ইস্তিখারা কী, ইস্তিখারার নিয়ম, দু‘আ ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত
Sunnah and Bid'ah · Hanafi
Question
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। ‘এস্তেখারা’ বা ‘ইস্তিখারা’ (الاستخارة) শব্দের অর্থ হলো ‘কল্যাণ প্রার্থনা করা’। শরিয়তের পরিভাষায়, কোনো কাজ করার পূর্বে আল্লাহর নিকট দুই রাক‘আত নফল সালাত আদায় করে বিশেষ দু‘আর মাধ্যমে সেই কাজে কল্যাণ প্রার্থনা করাকে ‘সালাতুল ইস্তিখারা’ বা ‘ইস্তিখারা’ বলে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত ‘আমল, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে শিখিয়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে শিক্ষা দিয়েছেন।
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত বিস্তৃত। তাই আমরা ধাপে ধাপে সবকিছু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
১. ইস্তিখারার পরিচয় ও প্রয়োজনীয়তা
ইস্তিখারা হলো আল্লাহর কাছে ভালো কিছু চাওয়া। মানুষ যখন কোনো বৈধ কাজের ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে যায় এবং কোন দিকে অগ্রসর হলে প্রকৃত কল্যাণ হবে তা বুঝতে পারে না, তখন সে দুই রাক‘আত সালাত পড়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে যে, “হে আল্লাহ! তুমি যদি জানো এই কাজটি আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং তা সম্পন্ন করার তাওফীক দাও। আর যদি তুমি জানো এই কাজটি আমার জন্য অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে দাও এবং আমার জন্য অন্য কোনো কল্যাণের ব্যবস্থা করে দাও।”
এই ‘আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং তাঁর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। এটি তাওয়াক্কুল ও তাসলীমের একটি উৎকৃষ্ট প্রকাশ।
প্রয়োজনীয়তা:
ইস্তিখারা শুধু জরুরি সিদ্ধান্তের জন্যই নয়; বরং প্রতিটি বৈধ কাজের শুরুতে এটি করা সুন্নাত। বিশেষ করে বিবাহ, ব্যবসা, চাকরি, পড়াশোনা, ভ্রমণ, বাসস্থান বাছাই ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইস্তিখারা করা অত্যন্ত মুস্তাহাব।
উপকারিতা:
- আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা স্থাপন হয়।
- অন্তরের দ্বিধা দূর হয় এবং মানসিক শান্তি আসে।
- কাজ শুরু করার পর আফসোস বা লজ্জা কম হয়।
- ইস্তিখারা করার পর আল্লাহ যদি কাজটি সহজ করে দেন, তবে বান্দা নিশ্চিত হয় যে এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি বাধা আসে, তবে বুঝে নেয় যে এতে অকল্যাণ আছে।
- হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইস্তিখারা করে, সে কখনো ব্যর্থ হয় না। (আবু দাউদ)
২. ইস্তিখারার নিয়ম ও পদ্ধতি (সকল মাযহাবের আলোকে)
ইস্তিখারার মূল পদ্ধতি হলো:
দুই রাক‘আত নফল সালাত পড়া, তারপর বিশেষ দু‘আ পাঠ করা।
তবে সালাতের সময় ও দু‘আর স্থান নিয়ে মাযহাবগুলোর মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। নিচে আমরা সকল মাযহাবের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো উল্লেখ করছি।
ক. সালাতের বিবরণ:
-
হানাফী মাযহাব:
– সালাতের নিয়ত: “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাক‘আতাইনি সলাতাল ইস্তিখারা” (দুই রাক‘আত ইস্তিখারার সালাতের নিয়ত করছি)
– প্রথম রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরূন (قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ) এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) পড়া মুস্তাহাব। কিছু হানাফী কিতাবে প্রথম রাক‘আতে সূরা কাফিরূন ও দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পড়ার কথা এসেছে। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া)
– সালাম ফিরানোর পর দু‘আ পড়া হবে। (হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী সকলেরই এ মত গ্রহণযোগ্য, যদিও শাফেয়ীরা সালামের আগে দু‘আ পড়াকে মুস্তাহাব বলেন।) -
শাফেয়ী মাযহাব:
– প্রথম রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরূন, দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পড়া সুন্নাত।
– দু‘আ সালাম ফিরানোর পূর্বে, তাশাহহুদের পর ও সালামের আগে পড়া মুস্তাহাব। (আল-আযকার, ইমাম নববী) -
মালেকী মাযহাব:
