শুধু ১+ ভড়ি গোল্ড আছে। এখন কুরবানির ঐ ৩ দিনের কোনো একদিন ঈদ সেলামি হাতে আসলে কি কুরবানি ওয়াজিব হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার কাছে শুধু ১+ ভড়ি গোল্ড আছে। এ ছাড়া আর কোনো জমান টাকা নেই।
**কুরবানির ঐ ৩ দিনে কেউ যদি আমাকে ঈদ সেলামি দেয় সেই টাকা নিলে কি আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?
** ঈদ সেলামি নেওয়ার আগে থেকেই নিয়ত করেছি কেউ যদি ঈদ সেলামি দেয় তাহলে আমি ডিম কিনব + জাজিম বানাতে দিব এগুলো আমার প্রয়োজন। এমতাবস্থায় কি আমার জন্য ঐ৩ দিনে কুরবানি ওয়াজিব হবে?
*** যদি সেলামি গ্রহন না করে যদি বলি আমার সলামি ওমক ব্যাক্তিকে দিন (হাদিয়া হিসেবে)
তাহলে কি আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?
***যদি উপরের সকল অবস্থাতেই কুরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে যদি ঈদ সেলামিই গ্রহন না করি তাহলে আমার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে না তাই না?
জাঝাকাল্লাহ্ খইরন
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
আপনার কাছে কেবল ১+ ভরি (≈১১.৬৬ গ্রামের কম) স্বর্ণ আছে এবং কোনো নগদ টাকা নেই। কুরবানির তিন দিনে কেউ যদি আপনাকে "ঈদ সেলামি" (হাদিয়া/উপহার) স্বরূপ টাকা দেয়, তাহলে সেই টাকা নেওয়ার পর আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে কিনা—এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবস্থার বিস্তারিত বিধান জানতে চেয়েছেন।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা (৫২.৫ তোলা ≈ ৬১২.৩৬ গ্রাম) কিংবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্যের বাড়ন্ত সম্পদ (যেমন নগদ টাকা, ব্যবসার পণ্য বা সম্মিলিত নেসাব) অথবা প্রয়োজন অতিরিক্ত অবাড়ন্ত সম্পদ(যেমন,ঘরের আসবাবপত্র, জমি,গাড়ী বাড়ী) কুরবানির দিনগুলোতে (১০, ১১, ১২ জিলহজ) মালিকানায় থাকা শর্ত। অবাড়ন্ত সম্পদের ক্ষেত্রে তা মূল প্রয়োজন (যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ঋণ) বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে।
১. যদি ঈদ সেলামির টাকা গ্রহণ করেন:
- কুরবানির দিনগুলোর মধ্যে কোনো সময় আপনার মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ আসলে কুরবানি ওয়াজিব হয়।
- আপনি যদি কুরবানির দিনে ঈদ সেলামি আকারে টাকা পান, এবং সেই টাকা আপনার আগের সোনার সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব (বর্তমান বাজারমূল্যে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমান) পূর্ণ করে ফেলে, তাহলে আপনার উপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৬/৩১২; ফতোয়া হিন্দিয়া, ৫/২৯২)
২. সেলামি নেওয়ার আগে নিয়ত করলেন যে তা দিয়ে ডিম ও অনেকিছু কিনবেন:
- কুরবানি ওয়াজিবের ক্ষেত্রে নিয়তের কোনো প্রভাব নেই। মূল বিষয় হলো বস্তুগত মালিকানা। যতক্ষণ না আপনি প্রকৃতপক্ষে সেই টাকা খরচ করে ফেলেছেন, ততক্ষণ তা আপনার সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
- তবে যদি কুরবানির সময়ের আগেই (যেমন: ৯ জিলহজ সন্ধ্যার আগে) সেই টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলেন, তাহলে নিসাব পূর্ণ হবে না এবং কুরবানি ওয়াজিব হবে না। কিন্তু যদি কুরবানির দিনে টাকা পেয়ে তাৎক্ষণিক না কিনে রাখেন, তবে কুরবানি ওয়াজিব হবে।
(সূত্র: ইমদাদুল ফতোয়া, ২/২২৩; বাহিশতি জেওর, ৮/১২)
৩. সেলামি গ্রহণ না করে অন্যকে হাদিয়া হিসাবে দিতে বললে:
- যেহেতু টাকা আপনার হাতে আসেনি, বরং সরাসরি অন্য ব্যক্তির কাছে চলে গেছে, তাই এটি আপনার সম্পদ হবে না। ফলে আপনার নিসাব অপরিবর্তিত থাকলে কুরবানি ওয়াজিব হবে না।
(সূত্র: আল-হিদায়া, ৪/৭৫; ফতোয়া আলমগীরি, ৫/২৯৪)
৪. সম্পূর্ণভাবে সেলামি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে:
- সেলামি না নেওয়ার অর্থ হলো আপনার সম্পদে কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি। তাই আপনার পূর্বের সোনাই যদি নিসাবের কম হয় (যা ১+ ভরিতে নিশ্চিতভাবেই কম), তাহলে কুরবানি ওয়াজিব হবে না।
(সূত্র: শারহু মা'আনিল আসার, ৪/১৮৩; উসুলুশ শাশী, ১২৫)
সতর্কতা ও পরামর্শ:
- সোনার বর্তমান বাজারমূল্য এবং রূপার নিসাবের বর্তমান মূল্য ১৬/০৫/২৬ ইং তারিখ অনুযায়ী যাচাই করে দেখুন। ১ ভরি সোনা (≈১১.৬৬ গ্রাম-সনাতন) বর্তমানে প্রায় ১,৫৮,০০০-২,৩৮,২১ টাকা (বাংলাদেশি) হলেও, এটি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার (≈৬১২ গ্রাম, যার মূল্য প্রায় ১,৮০,০০০-২,৯৬,০০০ টাকা) সমান হতে পারে। কিন্তু আপনার ১+ ভরি সোনা (ধরুন ১১.৫ ভরি) নিসাবের চেয়ে কম। তাই স্বর্ণের মাধ্যমে নিসাব পূর্ণ হয় না।
- ঈদ সেলামি যদি অল্প (যেমন: ৫০০-১০০০ টাকা) হয়, তাহলেও তা আপনার সোনার সাথে মিলে নিসাব পূর্ণ করতে পারে। তবে নিসাব পূর্ণ হলেই কেবল কুরবানি ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়।
ফতোয়া:
১. সেলামি গ্রহণ করলে এবং তা নিসাব পূর্ণ করলে কুরবানি ওয়াজিব হবে।
২. সেলামি গ্রহণ না করলে বা অন্যকে দিতে বললে কুরবানি ওয়াজিব হবে না।
৩. নিয়ত করা মাত্রই সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না; প্রকৃত খরচ না হওয়া পর্যন্ত সেটি সম্পদ গণ্য হবে।
উত্তম পন্থা: যদি কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেলামি না নিয়ে সরাসরি অন্যকে দিতে বলুন কিংবা গ্রহণ করে সাথে সাথে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলুন (যদি নিসাব পূর্ণ হওয়ার আগেই খরচ করা যায়)।
والله أعلم بالصواب