স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিলেও স্ত্রী যদি স্পষ্ট তালাক না বলে কেবল “থাকতে চাই না”, “আলাদা হব” ইত্যাদি বলে, তাহলে তালাক হবে?

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1636
Questioner: 48 Mohammad Yasir Zafir
Question Asked: 14 Jun 2026, 10:37 PM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 10:39 PM
Views: 8
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার স্ত্রীকে তালাক এর অধিকার দেই তাফবীজ তালাক এর। কিন্তু সে কিছুই বলে না উত্তরে। কিন্তু যেহেতু ঝগড়া চলছিল সে বারবার বলছিল "থাকতে চাই না" আলাদা হব" "আলাদা থাকতে চাই"ভালো লাগে না, চলে যাব হেন তেন। অতঃপর ঝগড়া থেমে যায় সে অধিকার বলে কিছু করে না তাই আমিও ফিরিয়ে নেই অধিকার। 2. কিন্তু পরের দিন সে এমনি বিরক্ত বলছিল কেন যে কালকে সুযোগ টা কাজে লাগলাম না এটা বলে থেমে যায় ভয়ে যদি সমস্যা হয় এই ভেবে। এটার উত্তর দেন please? 3. তখন এটাও বলেছিল সংসার করতে চায় না আলাদা থাকবে এসব বাক্য এখন কোনে সমস্যা হবে নাতো?

আমার প্রশ্ন টা হচ্ছে তার রিএকশনে এসব বাক্য বলার দ্বারা কি তালাক হবে যেহেতু অধিকার দিয়েছিলাম ওই মুহূর্তে?
আমার যতদূর মনে পড়ে আমি তাকে সাময়িক অধিকার দিয়েছিলাম সারা জীবনের জন্য অধিকার দিয়েছি এমন বলিনি হয়তো ৫০/৫০ এতে কি সমস্যা হবে আমি পুরা sure na

Answer

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ। আপনার প্রশ্নটি ওয়াসওয়াসা (মনের সন্দেহ ও অবান্তর চিন্তা) থেকে উদ্ভূত। নিম্নে কুরআন, সহীহ হাদীস এবং সালাফী উলামাদের মতামতের আলোকে স্পষ্টভাবে উত্তর দেওয়া হলো।

১. তালাকের অধিকার দেওয়া (তাফবীজ তালাক) ও তার শর্তাবলী

স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় (তাফবীজ), তাহলে স্ত্রী তখনই তালাক দিতে পারবে যদি সে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তালাক উচ্চারণ করে, যেমন: “আমি তালাক নিলাম” বা “আমি নিজেকে তালাক দিলাম”। তবে স্ত্রী যদি শুধু বলে “আমি থাকতে চাই না”, “আলাদা হতে চাই”, “চলে যাব” ইত্যাদি, তাহলে এগুলো তালাক গণ্য হবে না, যতক্ষণ না সে স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ বলে অথবা তার উদ্দেশ্য তালাক হয়।

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

“তালাকের অধিকার দেওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী যদি তালাকের শব্দ না বলে, তাহলে কোনো তালাক পতিত হয় না। তার সাধারণ কথাবার্তা তালাক নয়।”
(মাজমু‘ ফাতাওয়া, ৩৩/১০৫)

শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেন:

“স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া বৈধ, কিন্তু তালাক পতিত হবে কেবল যদি সে স্পষ্ট ‘তালাক’ শব্দ বলে অথবা তার ইশারা এমন হয় যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।”
(মাজমু‘ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২২/১১১)

২. আপনার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে

  • আপনি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেদিন কিছুই বলেননি। ফলে তখন কোনো তালাক পতিত হয়নি।
  • পরে ঝগড়ার সময় তিনি যে বাক্য বলেছেন— “থাকতে চাই না”, “আলাদা হব”, “ভালো লাগে না”, “চলে যাব”— এগুলো তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়। অধিকার দেওয়ার পরও তিনি সেসব বাক্য বলেছেন মাত্র; কিন্তু তিনি তালাকের নিয়তে বা স্পষ্ট শব্দে তালাক দেননি।
  • আপনি নিজেই বলেছেন যে তিনি পরে আফসোস করেছেন যে “সুযোগ কাজে লাগালাম না”, এবং ভয়ে থেমে গেছেন। এটি প্রমাণ করে যে তাঁর নিয়ত তালাকের ছিল না বরং রাগ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছিল মাত্র।

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন:

“রাগের মাথায় বলা ‘আমি আলাদা হয়ে যাব’ বা ‘আমি থাকতে চাই না’ ইত্যাদি তালাক নয়, যতক্ষণ না তালাকের স্পষ্ট শব্দ বলা হয় বা তালাকের ইচ্ছা স্পষ্ট হয়।”
(আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান, ১০১-১০২)

৩. অধিকার ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে

আপনি যেহেতু তাকে অধিকার দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কাজে লাগাননি, তাই আপনার জন্য তা ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ। অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার পর আর সেই অধিকার কার্যকর থাকে না। শাইখ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন:

“স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় এবং স্ত্রী তা ব্যবহারের আগেই স্বামী তা ফিরিয়ে নেয়, তাহলে স্ত্রীর আর তালাক দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না।”
(আশ-শারহুল মুমতি‘, ১৩/১৬১)

৪. ওয়াসওয়াসা থেকে সাবধানতা

আপনার মনে বারবার প্রশ্ন আসছে যে “হয়তো তালাক হয়ে গেছে”। এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের খেয়াল-খুশি ও ওয়াসওয়াসা মাফ করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত হয় বা কথা বলে ফেলে।”
(বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ না বলা হচ্ছে বা তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ না পাচ্ছে, ততক্ষণ তালাক পতিত হয় না।

৫. আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর

প্রশ্ন ১: স্ত্রী অধিকার পেয়েও কিছু বলেনি, পরে শুধু ‘থাকতে চাই না’ ইত্যাদি বলেছে— তাতে কি তালাক হবে?
উত্তর: না, তালাক হবে না। কারণ তালাকের স্পষ্ট শব্দ বলেনি, এবং তার উদ্দেশ্যও তালাক ছিল না।

প্রশ্ন ২: অধিকার দেওয়ার পর তার রিএকশনে বলা বাক্যগুলো কি তালাক সাব্যস্ত করবে?
উত্তর: না, করবে না। অধিকার দেওয়ার পরও তিনি তালাকের স্পষ্ট শব্দ বলেননি বরং রাগের বাক্য বলেছেন। আর আপনি অধিকার ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাই পরবর্তী সময়ের বাক্যগুলো তো আরো অপ্রাসঙ্গিক।

প্রশ্ন ৩: অধিকার সাময়িক দিয়েছিলেন নাকি সারা জীবনের জন্য— এটা কি সমস্যা সৃষ্টি করবে?
উত্তর: আপনি যদি স্পষ্টভাবে বলেননি যে “সারা জীবনের জন্য”, তাহলে সেটি সাধারণত অস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গণ্য হবে। তবে যেহেতু স্ত্রী কোনো কাজই করেনি, তাই এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে আর কার্যকর নয়।

সারসংক্ষেপ

  • কোনো তালাক পতিত হয়নি।
  • আপনার স্ত্রীর বলা কথাগুলো তালাক নয়।
  • ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে থাকুন এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করুন।
  • যদি এখনো কোনো সংশয় থাকে, তাহলে স্থানীয় বিশ্বস্ত আলেমের সাথে সরাসরি কথা বলুন, তবে নিশ্চিত থাকুন— তালাক হয়নি।

**আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.