– দুই রাক‘আত সালাত পড়া ওয়াজিব নয়; বরং নফল হিসেবে পড়া হয়। তাদের মতে, ইস্তিখারার সালাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা নেই; যেকোনো সূরা পড়া যায়। তবে প্রথম রাক‘আতে সূরা কাফিরূন ও দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইখলাস পড়া উত্তম। (আল-মুয়াত্তা, ইমাম মালেকের রেওয়ায়েত) -
হাম্বলী মাযহাব:
– হানাফী ও শাফেয়ীর মতো সূরা কাফিরূন ও ইখলাস পড়া মুস্তাহাব।
– সালামের পর দু‘আ পড়তে হবে। (আল-মুগনী, ইবনু কুদামা)
সারসংক্ষেপ:
সব মাযহাবেই দুই রাক‘আত নফল সালাত এবং তারপর দু‘আ মূল বিষয়। সূরা নির্বাচন ও দু‘আর সময়ের পার্থক্য ছোট ছোট মাসআলা, যেগুলোকে শিথিলভাবে গ্রহণ করা যায়।
খ. দু‘আ (সহীহ ও বিশুদ্ধ সনদে):
হাদীসে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ দু‘আটি হলো—
আরবী:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
উচ্চারণ:
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাদ্বলিকাল ‘আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়া লা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামুল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুল লী ফী দীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহূ লী ওয়া ইয়াসসিরহূ লী সুম্মা বারীক লী ফীহি, ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হাযাল আমরা শাররুল লী ফী দীনী ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আক্বিবাতি আমরী ফাস্বরিফহূ ‘আন্নী ওয়াস্বরিফনী ‘আনহু, ওয়াক্বদুর লীল খাইরা হায়ছু কানা সুম্মা আরদ্বিনী বিহী।”
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের মাধ্যমে তোমার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং তোমার ক্ষমতার মাধ্যমে তোমার নিকট ক্ষমতা প্রার্থনা করছি এবং তোমার মহা অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা তুমি ক্ষমতা রাখো, আমি ক্ষমতা রাখি না; তুমি জানো, আমি জানি না; আর তুমি অদৃশ্যের জ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে, এই কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীন, আমার জীবনযাপন এবং আমার পরিণামের দিক থেকে কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করো, সহজ করো এবং তাতে বরকত দাও। আর যদি তুমি জানো যে, এই কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীন, আমার জীবনযাপন এবং আমার পরিণামের দিক থেকে অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দাও এবং আমাকে তা থেকে সরিয়ে দাও; এবং যেখানেই কল্যাণ থাকুক, তা আমার জন্য নির্ধারিত করো, অতঃপর আমাকে তার উপর সন্তুষ্ট করে দাও।”
সনদ:
এই দু‘আটি সহীহ বুখারী (হাদীস নং ১১৬২, ৭৩৮২) ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)
গ. ইস্তিখারা করার অন্যান্য পদ্ধতি:
- শুধু দু‘আ করাও জায়েয: কেউ যদি সালাতের মাধ্যমে ইস্তিখারা না করে শুধু উক্ত দু‘আটি পাঠ করে, তাতেও ইস্তিখারা আদায় হবে। তবে সালাতের মাধ্যমে করা উত্তম। (ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৭৬)
- সাতবার ইস্তিখারা: হানাফী ফকীহগণ বলেছেন, ইস্তিখারা সাতবার করা মুস্তাহাব। যদি প্রথমবারেই মন স্থির হয়, তবুও সাতবার করা ভালো। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৫৩; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭০)
- ইস্তিখারা ও ইস্তিশারা (পরামর্শ): ইস্তিখারার পাশাপাশি বিশ্বস্ত ও বিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করাও সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরামর্শ করে, সে নিরাপদ থাকে।” (তাবারানী)
ঘ. ইস্তিখারার পর ফলাফল বোঝার উপায়:
ইস্তিখারা করার পর কাজটি করার জন্য মন শান্ত ও স্বস্তি বোধ করা এবং কাজটি সহজ হওয়াকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ইশারা হিসেবে নেওয়া সুন্নাত। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। হাদীসে ইস্তিখারা করার পর স্বপ্নের কথা আসেনি। অনেক বুজুর্গ বলেছেন, ইস্তিখারার পর কোনো স্বপ্ন দেখলে তা ভালো, কিন্তু না দেখলেও ক্ষতি নেই। মূলত মন স্থির হওয়া বা কাজের পথ সুগম হওয়াই আসল ইশারা। হানাফী ফকীহগণ বলেন, ইস্তিখারার পর মন হয়তো কাজের প্রতি আকৃষ্ট হবে অথবা অনীহা জন্মাবে—যে দিকে মন ঝুঁকে পড়ে, সেটাই বেছে নেওয়া উচিত। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭১)
৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবীদের ইস্তিখারা
