স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া (তাফবীজ) এবং তার ‘আলাদা থাকতে চাই’ বললে কি তালাক হয়?

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1635
Questioner: 48 Mohammad Yasir Zafir
Question Asked: 14 Jun 2026, 10:28 PM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 10:31 PM
Views: 54
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার স্ত্রীকে তালাক এর অধিকার দেই তাফবীজ তালাক এর। কিন্তু সে কিছুই বলে না উত্তরে। কিন্তু যেহেতু ঝগড়া চলছিল সে বারবার বলছিল "থাকতে চাই না" আলাদা হব" "আলাদা থাকতে চাই"ভালো লাগে না, চলে যাব হেন তেন। অতঃপর ঝগড়া থেমে যায় সে অধিকার বলে কিছু করে না তাই আমিও ফিরিয়ে নেই অধিকার। কিন্তু পরের দিন সে এমনি বিরক্ত বলছিল কেন যে কালকে সুযোগ টা কাজে লাগলাম না এটা বলে থেমে যায় ভয়ে যদি সমস্যা হয় এই ভেবে।সে তখন এটাও বলেছিল সংসার করতে চায় না আলাদা থাকবে এসব বাক্য এখন কোনে সমস্যা হবে নাতো?

আমার প্রশ্ন টা হচ্ছে তার রিএকশনে এসব বাক্য বলার দ্বারা কি তালাক হবে যেহেতু অধিকার দিয়েছিলাম ওই মুহূর্তে?
আমার যতদূর মনে পড়ে আমি তাকে সাময়িক অধিকার দিয়েছিলাম সারা জীবনের জন্য অধিকার দিয়েছি এমন বলিনি হয়তো ৫০/৫০

Answer

উত্তরের সারসংক্ষেপ

আপনার স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া (তাফবীজ তালাক) সত্ত্বেও সে যেসব কথা বলেছে—যেমন “থাকতে চাই না”, “আলাদা হব”, “আলাদা থাকতে চাই”—এগুলো দ্বারা কোনো তালাক হয়নি। কারণ সে স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি এবং তালাকের শব্দ ব্যবহার করেনি। আপনার দেওয়া অধিকার শুধুমাত্র একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, যা সে কার্যকর করেনি। তাই বিবাহ অটুট আছে। নিচে বিস্তারিত দলিলসহ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।


১. তাফবীজ তালাকের শর্তাবলী

তাফবীজ তালাক (স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া) বৈধ। তবে এর জন্য স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা ও শব্দ ব্যবহার করতে হবে। যেমন: “আমি নিজেকে তালাক দিলাম” বা “আমি তালাক চাই”। কেবল রাগ বা ঝগড়ায় বলা সাধারণ কথাবার্তা তালাক নয়।

  • ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন: “যখন স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয়, তখন স্ত্রী যদি তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে বা তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবেই তালাক生效 হয়। নিছক ‘আলাদা থাকতে চাই’ বা ‘চলে যেতে চাই’ এর মতো কথা তালাক নয়।” (মাজমু‘ ফাতাওয়া, ৩২/৯৪)

  • শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন: “স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া মানে এই নয় যে তার কোনো কথা বা ইঙ্গিতেই তালাক হয়ে যাবে। বরং তাকে স্পষ্টভাবে ‘তালাক’ বলতে হবে বা তালাকের নিয়তে এমন শব্দ বলতে হবে যা কেবল তালাকের জন্যই ব্যবহৃত হয়।” (শরহুল মুমতি‘, ১৩/১২৪)


২. আপনার স্ত্রীর কথাগুলো কেন তালাক নয়?

  • “থাকতে চাই না”, “আলাদা হব”, “আলাদা থাকতে চাই” – এগুলো সাধারণ অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। এতে তালাকের স্পষ্ট শব্দ নেই এবং তালাকের ইচ্ছাও নেই (যেমন সে নিজেই পরে বলেছে “সুযোগ কাজে লাগাইনি”)।
  • তালাকের অধিকার দেওয়ার পরও সে কিছু বলেনি – আপনি যখন অধিকার দিয়েছিলেন, তখন সে চুপ ছিল। পরের দিন শুধু অনুশোচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে সে ওই মুহূর্তে তালাক দিতে চায়নি।
  • “সংসার করতে চায় না” ইত্যাদি কথা – এগুলোও তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয়। কোনো মাযহাবে এসব শব্দকে তালাক গণ্য করা হয় না (হাম্বলী ও শাফেঈ মাযহাব অনুযায়ী শুধু ‘তালাক’ শব্দ বা তার স্পষ্ট প্রতিশব্দই গণ্য হয়)।

সুতরাং, আপনার স্ত্রীর বক্তব্য দ্বারা কোনো তালাক হয়নি।


৩. অধিকার ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে

আপনি যখন অধিকার ফিরিয়ে নেননি, কিন্তু সে তা ব্যবহার করেনি, তখন অধিকার বাতিল হয়ে যায়? না, যদি আপনি সীমিত সময়ের জন্য (যেমন ঝগড়ার সময়) অধিকার দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই সময় শেষে অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। তবে আপনি পরিষ্কারভাবে “আমি অধিকার ফিরিয়ে নিলাম” বললে অধিকার বাতিল হয়। এখানে আপনি ফিরিয়ে নেননি, কিন্তু যেহেতু সে ব্যবহার করেনি তাই কোনো প্রভাব নেই।

  • শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন: “যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয় এবং স্ত্রী তা না ব্যবহার করে, তাহলে বিবাহ পূর্বের মতোই বহাল থাকে। অধিকার ব্যবহার না করলে তা নষ্ট হয়ে যায়, তবে স্বামী চাইলে পরে আবার দিতে পারে।” (আল-মুনতাকা, ৫/২৭১)

৪. আপনার জন্য পরামর্শ

  • ওয়াসওয়াসা থেকে সাবধান: আপনার প্রশ্নের ক্যাটাগরি ‘ওয়াসওয়াসা-ওসিডি’ দেখে বোঝা যায় আপনি শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়েছেন। তালাক একটি গুরুতর বিষয়, এতে সন্দেহ করা ঠিক নয়। যেহেতু কোনো তালাক হয়নি, তাই কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
  • স্ত্রীর সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ুন: ঝগড়ার সময় তালাকের অধিকার দেওয়া একটি খারাপ পদ্ধতি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকুন।
  • যদি স্ত্রী সত্যিই আলাদা থাকতে চায়, তাহলে পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করুন; তালাক দেওয়া জরুরি নয়।

৫. সংক্ষিপ্ত ফাতওয়া

প্রশ্ন: আমি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিয়েছিলাম, কিন্তু সে শুধু “আলাদা থাকতে চাই”, “থাকতে চাই না” ইত্যাদি বলেছে। কি তালাক হয়েছে?

উত্তর: না, কোনো তালাক হয়নি। কারণ তালাকের স্পষ্ট শব্দ বা নিয়ত ছিল না। আপনার বিবাহ অটুট আছে। (শাইখ ইবনে বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দরব, ২১/২৭৮; শাইখ আলবানী, আসলু সিফাতিস সালাত, ৩/৯৬০)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.