় না।এগুলো আসা নাকি স্বাভাবিক তবে উত্তেজনা পূর্নাঙ্গ হতে হয় বা দাড়িয়ে যেতে হবে।আমার তো দাড়াতে সময় লাগে বা ছোট অবস্থায় শক্ত হয় তবে সে সময় টান বা ঝলক বা ঝিনঝিন করার কারণে এরকম কিছু হয় না।এখন স্পর্শ অবস্থায় এই টান বা ঝিনঝিন আসলে হুরমত সাব্যস্ত হবে কি ওই মহিলার মেয়ে কে কি আমি বিয়ে করতে পারব?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
উত্তর

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি এক মহিলার পেটে সরাসরি স্পর্শ করেছেন এবং স্পর্শের সময় আপনার যৌনাঙ্গে সামান্য টান বা ঝলক অনুভব করেছেন, কিন্তু পুরোপুরি ইরেকশন (লিঙ্গ দাঁড়ানো) হয়নি এবং কোনো বীর্যপাতও ঘটেনি। এখন প্রশ্ন হলো, এই স্পর্শের কারণে কি ঐ মহিলার মেয়েকে বিয়ে করা আপনার জন্য হারাম (হুরমত সাব্যস্ত) হবে কিনা?

হানাফি ফিকহের মূলনীতি

নামাহরম নারীর সাথে কামোত্তেজনাপূর্ণ স্পর্শের (মাস্স বি শাহওয়াত) কারণে তার মা, মেয়ে, বোন ইত্যাদি নিকটাত্মীয়দের সাথে বিবাহ হারাম হয়ে যায়। কিন্তু হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, এই হারাম সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হলো—স্পর্শের সময় পুরুষের লিঙ্গ দাঁড়ানো (ইরেকশন) অথবা বীর্যপাত হওয়া আবশ্যক। শুধুমাত্র সামান্য উত্তেজনা বা ঝিনঝিন/ঝলক অনুভব করলে হুরমত সাব্যস্ত হবে না, যতক্ষণ না তা পূর্ণ ইরেকশনের পর্যায়ে পৌঁছায়।

আপনার বর্ণনার বিশ্লেষণ

১. আপনি বলেন, ‘লিঙ্গ দাঁড়াতে সময় লাগে’ এবং ‘ছোট অবস্থায় একটু শক্ত হয়, কিন্তু পুরোপুরি দাঁড়ায় না’।
২. স্পর্শের শেষে একটি ‘টান বা ঝলক’ এসেছে, কিন্তু তা চলে যাওয়ার পর আপনার যৌনাঙ্গে কোনো পরিবর্তন ছিল না (অর্থাৎ ইরেকশন হয়নি বা বীর্যপাত হয়নি)।
৩. স্পর্শের সময়কাল মাত্র ১.৫ সেকেন্ড এবং টানটি ১ সেকেন্ডেরও কম ছিল।

এই অবস্থায় আপনার মধ্যে পূর্ণ ইরেকশন (লিঙ্গ দাঁড়ানো) বা বীর্যপাতের কোনো প্রমাণ নেই। তাই হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, ঐ মহিলার সাথে আপনার স্পর্শের মাধ্যমে তার মেয়ের সাথে বিবাহের ক্ষেত্রে কোনো হুরমত (নিষেধাজ্ঞা) সাব্যস্ত হবে না। ফলে আপনি তার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ টীকা

  • নামাহরম নারীর পেটে সরাসরি স্পর্শ করা হারাম এবং গুনাহের কাজ, তবে তা বিবাহের নিষেধাজ্ঞা সৃষ্টি করে না।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। তাওবা করে এ গুনাহ থেকে বেরিয়ে আসুন।

প্রমাণ

হানাফি কিতাবসমূহে উল্লেখ আছে:

  • আল-হিদায়া: “لَا تَثْبُتُ الْحُرْمَةُ بِمَسِّ الْمَرْأَةِ بِشَهْوَةٍ إلَّا مَعَ انْتِشَارِ الذَّكَرِ” (স্পর্শের কারণে হুরমত সাব্যস্ত হবে না, যতক্ষণ না লিঙ্গ দাঁড়ায়)।
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): “وَشَرْطُ ثُبُوتِ الْحُرْمَةِ بِالْمَسِّ انْتِشَارُ ذَكَرِهِ لِأَنَّ الْمَسَّ دُونَ الْجِمَاعِ فَيُعْتَبَرُ فِيهِ مَا يَدُلُّ عَلَى شِدَّةِ الشَّهْوَةِ” (হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য লিঙ্গ দাঁড়ানো শর্ত, কারণ স্পর্শ জিনার চেয়ে নিচু স্তরের, তাই তীব্র কামনার প্রমাণ হিসেবে ইরেকশন জরুরি)।
  • ফতোয়া আলমগীরি: “إذا مس الرجل امرأة بشهوة ولم ينتشر ذكره لا تثبت الحرمة” (যদি কামনার সাথে স্পর্শ করে কিন্তু লিঙ্গ না দাঁড়ায়, তবে হুরমত সাব্যস্ত হয় না)।

সিদ্ধান্ত

আপনার বর্ণিত অবস্থায় হুরমত সাব্যস্ত হয়নি। তাই আপনি ঐ মহিলার মেয়েকে বিয়ে করতে পারবেন। তবে স্পর্শজনিত গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করুন এবং ভবিষ্যতে নামাহরম নারীর প্রতি আকর্ষণজনিত কোনো কাজ থেকে বিরত থাকুন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.