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে ইস্তিখারা করতেন এবং সাহাবীদের শেখাতেন। নিম্নে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
- হাদীসে জাবির (রা.): তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, “তোমাদের কেউ কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন ফরজ সালাতের বাইরে দুই রাক‘আত নফল পড়ে, তারপর এই দু‘আ পড়ে...” (বুখারী)
- উম্মে সালামা (রা.)-এর হাদীস: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন কোনো কাজের ইস্তিখারা করতেন, তখন তিনি বলতেন, “আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা...” (আদবুল মুফরাদ)
- সাহাবীদের ‘আমল: ইবনু উমর (রা.) ও ইবনু আব্বাস (রা.)-এর মতো সাহাবীরা প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ইস্তিখারা করতেন। তাবে‘ঈ ও পরবর্তী বুজুর্গরাও এ ‘আমল অব্যাহত রাখেন।
৪. বিশ্ববিখ্যাত আলেম ও জ্ঞানীদের পদ্ধতি
প্রখ্যাত আলেমগণ ইস্তিখারা সম্পর্কে বিভিন্ন মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। নিচে কয়েকজনের মত তুলে ধরা হলো:
- হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন, ইস্তিখারা করার পর অপেক্ষা করতে হবে। যদি মনে স্বস্তি আসে, তাহলে কাজটি করুন। যদি স্বস্তি না আসে, তবে তা বাদ দিন। যদি সাতবার পরও স্বস্তি না আসে, তবে আরও ইস্তিখারা চালিয়ে যেতে পারেন অথবা কাজটি ছেড়ে দিন। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১০০-১০১)
- হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন, “ইস্তিখারা একটি দু‘আ, এটি কোনো গণনা বা ভবিষ্যদ্বাণী নয়। ইস্তিখারা করার পর আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে এবং সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ইস্তিখারার পদ্ধতি নির্দিষ্ট নয়; বরং সালাত ও দু‘আই মূল।” (বাহীশতী জেওয়ারের ব্যাখ্যা, ফিকহী মাকালাত)
- শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) (হাম্বলী মাযহাবের ইমাম) বলেছেন, ইস্তিখারা হলো তাওয়াক্কুলের একটি রূপ, তাই অন্তরের নিশ্চিন্ততা পাওয়া পর্যন্ত ইস্তিখারা চালিয়ে যাওয়া জায়েয। (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ১১/২৯৮)
- ইমাম নববী (রহ.) (শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম) তাঁর ‘আল-আযকার’-এ বলেছেন, ইস্তিখারা সালাতের পরে দু‘আ পাঠ করা মুস্তাহাব এবং তাতে সূরা কাফিরূন ও ইখলাস পড়া সুন্নাত।
সকল মাযহাবের আলেমগণ একমত যে, ইস্তিখারা করার পর কোনোরূপ কুলক্ষণ বা শুভক্ষণ দেখা জায়েয নয়। বরং আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কাজ শুরু করতে হবে।
৫. ইস্তিখারার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
- ইস্তিখারা শুধু মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) কাজের জন্য; ওয়াজিব বা হারাম কাজের জন্য ইস্তিখারা করা জায়েয নয়। কারণ ওয়াজিব কাজ করতেই হবে, আর হারাম কাজ বর্জন করতেই হবে।
- ইস্তিখারার জন্য নির্দিষ্ট সময় নেই। যেকোনো সময় (অপবিত্র অবস্থা ছাড়া) পড়া যায়। তবে উত্তম হলো শেষ রাত বা তাহাজ্জুদের সময়, যখন দু‘আ কবুলের সম্ভাবনা বেশি।
- ইস্তিখারা সালাতের পূর্বে গোসল করা বা পবিত্র কাপড় পরিধান করা মুস্তাহাব, তবে আবশ্যক নয়।
- ইস্তিখারার পর স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়। যদি স্বপ্নে কিছু দেখেন, তবে তা নিয়ে নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন না; বরং কোনো দ্বীনদার ও জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে বলবেন।
- ইস্তিখারা করার পর কাজে বাধা আসা বা কাজে অনীহা হওয়া—এ দুটোই আল্লাহর পক্ষ থেকে ইশারা হতে পারে। কাজটি সহজ হলে বুঝবেন কল্যাণ আছে, আর কঠিন হলে বুঝবেন অকল্যাণ আছে।
৬. উপসংহার
ইস্তিখারা একটি সহজ ও প্রমাণিত সুন্নাত। এটি তাওয়াক্কুল ও ভরসার শিক্ষা দেয়। আপনি যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দ্বিধায় থাকেন, তবে নির্দ্বিধায় দুই রাক‘আত সালাত পড়ে উপরোক্ত দু‘আ করুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রেখে কাজটি শুরু করুন। যদি মন শান্ত হয় এবং পথ সুগম হয়, তবে নিশ্চিত হোন যে এটি আপনার জন্য কল্যাণকর। আর যদি বাধা আসে বা মন অস্থির থাকে, তবে কাজটি স্থগিত রাখুন বা বাদ দিন। আল্লাহ উত্তম ব্যবস্থা করবেন ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইস্তিখারার সঠিক আমল করার তাওফীক দান করুন এবং প্রতিটি কাজে কল্যাণ দান করুন। আমীন।